ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাড়ছে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ

স্টাফ রিপোর্টার: চালের বাজারে গত সপ্তাহে সৃষ্টি হওয়া অস্থিরতা এখনো চলছে। বিশেষ করে মোটা চালের দাম বেড়েছে বেশি। বাজারে ৪০ টাকার কমে কোন চাল নেই। ৪৮ টাকাও বিক্রি হচ্ছে মোটা চাল। বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহে বৃদ্ধি পাওয়া চালের দাম এখনো কমেনি। তবে শিগগিরই চালের দাম কমবে না বলে মনে করছে ব্যবসায়ীরা। আমদানি করা চালের উপর শুল্ক আরোপ করায় দেশীয় চালের দামও একটু বেশিই থাকবে বলে মনে করছে ব্যবসায়ীরা। এদিকে কাঁচা বাজারে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ অস্বাভাবিক হারে বেড়েই চলছে। গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচের দাম এক দফা বেড়েছিল। এ সপ্তাহে কাচা মরিচের দাম আরো এক দফা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। অপরদিকে পেঁয়াজের দামও কিছুটা বেড়েছে। সেইসাথে বেশকিছু সবজির দামও বেড়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার থেকে জানা গেছে, বৃদ্ধি পাওয়া চালের দাম এখনো কমেনি। অল্প আয়ের মানুষের ভাতের মোটা চাল মান ভেদে ৪০ থেকে ৪৮ টাকা ও চিকন চাল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। চাল বিক্রেতারা বলছেন, সহসাই চালের দাম কমছে না। চাতাল মালিকরা যতক্ষণ চালের দাম না কমাবে ততক্ষণ খুচরা পর্যায়ে চালের দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই বলে তারা জানান।
বাজারে মোটা স্বর্ণা চালের দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৮ টাকা। পাইজাম ৫০ থেকে ৫২ টাকা, নাজিরশাইল ৬০ থেকে ৬২ টাকা এবং মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৬ টাকা দরে।
এদিকে রাজধানীর কাঁচা বাজারে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে কাঁচা মরিচের দাম । ৫০-৬০ টাকা দরের কাঁচা মরিচ গত সপ্তাহে বেড়ে বিক্রি হয়েছিল ১০০-১২০ টাকা কেজি। এ সপ্তাহে আরো এক দফা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকা কেজি।
কাঁচা মরিচের দাম বাড়ার বিষয়ে খুচরা ব্যবসায়ী মো. কামাল বলেন, কাঁচা মরিচের দাম সহসা কমার সম্ভাবনা কম। কারণ বৃষ্টিতে অনেকের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। যার প্রভাবে বাজারে সরবরাহ কমেছে। সামনে বৃষ্টি কমলেও কাঁচা মরিচের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম বলে তিনি জানান।
এদিকে পেয়াঁজের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশীয় পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা কেজি আর আমদানি করা পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা।
সবজির মধ্যে টমেটোর দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি। এ ছাড়াও আরো বেশকয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০-৬০ টাকা, করলা ৪৫-৫০ টাকা, কাকরোল ৬০-৬৫ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৫৫ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, বরবটি ৫০-৫৫ টাকা। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে সবজির মৌসুম না হওয়ায় আমদানি কম। এতে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। এজন্য সবজির দাম বেশি বলে জানিয়েছে বিক্রেতারা।
রাজধানীতে মাছের বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চিংড়ি হরিণা ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা, গলদা চিংড়ি এক হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকা, ইলিশ ৮০০-১৬০০ টাকা, রুই বিভিন্ন (ছোট-বড়) সাইজের প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা, দেশি মাগুর প্রতি কেজি এক হাজার টাকা, টেংরা প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, পাবদা ৭০০-৯০০ টাকা, কৈ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কৈ প্রতি কেজি এক হাজার টাকা, পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায়, দেশি মুরগির ডিম ডজন ১৪০-১৪৫ টাকা, হাঁসের ডিম প্রতি ডজন ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি (ব্রয়লার) প্রতি কেজি ১৭০ টাকা লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৫২০ টাকায়। তবে মুদি পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ