ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কার্যকর ॥ প্রতিশোধের হুমকি

৬ জুলাই, ব্লমবার্গ, বিবিসি : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩৪ বিলিয়ন ডলারের চীনা আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করে  বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধে সবচেয়ে বড় গোলাটা ছুঁড়লেন। চীন এর প্রতিশোধ নেবে বলেছে।

ওয়াশিংটনে গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে (চীনের সময় ঠিক দুপুর ১২টার পর) চীনা পণ্যে শুল্ক চালু হয়। এর আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও ১৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যে শুল্ক বসতে পারে। তিনি আভাস দেন, এর পরিমাণ শেষ পর্যন্ত ৫৫০ বিলয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। সংখ্যাটি ২০১৭ সালে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা মোট পণ্যের চেয়ে বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কর্মকর্তারা চীনা আমদানির ওপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আদায় শুরু করবেন। এসব পণ্যের মধ্যে থাকবে চাষাবাদের লাঙল থেকে সেমিকন্ডাক্টর ও বিমানের যন্ত্রাংশ।

চীনা কর্মকর্তারা এর আগে বলেছিলেন, তারা সয়াবিন থেকে পোর্কÑবিভিন্ন ধরনের আমেরিকান পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়াবেন। এমনটি ঘটলে ট্রাম্প বাণিজ্যে বাধা আরও উঁচু করতে পারেন। 

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধান ভঙ্গ করেছে। অর্থনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য যুদ্ধ উসকে দিয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ ধরনের শুল্ক অতিপরিচিত বাণিজ্য উৎপীড়ন। এটি  বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলা ও মূল্য শৃঙ্খলাকে হুমকি দেয়।  বৈশ্বিক অর্থনীতি চাঙা হওয়া ব্যাহত করে। বৈশ্বিক বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আরও অনেক নিরীহ বহুজাতিক কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তার ক্ষতিসাধন করবে।’ 

চীন ঠিক কীভাবে প্রতিশোধ নেবে, বিবৃতিতে তা উল্লেখ করা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় উচ্চ শুল্ক ধার্যের পণ্যতালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বড় দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যকার এ বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্বের স্টক মার্কেটগুলোকে অস্থিরতায় ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গত ২২ মার্চ ৫০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের আমদানিকৃত চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপের জন্য একটি আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ, চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মেধাসম্পদ চুরি ও স্থানান্তর করছে। জবাবে এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ১২৮টি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করে চীন। এর আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর উপক্রম হয়। গত মে মাসে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার পর সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ১৫ জুন ৫০০০ কোটি মূল্যের চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তার ঘোষণা অনুযায়ী, বার্ষিক ৩৪০০ কোটি ডলার বাণিজ্য হয় এমন ৮০০ পণ্যের ওপর ৬ জুলাই থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। আর বাকি ১৬০০ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক কবে থেকে কার্যকর হবে সে ব্যাপারে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জবাবে একই মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় চীন।

ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম দফায় শুক্রবার থেকে তিন হাজার চারশ’ কোটি ডলার মূল্যের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। এখন থেকে বিমানের টায়ার ও বাণিজ্যিক ডিশওয়াশারসহ বিভিন্ন রকমের চীনা পণ্য আমদানিতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের শুল্ক গুনতে হবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাকি ১৬০০ কোটি ডলার মূল্যের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ নিয়ে আলোচনা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ