ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সেমিফাইনালে ওঠার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আজ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি সুইডেন

ইংল্যান্ড সুইডেন

স্পোর্টস রিপোর্টার : রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড বনাম সুইডেন। ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর সুইডেন ১৯৫৮ সালের রানার্স আপ। আজ কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ দিনের ম্যাচে একে অপরকে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠার টার্গেট করেই মাঠে নামছে দল দুটি। শক্তি আর পরিসংখানে দল দুটির অবস্থান প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে আশাবদী দু-দলই। তবে বাঁচা-মরার এই ম্যাচে নিজেদের সেটা দিতে পারলেই কেবল টিকে থাকবে সেরা দলটি। অবশ্য গ্রুপ পর্ব থেকেই দল দুটি নিজেদের সেরা প্রমাণ করেই কোয়ার্টার প্রর্যন্ত টিকে আছে। তবে আজ একটি দলকে তো বিদায় নিতেই হবে। আর একটি দল টিকে থাকবে শেষ চারের প্রতিযোগিতায়। রাশিয়া বিশ্বকাপে সুইডেন এফ গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর ইংল্যান্ড জি গ্রুপ থেকে গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে। দ্বিতীয় রাউন্ডে সুইডেন শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডকে আর ইংল্যান্ড কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে। আজ সেমিফাইনালে উঠার ম্যাচে মুখোমুখি দল দুটি। এই নিয়ে ২৫বারের মত এই দুই দেশ একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড আটটিতে ও সুইডেন সাতটিতে জয়লাভ করেছে, বাকি ৯টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এর আগে বিশ^কাপের দুটি ম্যাচই ড্র হয়েছে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ দু’টিতে ২০০২ সালে ১-১ ও ২০০৬ সালে ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল। এর আগে বিশ^কাপের আটটি কোয়ার্টার ফাইনালের মাত্র দু’টিতে ইংল্যান্ড জয়ী হয়েছে। ১৯৯৬ ও ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ড শেষ আট নিশ্চিত করেছিল। আজ সুইডেনকে হারিয়ে ২৮ বছর পরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন বিভোর এখন পুরো ইংল্যান্ড। কিন্তু স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কোন দলের দলের বিপক্ষে ইংলিশদের রেকর্ড মোটেই সুখকর নয়, যদিও গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে তরুণ ইংলিশ দলটি অতীত নিয়ে মোটেই চিন্তিত নয়। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের পরে এই প্রথম সেমিফাইনালে ওঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ইংল্যান্ড। কাগজে কলমে অন্তত কালকের ম্যাচটিতে ইংল্যান্ডকে ফেবারিট হিসেবে মানা হলেও নরডিক কোন দেশের বিপক্ষে ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে থ্রি লায়ন্সরা মাত্র তিনটিতে জয়ী হয়েছে। যে কারনে সাউথগেট বেশ সতর্কতার সাথে ম্যাচটিকে বিবেচনা করার আহবান জানিয়েছেন। 

 কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ১৬’র লড়াইয়ে একটি বাঁধা অন্তত পার করেছে ইংল্যান্ড। পেনাল্টি শ্যুট আউটে জয়ী হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মত টাইব্রেকারে জয়ের রেকর্ডও গড়েছে। কিন্তু আজ সামারাতে তাদেন সামনে আরেক বাঁধার নাম এখন সুইডেন। সুইজারল্যান্ডকে ১-০ গোলে পরাজিত করে শেষ আট নিশ্চিত করেছে সুইডিশরা। 

কলম্বিয়ার বিপক্ষে শারীরিক ও একইসাথে মানসিক লড়াইয়ের পরে সাউথগেট বলেছিলেন, ‘সুইডেন এমন একটি দল যাদের আমি বেশ শ্রদ্ধা করি। তাদের বিপক্ষে আমাদের রেকর্ডটাও সুখকর নয়। আমি মনে করি সবসময়ই আমরা তাদের খাটো করে দেখেছি। দারুণ পরিকল্পনা নিয়ে তার খেলতে নামে। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে খেলাটা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কোন কোন জায়গায় তারা এতটাই দুরন্ত যে ম্যাচটিতে আমাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।’ ইংলিশ ডিফেন্ডার জন স্টোনসও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার অপেক্ষায় মুখিয়ে আছেন। কিন্তু একইসাথে ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পারছেন এজন্য তাদেরকে সুইডেনের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে আগের দুই বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরমেন্সে পরে ইংল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো ফুটবল পাগল জাতিটিকে আরো বেশি আশাবাদী করে তুলেছে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের প্রাণ স্টোনস ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমি শুরু থেকেই বলেছি বিশ্বকাপ জয় আমাদের স্বপ্ন। আমরা সবাই এজন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। এখানে আমরা এসেছি এই লক্ষ্য নিয়ে এবং এজন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বকাপ জয় করতে পারলে সবাই সাফল্য পাবে। দীর্ঘদিন আমরা বিশ্বকাপে কোন সাফল্য পাইনি। দেশের সকল মানুষের জন্য আমরা এই বিশ্বকাপ উপহার দিতে চাই। পুরো ইংল্যান্ড দলকে গর্বিত করতে চাই। অনেকটাই কাছাকাছি আমরা চলে এসেছি। কিন্তু এখনো জানি অনেক কঠিন পথ আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে। এখন আমাদের শুধুমাত্র সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটিতে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্বকাপে কোন ম্যাচই সহজ নয়। কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটিকে কেউ যদি সহজ বলে তবে সে বোকা। সুইডেন দলটি বেশ সংঘবদ্ধ। প্রতিটি দলের জন্য আমরা যা করেছি তাদের প্রতিও আমাদের সমান শ্রদ্ধাবোধ আছে। কিন্তু আমরা তাদের ম্যাচগুলো পর্যালোচনা করেছি।’ সুইডিশ অধিনায়ক আন্দ্রেস গ্রানকিভিস্ট বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডের রেকর্ড সম্পর্কে আমিও শুনেছি। তারা আমাদের পরাজিত করতে পারে এই কথাও অনেকবার আমাকে শুনতে হয়েছে। ইংল্যান্ডের সেই আত্মবিশ^াস থাকতে পারে। কিন্তু আমরাও যোগ্যতা দেখিয়েই এ পর্যন্ত এসেছি। কালকের ম্যাচেই সবকিছুর প্রমাণ হবে। আমরা জানি সুইডেন সাধারণত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভাল খেলে। তাদের বিপক্ষে আমাদের অতীত রেকর্ড ভাল। সে কারনেই কোন কিছুই আমার কাছে কোন অর্থবহন করে না। বহিষ্কারাদেশের কারণে রাইট-ব্যাক মিকায়েল লাস্টিগকে সাথে পাচ্ছে না ডিফেন্ডার গ্রানকিভিস্ট। অন্যদিকে কুঁচকির ইনজুরির কারণে ফরোয়ার্ড জেমি ভার্দির খেলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে ইংল্যান্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ