ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে মাদকের আখড়া বরিশাল কলোনি দুষ্কর্মকারীরা আবার সক্রীয়

নুরুল আমিন মিন্টু,চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বড় মাদকের আখড়া বরিশাল কলোনিতে র‌্যাবের সঙ্গে সম্প্রতি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুজন নিহতের পর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের আরেকটি সিন্ডিকেট। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযান হলেই নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হয় বন্দর নগরীর মাদক আখড়া হিসেবে পরিচিত বরিশাল কলোনির। তবে তা ঘুরে-ফিরে থাকে দুই পক্ষের হাতে। এই আখড়া  থেকে দিনে এক লাখেরও বেশি ইয়াবা বিক্রি হয় বলে তথ্য আছে পুলিশের কাছে।
চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের পাশে সদরঘাট থানার আইস ফ্যাক্টরি রোডে বরিশাল কলোনি মাদক সেবী ও বিক্রেতাদের আখড়া হিসেবে নগরবাসীর কাছে পরিচিত। সম্প্রতি র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হাবিবুর রহমান ও মো. মোশারফ ওরপে মুসা নিয়ন্ত্রণে ছিল মাদক ব্যবসা। তারা দুইজন গত বছরের ২০ অক্টোবর র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধে নিহত তালিকাভুক্ত মাদক বিক্রেতা মো. ফারুকের অনুসারী। অভিযানের পর দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষ কোণঠাসা হয়ে পড়লে সেই সুযোগে অন্য পক্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই পক্ষে ফারুকের দুই সহোদর শুক্কুর ও সেকান্দর বরিশাল কলোনির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
অনুসন্ধানে জানাযায়, ফারুক নিহত হওয়ার পর তার দুই সহোদর সেকান্দর ও শুক্কুরের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সিন্ডিকেট নতুন করে শুরু করেছে মাদকের কারবার। পুলিশের কিছু অসাধুু কর্মকর্তার সহযোগিতায় মোটা অংকের মাসোহারার বিনিময়ে ওই সিন্ডিকেট গত ২৫ জুন থেকে আবার মাদক বিকিকিনি শুরু করেছে।
এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা হল- মাঝির ঘাটের কালা মতিন, রাজু চৌধুরী, দাঁড়ি হেলাল, লেঙ্গা শাহাজাহান, খসরু ওরপে পাবেল, মানিক, সুজন, ট্যারা কাশেম, কালা মনির, রুবেল, শাহাজাহান, বরিশাইল্যা ওয়াসিম,রানা, সোর্স সিরাজ, কালা সেলিম, মুন্না, পিচ্ছি বাদল, আঙ্গুল কাটা ষোল, বাবুল, হাফিজ, লোকমান ও খোকনসহ আরো অনেকে।
পুলিশ জানায়, ফারুক মারা যাওয়ার পর তার ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দেয়। ফারুকের স্ত্রী ও শ্যালক রানার সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয় তার ছোট ভাই শুক্কুরের।
ফারুকের স্ত্রী ও শ্যালক তখন নাছির, সালামতের সঙ্গে মিলে ইউসুফের দলে ভেড়েন। আর খসরুর সঙ্গে যোগ দেন শুক্কুর। গত বছরের নভেম্বরে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন খসরু।
নাম প্রকাশ না করে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘কারাগারে থাকলেও খসরু সেখানে বসে মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করে বরিশাল কলোনির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায়। ইউসুফ বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছেন বলে তার অনুসারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। তার হয়ে নাছির-সালামত বরিশাল কলোনিতে কর্তৃত্ব করতেন, তাদের সঙ্গে ছিলেন ফারুকের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, নাছির-সালামতের হয়ে মাদক স্পট দেখাশোনা করতেন র‌্যাবের অভিযানে নিহত মোশারফ ওরফে মুসা। মুসা নিহত হওয়ার পর তার পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, র‌্যাবের অভিযানের সময় ওই এলাকার দেখভাল করছিল সালামত ও নাছির। তারা পালিয়ে গেলে শুক্কুর ও সেকান্দর দলবল নিয়ে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
স্থানীয়রা জানায়, বরিশাল কলোনিতে খুপড়ি করে নিয়মিত চলে মাদক বেচাকেনা ও সেবন। বিভিন্ন স্থানে মাটি খুঁড়ে রাখা হয় মাদক। সেসব খুপড়িগুলো মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের কাছে ‘গিরা’ নামে পরিচিত। রেলওয়ের জমির উপর অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা বরিশাল কলোনীতে রেলওয়ের কিছু কর্মচারী বসবাস করলেও অধিকাংশই থাকেন নিম্ম আয়ের মানুষ। এই সব ঝুপড়িই মূলত মাদকের আখড়া। সম্প্রতি র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক ঘর উচ্ছেদ করলেও বর্তমানে পাঁচ শতের বেশী ঝুপড়ি ঘর রয়েছে অক্ষত। বরিশাল কলোনি সংলগ্ন বাস্তুহারা কলোনি ধোপার মাঠ, মরিচ্চাগলিতেও মাদক বেচা-কেনা হয় প্রকাশ্যে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকায় অভিযান চালালেও মূল বিক্রেতারা থেকে যান ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। সেখানে অভিযানে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলার মুখেও পড়তে হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। মাদক ব্যবসার আধিপত্য ও ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে খুন হয়েছে অনেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ