ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে আজ মাঠে নামবে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক : সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে আজ মাঠে নামবে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের নিচের সারির দল রাশিয়া ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপের চমক সৃষ্টিকারি দল ক্রোয়েশিয়া। গত বছর কনফেডারেশন্স কাপের ব্যর্থতার পরে রাশিয়া জাতীয় দলের মান নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা হয়। ইউরো ২০১৬ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে কোনো জয় না পাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ শুরু করে রাশিয়া। সৌদি আরবের বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে সাত ম্যাচ জয়বিহীন ছিল রাশিয়া। কিন্তু একের পর এক অঘটনের জন্ম দিয়েই রাশিয়া এখন বিশ্বকাপের শেষ আটে। এ সাফল্যোর পিছনে রয়েছেন দলের হেড কোচ স্তানিসলাভ চেরচেসভ, মিডফিল্ডার আলেক্সান্দার গোলোভিন, আরটেম ডিজুবা ও দুর্দান্ত পারফর্ম করা গোলরক্ষক ইগর আকিনফিভ। পুরো দল এখন স্বাগতিক হিসেবে রাশিয়াকে আরো বড় কিছু উপহার দেবার জন্য মুখিয়ে আছে।

এদিকে শেষ আটে রাশিয়ার প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়াও ১৯৯৮ সালের পরে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় সাফল্যের অপেক্ষায়। মিডফিল্ডার ইভান পেরিসিচ বিশ্বাস করেন সেই ক্ষমতা ক্রোয়েশিয়ার আছে। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মত অংশ নিয়েই তৃতীয় স্থান লাভ করে চমক সৃষ্টি করে ক্রোয়েটরা। ২০ বছর পরে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাবার হাতছানি এখন মানজুকিচ, রাকিটিচ, মড্রিচদের সামনে। ফ্রান্স বিশ্বকাপ ডাভোর সাকার, জোভিনিমির বোবান, রবার্ট প্রোসিনিস্কিদের নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া জার্মানদের পরাজিত করে অঘটনের জন্ম দেয়। শেষ চারে ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়ে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেদারল্যান্ডকে ধরাশায়ী করে। এখন লুকা মোদ্রিচ, ইভান রাকিটিচদের নিয়ে গড়া নতুন প্রজন্ম ক্রোয়েশিয়াকে আবারো নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে আজ সোচিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগে পুরো ক্রোয়েশিয়া প্রস্তুত। পেরিসিচ বলেন, ‘আমরা সাফল্যের খুব কাছাকাছি। আশা করছি শেষটাও ভাল হবে। আমাদের নিজেদের ওপর আস্থা আছে। আমরা আমাদের ক্ষমতা সম্পর্কে জানি।’

জার্মানীকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ১৯৯৮ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল উঠে ক্রোয়েশিয়া। প্রায় ২০ বছর আগের ম্যাচ সম্পর্কে ফরোয়ার্ড আন্টে রেবিচ বলেন, ‘ফ্রান্স বিশ্বকাপের ঐ ম্যাচটি দেখার সময় আমার বয়স মাত্র চার বছর ছিল। জার্মানদের বিপক্ষে স্মরণীয় ঐ জয়ে স্মৃতি এখনো আমার মনে আছে। সেই সাফল্য পেতে হলে ক্রোয়েশিয়াকে স্বাগতিক রাশিয়র কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে। শেষ ১৬’তে ২০১০ চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে পরাজিত করে রাশিয়া দারুণ উজ্জীবিত। রাশিয়া অবশ্য ইউনি জিরকল ও এ্যালান জাগোয়েভের ফিটনেস নিয়ে সমস্যায় আছে। গোলরক্ষক আকিনফিভের দক্ষতায় স্পেনকে পেনাল্টি শ্যুট আউটে পরাজিত করে রাশিয়া শেষ আট নিশ্চিত করে।

রাশিয়ার ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার আলেস্কান্দার গোলোভিন বলেন, ‘বিশে^র যেকোন দলের বিপক্ষে স্পেন বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে সমাধান খুঁজে পেয়েছি। আশা করছি ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আমরা আমাদের শক্তিশালী কৌশল কাজে লাগাতে পারবো। ক্রোয়েশিয়ার খেলার স্টাইলটা ভিন্ন। সুযোগ সৃষ্টির জন্য তাদের সবসময় বলের প্রয়োজন হয় না।’

চলতি বিশ্বকাপে আরটেম ডিজুবা রাশিয়া সাতটি গোলের মধ্যে নিজে করেছেন তিনটি, এসিস্ট করেছেন চারটিতে। ক্রোয়েশিয়ার সকল দৃষ্টি মদ্রিচ ও রাকিটিচের ওপর থাকবে। ইউরোপীয়ান কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া আগের সাতটি বিশ্বকাপের ম্যাচে মাত্র একটিতে পরাজিত হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া কখনই বিশ্বকাপে কোনো ইউরোপীয়ান দলকে পরাজিত করতে পারেনি। এর আগে ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপে দুইবার স্বাগতিক দেশের সাথে মোকাবিলায় দুইবারই পরাজিত হয়েছে (১৯৯৮ সালে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-১ ও ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের কাছে ৩-১ গোলে)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ