ঢাকা, শনিবার 7 July 2018, ২৩ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রহস্যের জট খোলেনি শাহরাস্তির নববধূ ইতির আত্মহনন ঘটনার

নববধূ মেহজাবিন সুলতানা ইতি

শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা: চাঁদপুরের শাহরাস্তির মালরা গ্রামের নববধূ মেহজাবিন সুলতানা ইতি’র মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যের জট খোলেনি। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানামুখি গুঞ্জন রয়েছে। পরিবারের পক্ষ হতে হত্যার অভিযোগে ৩০ জুন শুক্রবার রাতে নিহতের ভাই নূরে আলম বাদি হয়ে নববধূর স্বামী সহ ৪জনকে আসামী করে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা করেন। ২৩ জুন উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউপির মালরা মজুমদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল শাহরাস্তি পৌর শহরের ঘুঘুশাল পালবাড়ির আমির হোসেনের কন্যা মেহজাবিন সুলতানা ইতি’র পার্শ্ববর্তি মেহের দক্ষিণ ইউপির মালরা মজুমদার বাড়ির আবদুল কুদ্দুছের মেঝ ছেলে একরামুল হক রাজু’র (২৭) বিবাহ হয়। ওই সময় তার পরিবার পাত্রপক্ষকে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও আসবাবপত্র দেয়ার কথা ছিলো।
মামলার বাদি নূরে আলম জানান, বিয়ের পর থেকেই ইতির স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন টাকা ও আসবাবপত্রের জন্য নির্যাতন শুরু করে। এ নিয়ে বেশ ক’বার স্থানীয় ভাবে সালিশ বৈঠক বসে। আমরা গরীব অসহায় হওয়ায় তাদের কাছ থেকে সময়ে চেয়েছিলাম। তারা সময় না দিয়ে বিয়ের মাত্র ২ মাস ১৮ দিনের মাথায় আমার নিষ্পাপ বোনটিকে মেরে ফেলেছে।
নিহতের বড় বোন তাহমিনা জানান, আমার বোন নফল রোজা রাখাবস্থায় আত্মহত্যার মতো পাপ কাজে লিপ্ত হতে পারে না। ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত গিয়ে তার লাশ নিচে দেখতে পাই। আত্মহত্যা করলে ফাঁস দেয়া অবস্থা থেকে কে তাকে নামিয়েছে সে তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় যৌথ পরিবারের সঙ্গে ইফতারের সময় কিভাবে সে আত্মহত্যা করবে? এমনকি ঘরের প্রতিটি সদস্যের উপস্থিতিতে, দরজা খোলা ও ঘরের আঁড়ার সাথে ওঁড়না বেঁধে তারা আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার করছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার হাতে সরিষার তেল মালিশ ও পাশে তেলের বোতল খোলা অবস্থায় পাই। এছাড়া ঘরের একটি সদস্যও ঘটনার পর বাড়িতে ছিলো না। আমার বোন গত ২০দিন পূর্বে বাবার বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় একটি মুঠোফোন নিয়ে যায়। যাতে সে ওই পরিবারের অত্যাচারের বিষয়গুলো রেকর্ড করে পরিবারের সদস্যদের অবগত করতে পারবে। কিন্তু তার স্বামী মুঠোফোনের বিষয়টি জানার পর ভাসুর হাসানকে জানালে তিনি ঘটনার দিন বিকেলে আমাদের বাড়িতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি প্রদান করে। আমার মা তাদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন এবং সন্ধ্যার পরই সংবাদ পাই সে নাকি আত্মহত্যা করেছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমরা এর বিচার দাবী করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, বিয়ের ঘটক শাহআলম অর্থের লোভ অশিক্ষিত একটি ছেলের সাথে শিক্ষিত মেধাবী ছাত্রীটিকে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। ওই ঘটনায় সে ছেলে পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত থেকে নিহতের পরিবারকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাকেও আইনের আওতায় আনা উচিত।
নিহত ইতি’র মা ফিরোজা বেগম জানান, আমরা গরীব অসহায় হওয়ায় অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। তারা মেয়েটিকে বাঁচতে দিলো না।
সমাজের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আমরা গরীব বলে কিছু অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে আপোষের প্রস্তাব করছে। তারা প্রতিনিয়ত আমার পরিবারকে হুমকি প্রদান করছে। আমি ন্যায় বিচার চাই। গরীব অসহায় হওয়ায় আজও কোন আসামী আটক হয়নি। হত্যাকারীদের শাস্তি হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহরাস্তি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ নাছির উদ্দিন জানান, আসামীরা পলাতক রয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন সন্ধ্যায় করফুলেন্নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের নবাগত একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নববধূ মেহজাবিন সুলতানা ইতি’র বিয়ের ২ মাস ১৮দিনের মাথায় স্বামীর বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ওই রাতেই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে একটি ইউডি মামলা দায়ের করে। স্বামীর পরিবার এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। পরবর্তীতে ২৭ জুন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার ও ২৯ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের সাথে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাতের পর ৩০ জুন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ