ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এডিবির ৮০০ কোটি টাকা ছাড়

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্ব ব্যাংকের পর এবার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ ছাড় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রথম কিস্তিতে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুদান হিসাবে ৮০০ কোটি টাকা (২০ কোটি ডলার) দিতে সম্মত হয়েছে এডিবির বোর্ড সভা। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলে এডিবি বাকি ১০ কোটি ডলার অনুদানের অর্থ ছাড় দেবে।
গতকাল শুক্রবার এডিবির বাংলাদেশ অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ অর্থ রোহিঙ্গাদের মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য সেবায় ব্যয় করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য পানি সরবরাহ, শৌচাগার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি, বিদ্যুৎ এবং সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় চার লাখ মানুষ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছে। আর গত বছর অগাস্টে রাখাইনে সেনাবাহিনীর নতুন দমন-পীড়ন শুরু হলে গত দশ মাসে এসেছে আরও সাত লাখ বেশি রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের ৩২টি ক্যাম্পে থাকা এই রোহিঙ্গাদের জন্য খাবার, আশ্রয়, খাবার পানি, স্বাস্থ্য সেবা, পয়ঃনিষ্কাশন এবং অন্যান্য জরুরি সেবার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে গিয়ে প্রতিদিন বিপুল চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এই চ্যালেঞ্জে সাড়া দেওয়া না হলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটবে বলে এডিবির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এডিবি প্রেসিডেন্ট তাকিহিতো নাকাও বলেন, এই সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা দিতে আমরা বিশ্ব ব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। ইতিমধ্যে বিশ্ব ব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থা এ মানবিক সংকট বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। আদর্শের জায়গা থেকে এডিবির প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের অনুদান দেয়া হচ্ছে। এতে করে খাদ্য সংকট, রোগ এবং অন্যান্য ঝুঁকি কমবে।
গত মে মাসে এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার অনুরোধ পাওয়ার পর ১৬০০ কোটি টাকা (২০ কোটি ডলার) দেয়ার এই উদ্যোগ নেয় এডিবি। এর প্রথম কিস্তির ১০ কোটি ডলার দিয়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবাসন নির্মাণ করা হবে, যেখানে পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। সেই সঙ্গে ক্যাম্পে সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যাতে খাদ্য সরবরাহ, মজুদ, হাসপাতাল ও স্কুলে যাওয়া-আসার পথ সহজ হয়। এছাড়া ওই অর্থে মোবাইল ওয়াটার ক্যারিয়ার কেনা, গণস্নানাগার নির্মাণ, পানি সরবরাহের পাইপ লাইন স্থাপন ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে; নির্মাণ করা হবে দুটি ছোট পানি শোধনাগার।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, প্রকল্পের প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১২ কোটি ডলার, সময় লাগবে আড়াই বছর। প্রথম কিস্তিতে যে ১০ কোটি ডলার এডিবি দিচ্ছে, তার যোগান দেওয়া হবে তাদের এশীয় উন্নয়ন তহবিল থেকে। আর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে ২ কোটি ডলার।
প্রথম পর্যায়ের কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে দ্বিতীয় কিস্তির ১০ কোটি ডলার ছাড়ের সময় ঠিক হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।
সৌরভিত্তিক সেচ প্রকল্পে সাড়ে ৪ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি:
এদিকে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সাড়ে ৪ কোটি (৪৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন) ডলারের সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সৌরশক্তির সাহায্যে গ্রামাঞ্চলের সেচকৃষি প্রকল্প জোরদার করার জন্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দক্ষতার উন্নয়নের জন্য এডিবির নেয়া একটি প্রকল্প থেকে ঋণ হিসেবে ২ কোটি ডলার এবং বাকি আড়াই কোটি ডলার অনুদান হিসেবে দেয়া হবে বলে গত বৃহস্পতিবার এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। অনুদান প্রকল্পে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প থেকে ২২ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার এবং তিন মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে ক্লিন এনার্জি ফান্ড থেকে।
এ ব্যাপারে এডিবির জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এইমিং হো বলেন, বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চেলের ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য উচ্চ মূল্যে ডিজেল খরচ খুবই ব্যয়বহুল। তাই যেসব অঞ্চলে গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছেনি, সেখানে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেচ প্রকল্প চালু করা ডিজেলভিত্তিক সেচ প্রকল্পের ভালো একটা বিকল্প হতে পারে।
বাংলাদেশে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৪ দশমিক ৫৮ ভাগ ব্যয় হয় সেচ প্রকল্পে। বৈদ্যুতিক পাম্পের অধীনে থাকা কৃষকদেরকে অব্যাহতভাবে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ফলে তারা বাধ্য হয়ে কেবল মাত্র রাতে সেচ চালের পথ বেছে নেন, কারণ রাতে জাতীয়ভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার কমে আসে। আর যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ নেই তাদের জন্য ব্যয়বহুল ডিজেল ইঞ্জিনের সেচ ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না।
বাংলাদেশের অন্তত ১১ মিলিয়ন কৃষক এখনও ডিজেল ইঞ্জিনের সেচের ওপর নির্ভরশীল বলে জানায় এডিবি। এর ফলে খরচ হয় প্রতিবছর এক মিলিয়ন টন ডিজেল।
সৌর বিদ্যুতের জন্য নতুন এই অর্থায়ন কমপক্ষে দুই হাজার সোলার পাম্প (সোলার ফটোভোল্টিক পাম্প) স্থাপনে সাহায্য করবে। এসব সোলার প্যানেল থেকে অন্তত ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে এডিবির ধারণা। প্রকল্পের অধীনে সৌর বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহারে গ্রাহক সচেতনতার জন্য একটি প্রচারাভিযানও চালানো হবে।
ডিজেল ইঞ্জিন থেকে সোলার প্লান্টে স্থানান্তর হলে ১৭ হাজার দুইশ টন কার্বোন ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করবে বলে আভাস দিচ্ছেন সংস্থাটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ