ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিবে না বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না বলে আবারো জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিদের বলেছেন, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে এটি ধরে নিয়েই সবাইকে এখন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। রিজভী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে পরিষ্কার বলে দিতে চাই, আপনি কোন আধ্যাত্মিক ক্ষমতার জোরে জানতে পারলেন আপনার অধীনেই বিএনপি নির্বাচনে আসবে? আপনি তো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে লোহার সিন্দুকে আটকে রেখেছেন। বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না।
 কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, সন্ত্রাস ও প্রতারণার পথ ছেড়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে এই সমস্যার সমাধান করুন। একইসঙ্গে এ আন্দোলনের যুক্ত যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দিন। হামলাকারীদের গ্রেফতার করুন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে দিন।
বর্তমানে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনও পরিবেশ নেই দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বেগম জিয়াকে ছাড়া বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে না। প্রধানমন্ত্রী মনে হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে খুলনা-গাজীপুর মার্কা নির্বাচনকে বুঝিয়েছেন। শেখ হাসিনার অধীনে কোনও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি বা হবেও না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়াকে কীভাবে বন্দী রেখে আরেকটি জালভোটের নির্বাচন করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও সেরকম ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। কিন্তু পাতানো নির্বাচনের ষড়যন্ত্র কোনও কাজে আসবে না।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি দৈনিকে ‘তারেকের টেবিলে বিএনপির ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রতিবেদনটি শুধু হাস্যকরই নয়, এটি সরকারের মিথ্যা প্রপাগান্ডার এক উদ্বেগজনক সংযোজন।
বিএনপির এ নেতা বলেন, কয়েক বছর আগে বিএনপির মৃত কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যের নামও আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন সদ্য মরহুম হয়ে যাওয়া জয়পুরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোজাহার আলী প্রধান, কুমিল্লা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মরহুম খোরশেদ আলম, চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর হায়দার খান, রাজশাহী-৬ আসনের মরহুম আজিজুর রহমান প্রমুখ।
তিনি বলেন, তারেকের টেবিলে ৩০০ প্রার্থীর নামের তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম এলো কিভাবে? সুতরাং প্রতিবেদনটি আগাগোড়াই মনগড়া ও কাল্পনিক এবং বিএনপির বিরুদ্ধে সরকার ও তাদের এজেন্সিগুলোর ধারাবাহিক চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের নীলনকশায় আরেকটি সংযোজন।
তারেক রহমান প্রতিনিয়তই দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর রাখছেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আমরা নিশ্চিত যে, সারাদেশের মানুষ যখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সোচ্চার, তখন জনদৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে সরানোর জন্য আওয়ামী সরকারের নির্দেশে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, সদ্য শেষ হওয়া খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে নির্লজ্জ ভোট কারচুপি ও ভোট সন্ত্রাসের চিত্র নিয়ে যখন দেশ-বিদেশ থেকে নিন্দা জানানো হচ্ছে, তখন একটি সরকার-ঘনিষ্ঠ পত্রিকার মাধ্যমে নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ ও মনোনীত প্রার্থীদের একটি মিথ্যা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কারাবন্দী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইস্পাতকঠিন ঐক্য বিভ্রান্ত করা এবং নেতাকর্মীদের মনকে নড়বড়ে করার জন্যই সরকার-সমর্থিত ওই পত্রিকার দ্বারা হাস্যকর ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদটি পরিবেশন করিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, এ ছাড়া এমন সংবাদ পরিবেশন করিয়ে দেশবাসী ও বিদেশীদের দেখানো হচ্ছে যে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
পত্রিকাটি কোন টেলিস্কোপের মাধ্যমে তারেকের টেবিলে ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকার সন্ধান পেয়েছে? নতুন আবিষ্কৃত দূরবীক্ষণ যন্ত্রটির নাম জনসমক্ষে জানালে প্রখ্যাত জ্যেতির্বিজ্ঞানী হাভেলের নামের সঙ্গে পত্রিকাটির প্রতিবেদকদের নাম ও মহাবিজ্ঞানী হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা বলেন, সরকার সব দিক থেকে যে মুহূর্তে ব্যর্থতার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই বানোয়াট সংবাদটি প্রচার করা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দেশের অর্থনীতি বিশেষভাবে ব্যাংকিং সেক্টরে অভাবনীয় লুটপাট ও বিদেশী ব্যাংকে ক্ষমতাসীনদের বিপুল পরিমাণ গচ্ছিত অর্থের খবর জাতির সামনে উন্মোচিত হওয়া, কোটাবিরোধী দেশের অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণের গণতান্ত্রিক দাবির আন্দোলনে ছাত্রলীগের বর্বরোচিত গুন্ডামি হিটলারের গেষ্টাপো বাহিনীকেও লজ্জায় ফেলত।
এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, সিলেট নগরীর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা ৯ তারিখের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, প্রকাশনার বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ