ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

১৮ প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা জরিমানা

# মানহীন বইয়ের কারণে জরিমানা গুণতে হবে ৩২ ছাপাখানা মালিককে
শি.বি : ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই ছাপাতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশের ১৮টি ছাপাখানার মালিককে এক কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৫৮০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এছাড়া নিম্নমানের বই ছাপার কারণে আরো ৩২ টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অংকের জরিমানা করা হচ্ছে। জরিমানা তালিকায় থাকা এসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নিয়ে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের কাজ নিয়েছিল।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, এসআর প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড লিমিটেডকে সর্বোচ্চ ৩১ লাখ ২১ হাজার ৬৬৯ টাকা, এপেক্স প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্সকে (প্রাক-প্রাথমিক) ২৩ লাখ চার হাজার ৯৩৫ টাকা এবং একই ছাপাখানাকে প্রাথমিক স্তরের বই সরবরাহে বিলম্বের জন্য ২১ লাখ ২১ হাজার ২১৯ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্সকে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৯ টাকা (প্রাথমিক) এবং একই প্রতিষ্ঠানকে ২১ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৯ টাকা (প্রাক-প্রাথমিক), গ্লোবাল প্রিন্টিং অ্যান্ড ইকুইপমেন্টকে ৯ লাখ ৯ হাজার ৯৯ টাকা(প্রাথমিক), ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেসকে চার লাখ ৫৬ হাজার ২২১ টাকা (প্রাক-প্রাথমিক), প্রাথমিক স্তরের বই বিলম্বের জন্য আরআর প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্সকে ৩৯ হাজার ৬৩৫ টাকা, প্রমা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সকে ছয় লাখ ৭৩ হাজার ২২ টাকা, আনন্দ প্রিন্টার্সকে পাঁচ লাখ ২১ হাজার ১৪৭ টাকা, সীমান্ত প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সকে ছয় লাখ ৬৭ হাজার ৮১৯ টাকা, মৌসুমী অফসেট প্রেসকে এক লাখ ৭২ হাজার ২৭০ টাকা ও বলাকা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সকে তিন লাখ ৩০ হাজার ১৯৭ টাকা জরিমানা করেছে এনসিটিবি। এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা সাংবাদিকদের বলেছেন, দরপত্রের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করতে পারেনি তারা। তারা অবকাঠামো স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও অর্থাৎ নিজস্ব সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বই ছাপার কাজ নিয়েছিল। তারা নির্ধারিত সময়ের অনেক দেরিতে বই সরবরাহ করেছে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এজন্য দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাউকে মোট চুক্তির মূল্যের দুই শতাংশ, কাউকে তিন বা পাঁচ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ পেয়েছিল সারাদেশের প্রায় আড়াই’শ ছাপাখানা প্রতিষ্ঠান। সাধারণত নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর (১ জানুয়ারি) আগে অর্থাত্ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে হয় ছাপাখানা মালিকদের।
এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানান, শিশুদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হবে তা হতে হবে ভালো মানের। কিন্তু বেশ কিছু নামি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বই স্কুলে পাঠিয়েছে। এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩২ টি।
এসব প্রতিষ্ঠানের কতগুলো বইয়ের মান নিম্নমানের তার তিনগুণ জরিমানার নিয়ম রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান বই পৌঁছাতে বিলম্ব করেছে এবং নিম্নমানের বই সরবরাহ করেছে তারাই আবার আগামী শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার কাজ পাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস মালিক সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, বিভিন্ন কারণে বই পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে।  ট্রাক নিয়ে যাওয়ার সময় ফেরি পথেও বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি জানান। বইয়ের নিম্নমানের বিষয়ে বলেন, কেউ বইয়ের মান খারাপ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমিতি স্বাগত জানাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ