ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঝপঝপিয়া ও পোদ্দারগঞ্জ নদীর সেতুর অভাবে আটকে আছে নলিয়ানের সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ

খুলনা অফিস : খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান এলাকায় সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ আটকে আছে ঝপঝপিয়া এবং পোদারগঞ্জ নদীর উপর সেতু নির্মাণের অভাবে। ইতোমধ্যে গল্লামারি থেকে দাকোপ পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। ফলে এ সম্ভাবনাটি থমকে আছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সেতু নির্মাণের জন্য ডিপিপি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্র জানিয়েছে, নলিয়ান এলাকায় সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে খুলনার উন্নয়ন কর্মীদের দাবি দীর্ঘদিনের। সে আলোকে ২০০৭ সালে খুলনার গল্লামারি থেকে নলিয়ান পর্যন্ত সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেয় সওজ কর্তৃপক্ষ। কয়েক দফা সড়কটি সংস্কারের প্রতিবেদন পাঠানোর পর ২০১৬ সালে মাত্র ২৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। এ কাজের জন্য ব্যয় ধরা হয় ৭৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। দাকোপ উপজেলার আনন্দ নগর পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণ কাজও ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে। এরমধ্যে ২১ কিলোমিটার সংস্কার এবং ৭ কিলোমিটার সড়ক জমি অধিগ্রহণ করে মেরামত করা হয়।

এদিকে সড়কটি মেরামতের লক্ষ্যে ২০১১ সালে সওজ খুলনা অফিস থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকি ও ঝপঝপিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ না হলে রাস্তা নির্মাণ ও মেরামত করা সম্ভব নয়। ফলে ৫৪ কিলোমিটার সড়কের মাত্র ২৭ কিলোমিটার অংশ সংস্কার ও নির্মাণ কাজ করা হয়। অন্যদিকে বাকি অংশের জন্য কোন বরাদ্দ হয়নি। সওজ খুলনার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মোমেন বলেন, নলিয়ান পর্যন্ত সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য ৫৪ কিলোমিটার। এরমধ্যে ২৭ কিলেমিটার সড়কের কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে বাকি অংশের কাজ সেতু না হলে করা সম্ভব নয়। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রাথমিক সমীক্ষা যাচাই শেষে দেখা গেছে ঝপঝপিয়া নদীর ওপর সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে কমপক্ষে ১২শ’৩৪ মিটার। যা দুই দিকের সড়কে বিস্তৃত হবে। সেতু না করে ব্রীজ করা হলে রাস্তা কোথা থেকে শুরু হয়ে কোথায় শেষ হবে সেটা বলা যাচ্ছে না। যে কারণে অপর অংশের কাজ বাকি রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশী টিমের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। সে আলোকে প্রি-ডিপিপি তৈরি করে একটি প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। নির্মাণ কাজের অর্থ সংস্থান নিশ্চিত হলে সেতু দু’টি নির্মাণ করা যাবে বলে তিনি জানান।

সূত্রটি জানিয়েছে, ঝপঝপিয়া নদীর ওপর ১ হাজার ২৩৪ মিটার সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। এছাড়াও পোদ্দারগঞ্জ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩শ’ মিটার। এর দু’পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন হবে। দুই তীরের অংশ মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার মিটার দৈর্ঘ্য হবে এ সেতুর। সব মিলিয়ে খরচ হবে প্রায় ৫৫৭ কোটি টাকা। এ দুটি সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য প্রি-ডিপিপি তৈরি করে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন দর্শন দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে চিরকালই আকাক্সিক্ষত হলেও খুলনা বা বাগেরহাট থেকে এই বনে পৌঁছানোর কোন সহজ রুট বিগত শত বছরেও তৈরি হয়নি। অথচ এই বনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনার সিংহ দুয়ার খুলে দেয়ার তাগিদ বহু দিনের। এসব কারণে এ সড়কটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন খুলনার বিশিষ্টজনেরা। তাদের দাবি সড়কটি নির্মিত হলে নলিয়ান ফরেস্ট এলাকার সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। একমাত্র অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সুন্দরবন এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ হচ্ছে না। তবে এ রাস্তাটি নির্মিত হলে বাগেরহাটের করমজলের মত এ এলাকাটিও প্রকৃতিপ্রেমীদের পদভারে মুখরিত হত। সচল হবে অর্থনীতির চাকা।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, সম্ভাবনার হাতছানিকে বারবার অবজ্ঞা করায় সুন্দরবনকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটন শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে সম্ভাবনাটি পিছিয়ে যাচ্ছে। এ সড়কটি নির্মিত হলে আরও একটি করমজল গড়ে উঠত এ এলাকায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ