ঢাকা, শুক্রবার 6 July 2018, ২২ আষাঢ় ১৪২৫, ২১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় সমিতির ফাঁদে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

খুলনা অফিস: খুলনা মহানগরীর ডাকাবাংলোর মোড়ে ছোট্ট পান-বিড়ির দোকান দিয়ে তিনজনের সংসার চালান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখে দেখেন তিনি। ব্যবসা প্রসার এবং সন্তানের লেখাপড়া নিয়মিত রাখতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা, সন্তান ও প্রজন্ম কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড থেকে গত বছর জানুয়ারিতে ঋণ নেন ১ লাখ টাকা। ৬ মাসের মধ্যে যথানিয়মে সুদে আসলে পরিশোধ করেন প্রায় দেড় লাখ টাকা। কিন্তু জামানত স্বরূপ তার রাখা ব্লাংক চেক’র অপব্যবহার করে তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে ৩ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য। 

টাকা পরিশোধের জন্য দেয়া হচ্ছে হুমকি ধামকি, দেখানো হচ্ছে মামলা দায়েরের ভয়-ভীতি। এতে তার দোকানটি বন্ধের উপক্রম। বন্ধ হতে চলেছে তার সন্তানের পড়ালেখাও। দুশ্চিন্তায় খাওয়া ঘুম হারাম হয়ে গেছে শহিদুলের।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, তিনি উল্লিখিত সমিতি থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সুদে আসলে প্রায় দেড় লাখ টাকা পরিশোধও করেছেন। কিন্তু সমিতিতে জামানত স্বরূপ রাখা তার ব্লাংক চেক’র অপব্যবহার করে তাকে ৩ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যে টাকা তিনি কখনই নেননি। এভাবে তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্বল্প ঋণের বিনিময়ে ব্লাংক চেক রেখে তার অপব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। সমিতির আড়ালে এ ধরনের অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

খুলনা জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফারহানা আফরোজ বলেন, সমবায়ের নিবন্ধনভুক্ত কোনো সমিতি সদস্যদের নিকট থেকে ব্লাংক চেক নিতে পারবে না। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

এদিকে, ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধের পরও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আফগান হোসেনকে ১৫ লাখ টাকার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ৫০ হাজার টাকার ঋণে ১০ লাখ টাকার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে হাবিবুর রহমান মৃধাকে। 

৪০ হাজার টাকার ঋণে ৬ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য লিগ্যাল নোটিশ করা হয়েছে মো. সালাউদ্দিনকে। ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৫ লাখ টাকার লিগ্যাল নোটিশ পেয়েছেন পারভেজ আলম (ভোলা)। ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধের পরও ২ লাখ টাকার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে মো. জাহাঙ্গীরকে।

একই অভিযোগ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আফগান হোসেন, হাবিবুর রহমান মৃধা, মো. সালাউদ্দিন, পারভেজ আলম (ভোলা), মো. জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেকের। নিয়ম মাফিক সুদসমেত ঋণ পরিশোধের পরও লাখ লাখ টাকা দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ ও হুমকি ধামকিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ডাকবাংলো মোড়ে সৎ এবং সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত শহিদুল ইসলাম ওরফে ভা-ারি। উল্লিখিত সমিতির শীর্ষ কর্মকর্তার এমন প্রতারণায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে নগরীতে ক্রেডিট প্রোগ্রামে নামেন হোসাইন মো. ইউছা ওয়ায়েজ আররাফী নাজু নামক এক ব্যক্তি। নাজু তার প্রতিষ্ঠানের নাম দেন মুক্তিযোদ্ধা, সন্তান ও প্রজন্ম কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যানারেই নানা রকম সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। ঋণের শর্ত হিসেবে প্রত্যেকের নিকট হতে দুটি করে ব্লাংক চেক রাখা হচ্ছে। ঋণ পরিশোধের শেষ পর্যায়ে এলেই ওই চেকে বড় অংকের টাকা বসিয়ে ডিজঅনার করা হচ্ছে। এরপরই লিগ্যাল নোটিশ-ভয়ভীতি আর হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ