ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুরে নতুন করে তিস্তার পানি বেড়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে গতকাল শুক্রবার পানি বেড়ে বিপদ সীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত  হয়েছে।
পানির তীব্র স্রোত এবং ঢলের তোড়ে  ক্রমান্বয়ে পানি বাড়ার কারণে গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী, বাগডোহরা, মীনা বাজার, কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনার চর, মটুকপুর, চিলাখাল, লহ্মীটারী ইউনিয়নের চর শংকরদহ, জয়রাম ওঝা, চর ইচলী, গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক, রমাকান্ত, মর্ণেয়া ইউনিয়নের ছোট রুপাই, রামদেব, কামদেব, আলমবিদিতর ইউনিয়নের হাজীপাড়া, ব্যাংকপাড়া এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর ফলে মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে। শ্রমজীবী মানুষ বাড়ির বাইরে বের হতে না পারায় মানুষজন অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। তারা তাকিয়ে আছেন সরকারি সাহায্যের দিকে। এছাড়া নদী ভাঙ্গনের কারণে নতুন করে প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়ি সরিয়ে রাস্তায় নিয়ে এসেছে বন্যাকবলিত মানুষ। নদীর তীরবর্তী পানিবন্দী মানুষ আতঙ্কে দিন-রাত কাটাচ্ছে। এদিকে শংকরদহের আশ্রয়ণ প্রকল্পের চারপাশে পানি উঠায়  সেখানে বসবাস করা মানুষজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নদীর পানি আরও বাড়লে প্রকল্প এলাকায় পানি ঢুকে যাবে বলে এলাকাবাসী জানান । এছাড়া তিস্তা নদীর পানির প্রবল স্রোাতে রংপুর থেকে মহিপুর হয়ে লালমনিরহাট যাওয়ায় সড়কের উপর ৪৮ মিটার দর্ঘি ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভাঙ্গতে শুরু করেছে। এলাকাবাসী সড়ক টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গতকাল শুক্রবার দুপুরে নদী ভাঙ্গন ও পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শন করেছেন গঙ্গাচড়ার সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি নৌকাযোগে কোলকোন্দ, লহ্মীটারী ইউনিয়নের দুর্গম চরসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বন্যাকবলিত মানুষের খোঁজ-খবর নেন। শংকরদহ চরের সংযোগ সড়কে জোড়া ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করে সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্রিজ ও সড়ক রক্ষার কাজ দেখেন। পুরাতন শংকদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, বন্যার কথা শুনে আমরা বেশ কয়েকটি জায়গায় গিয়েছি। ডালিয়া থেকে আমরা জানতে পেরেছি পানি বিপদ সীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এটি ভারতের গজল ডোবা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ার কারণে এখানে পানি বেড়ে গেছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কিছু মানুষ ভাঙ্গনের কারণে বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিয়েছে। পানি যদি এভাবে বাড়তে থাকে তবে আমরা শুকনা খাবার সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিয়েছি। বিশেষ বরাদ্দ রেডি আছে, ঢাকায় বললে বিশেষ বরাদ্দ চলে আসবে। বন্যা মোকাবেলায় আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা জিও ব্যাগ, পাইলিং করে নদীর পানির প্রবাহ সোজা করে দেয়ার চেষ্টা করছি। এতে করে ভাঙ্গন কিছুটা রোধ হবে। প্রতিমন্ত্রীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এনামুল কবির, সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ