ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মংলা বন্দরে গুড়িয়ে দেয়া বৈধ প্লটগুলো আজো ফিরিয়ে দেয়া হয়নি ব্যবসায়ীদের

মোঃ মনিরুজ্জামান (মোংলা) : মংলা বন্দরে জরুরী অবস্থার সময় গুড়িয়ে দেয়া বৈধ ব্যবসায়িক প্লটগুলো আজো ফিরিয়ে দেয়া হয়নি মালিকদের। বন্দরের মাধ্যমে ব্যবসায়ীক দেড় শতাধিক প্লট বরাদ্দ নিয়েও দীর্ঘ ১ যুগ ধরে কোনো ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেনা প্লট মালিকরা। জরুরী অবস্থার সময় একটি প্রভাবশালী মহলের ইশারায় সম্পূর্ণ বৈধ প্লটগুলো বুলড্রোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। সেই প্লট মালিকরা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি আজও। এ ব্যাপারে ২০১৪ সালের ৪ মে বন্দরের পুরাতন মোংলাস্থ এলাকার অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে উচ্ছেদকৃত প্লট মালিকদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত এক সভায় স্ব স্ব মালিকদের প্লট বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও  তা বাস্তবায়ন হয়নি। আটকে আছে নানা জটিলতায়। এদিকে একটি প্রভাবশালী মহলের কতিপয় নেতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে উচ্ছেদকৃত প্লট মালিকদের জায়গার বরাদ্দপত্র বাতিল করে নামে বেনামে নেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, পুরাতন মোংলার রিজেকশনগোলী, ফেরিঘাট, মামার ঘাট, বেঙ্গল ওয়াটার জেটি, ২ নং জেটি, ১ নং জেটি সংলগ্ন এলাকায় মোংলা বন্দরের নিয়ম নীতি অনুযায়ী ১৫২টি প্লট বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে ২০০৭ সালে জরুরী অবস্থার সময় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের চাহিদা মতো উৎকোচ না পাওয়ায় সেনা সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে কৌশলে সম্পূর্ণ বৈধ দেড় শতাধিক প্লট বুলড্রোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। এতে ব্যবসায়ীরা পথে বসতে বাধ্য হয়।
এ ব্যাপারে বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান মাস্টারের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, ২০০৭ সাল থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের প্লটগুলো হারিয়ে পথে বসেছে। এতে মোংলা বন্দরের ব্যবসা বাণিজ্যে যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি বন্দর হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। ব্যবসায়ী নেতা আরো বলেন, ২০১৪ সালের ৪ মে অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে উচ্ছেদকৃত প্লট মালিকদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ মাসের মধ্যে বরাদ্দকৃত প্লট বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও তা ৪ বছরেও দেয়া হয়নি। এছাড়া প্রকৃত প্লট মালিকদের জায়গায় অবৈধ ভাবে কেউ কেউ আস্তানা গাড়লেও বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেয়নি। এ নেতা আরো বলেন, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আঃ খালেক, বন্দরের চেয়ারম্যান ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আরেকটু আন্তরিক হলে দ্রুত প্লট মালিকরা তাদের প্লটে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ