ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওতে বাধা কোথায়?

আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন : বাংলাদেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে সুদৃশ্যের জন্য। কারো পেটের  ক্ষিদা নিবারনের জন্য নয়। আমরা গরীব দেশেরর অধিবাসী আমাদের পোশাক আশাকে জাঁকজমকপূর্ণ হলেই আমরা সন্তুষ্ট নয়। আমাদের জন্য প্রথম চাই অন্ন তারপর বস্ত্র। আমাদের উন্নয়ন এখন কসমেটিকের আবরণের মতো। হাজার হাজার শিক্ষকের বেতন নেই পেটে ভাত নেই অথচ আমরা অনেক সুখে আছি একথা কি কেউ মানবে?
বছরের পর বছর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে কিংবা নতুন প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ শিক্ষকগণ নিজের পকেটের টাকা খরচ করে পাঠশালায় গিয়ে শিক্ষা দিচ্ছেন এটাতো গোপন কিছুও নয় আর না বুঝার মতোও কিছু নয়। এটা শিক্ষকদের মৌলিক অধিকার।  আপনি যদি এদেরকে এমপিও দিতে না পারেন তাহলে কেন এদেরকে নিয়োগের সুযোগ দিবেন? তারা এম এ পাশ করে অশিক্ষিত বা অর্ধ শিক্ষিতদের মতো সিএনজি চালাতো অথবা বিদেশ পাড়ি দিয়ে মধ্য সাগরে মরে যেত আপসোস হতোনা। না খেয়ে সবার সামনে মরতে হতোনা। এরাতো আর ভাংচুর করছেনা, এরাতো রাজনৈতিক শত্রুও নয়। এদের অপরাধ কোথায়? এদেশের শিক্ষা যদি কারিগরী হতো এরা নিজেরা কর্ম করে উৎপাদন করে খেতে পারতো। তাও নেই। আমার মতে এদেশে কিছুদিন চীনের মতো সাধারণ শিক্ষা বাদ দিয়ে কারিগরী শিক্ষা দেয়া হোক। সব হাতে কলমে শিক্ষা। একেবারে মেকানিক, ড্রাইভিং থেকে চাষাবাদ পর্যন্ত। কৃষিবিদগণের গুরুত্ব দেয়া হোক যেন এক ইঞ্চি জমিও চাষাবাদের বাহিরে না থাকে। আমাদের মাটি আছে মানুষ আছে দরকার বুদ্ধি। শিক্ষকদের কাছে বুদ্ধি আছে। তাদের কদর করুন তারাই সোনার বাংলা উপহার দিতে পারে।
প্রতি মাসে বছরে জেলায় উপজেলায় শুধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠছে আর সর্বোচ্চ শিক্ষিত এই বেকাররা সেখানে কলুর বলদ খাটছে। আমাদের আপনাদের সন্তানরাই তাদের ছাত্র তাদের অপরাধ কোথায়? এদের জন্য কত কোটি টাকা বরাদ্ধ করতে হবে? তা কি সোনা চোরা চালানে ধরা খাওয়া সোনার টাকার পরিমান? তা কি ব্যাংকের গচ্ছা যাওয়া টাকার পরিমান? তা কি মন্ত্রী এমপিদের বিদেশ ভ্রমনের বিলাসিতার কিছু অংশ? নাকি পার্টি অফিসের মর্মর পাথর খোয়াতে হবে? আমরা নিশ্চিত জানি সেই দেশ উন্নত যেই দেশে শিক্ষিতদের কদর আছে। পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশে শিক্ষকদের বেতন, সম্মান, কাঠামো বেশ মজবুত। প্রকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা যেমন রয়েছে তেমনি তাদের কদরও রয়েছে। এদেশের এমন দূর্ভাগ্য যে দেশে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে একজন ডক্টর পাওয়া যায়নি। যিনি অন্তত শিক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কদর বুঝতেন। কত কষ্ট করছেন অবসর প্রাপ্ত হাজার হাজার শিক্ষক, তাদের ভাতা, কল্যাণ ট্রাস্টের টাকাগুলো আটকে আছে। কত বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স খুলে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে চলছে বছরের পর বছর। তাদেরকে অনার্স খোলার অনুমতি কেন দিলেন? একদিকে বলবেন আমাদের শিক্ষিত লোকের সংখ্যা বেশি চাই অপরদিকে বলবেন বেতন দেয়া যাবেনা, এটা কেমন কথা!
নিবন্ধন করা শিক্ষকদের ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নিবন্ধন ধারীদের চাকুরী নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা স্হগিত রাখা উচিত। তাহলে যার যেভাবে সুবিধা নিজ নিজ মতে কর্মস্থল খুঁজে নিবে। অন্তত ঝুলে থাকতে হবেনা। পূর্ব ইনডেক্সধারী অভিজ্ঞ ও যোগ্যদেরকেও নিবন্ধনের মতো ইনডেক্সের মেয়াদ রাখতে পারেন। তাহলে যোগ্য প্রশাসনিক দক্ষ লোকও পেতে পারেন। আজ শিক্ষকরা আমরণ অনশন করতে হচ্ছে, তাঁরা রাস্তায় নেমে গেলেন, আগেও করেছেন। আর কি করলে তাঁদের এ বিষয়টিকে  সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে? দেশে অনেক রকম ব্যয় হচ্ছে যা কোনভাবেই এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়। এদের এমপিওর আওতায় আনলে দেশের কি খুব ক্ষতি হয়ে যাবে? ওসব টাকা কি লোকসান হবে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ