ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় স্বামী জেল হাজতে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা : নারী নির্যাতন মামলায় গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ সুনামগঞ্জ জেলার বিশেষ শাখায় কর্মরত কনষ্টেবল মোঃ সোহাগ খাঁন আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। প্রাপ্ত তথ্যে মতে, ২০১১ সালে ২৪ জুলাই কসবা উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম বেপারীর মেয়ে কসবা গংগানগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ রেনুয়ারা বেগম একই উপজেলার সৈয়দাবাদ গ্রামের নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু মিয়া’র ছেলে সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত মোঃ সোহাগ খাঁন এর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময়ে নগদ ৫ লক্ষ টাকা, ২ লক্ষ টাকার স্বর্ণলংকার এবং ১ লক্ষ টাকার ফার্নিচার যৌতুক হিসাবে প্রদান করা হয়। পরবর্তী সময়ে সোহাগ খাঁন প্রমোশনের জন্য পুনরায় ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। যৌতুকের টাকা দিতে স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রী মোছাঃ রেনুয়ারা বেগমকে মারপিট করত; চাপ দিতে থাকে এই নিয়ে ২০১৬ সালে উইমেনস্ সাপোর্ট সেন্টার ও পুলিশ সুপার সুনামগঞ্জে অভিযোগ দায়ের করলে ৮/৩/২০১৭ইং বাদীনির সাথে সুন্দরভাবে ঘর সংসার করার হলফনামা দিয়ে বাদীনিকে নিয়ে সংসার করতে থাকনে। কিন্তু কিছু দিন পর যৌতুক লোভী স্বামী পুলিশ কনষ্টেবল মোঃ সোহাগ খাঁন প্রমোশনের জন্য পুনরায় ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। যৌতুক দিতে না পারায় গত ৭/৭/১৭ইং স্ত্রী মোছাঃ রেনুয়ারা বেগম (বাদীনি)’কে মারপিট করে। স্বামীর বাড়ীতে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কে জানানো হয় কিন্তু কোন প্রতিকার হয়নি। পরবর্তীতে ২৭/১২/২০১৭ একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সবশেষ ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে স্বামীর পরিবারের অন্যান্যে সদস্যরা এতে যোগ দেয়। বাদীনির আর্তচিৎকারে আশ পাশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছে আহত স্কুল শিক্ষিকা মোছাঃ রেনুয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে কসবা হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষ নিষ্পত্তির চেষ্টা ব্যর্থ হলে নির্যাতিতা স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা মোছাঃ রেনুয়ারা বেগম তার স্বামী পুলিশের কনষ্টেবল মোঃ সোহাগ খাঁনকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের বিরুদ্ধে ১৭/০৪/১৮ইং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পিটিশন মামলায় দায়ের করে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে তদন্তের জন্য প্রেরন করে। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তদন্তে ঘটনাটি সত্য বলে গত ৩০/৪/১৮ইং প্রোগ্রাম অফিসার শরিফা খাতুন স্বাক্ষরিত একটি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রদান করা হয়। এদিকে সুনামগঞ্জ জেলায় পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত কনষ্টেবল মোঃ সোহাগ খাঁন গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-২ এ আত্মসমর্পন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ