ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুইডেনকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

রফিকুল ইসলাম মিঞা : রাশিয়া বিশ্বকাপে একে একে চ্যাম্পিয়নরা বিদায় নিলেও শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। গতকাল কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ম্যাচে সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে দলটি। ফলে ক্রোয়েশিয়া বনাম রাশিয়ার মধ্যকার বিজয়ী দলের বিপক্ষে সেমিফাইনালে লড়বে ইংল্যান্ড। গতকাল সুইডেনের বিপক্ষে এতো সহজে জয়টা প্রত্যাশা করেনি ইংল্যান্ড। সুইডেন যে শক্তিশালী দল তা মেনেই মাঠে নেমেছিল ইংলিশরা। তবে মাঠে নেমে ঠিক শক্তিশালী সুইডেনকে খুঁজে পায়নি ইংল্যান্ড। ফলে ২-০ গোলে জয়ী হয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা দলটি বিরতির পর আরো একটি গোল করে ম্যাচে জয়ী হয় ২-০ গোলে। আর সুইডেনকে বিদায় করে শিরোপার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সেফিাইনালে উঠে যায় ইংল্যান্ড। গতকাল ইংল্যান্ডের পক্ষে গোল দুটি করেন হ্যারি ম্যাগুইয়ার ও ডেলে আলি।
গতকাল ম্যাচের প্রথম থেকেই আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ চলছিল। তবে শুরু থেকে বল দখলে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। অবশেষে দলটি সফল হয় খেলার ৩০ মিনিটে। দলের পক্ষে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেন হ্যারি ম্যাগুইয়ার। অ্যাশলি ইয়াংয়ের কর্নার কিকে লাফিয়ে উঠে দারুণ হেডে বল জালে পাঠান ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুইয়ার। ইংল্যান্ডের হয়ে এটাই তার প্রথম গোল। আর এই গোলেই প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সুইডেন। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান বাড়ানোর আরো একটা দারুন সুযোগ পেয়েছিল ইংলিশরা। খেলার ৪৪ মিনিটে অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে পেছন থেকে উড়ে আসা বল নামিয়ে গোলরক্ষককে কাটাতে চেয়েছিলেন রাহিম স্টার্লিং। বক্সের মধ্যে সুইডিশ গোলরক্ষক ওলসেনকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সফল হতে পারেননি। কারণ কোনোমতে হাত লাগিয়ে বল  গোললাইন পার হতে দেননি কিপার রবিন ওলসেন। আবার বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শট মেরেছিলেন স্টার্লিং, কিন্তু তাতে সফল না হলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড। অবশ্য গতকাল ম্যাচের শুরুটা হয়েছে একেবারে সাদামাটাভাবেই। প্রথম ১২ মিনিটে বলার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। ১৩ মিনিটের মাথায় ইংলিশ গোলরক্ষককে চমকে দিতে বক্সের অনেক বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন ভিক্টর ক্লাসেন। তার ডান পায়ের দূরপাল্লাার শটটি বারের একটু উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। ১৯ মিনিটে রাহিম স্টার্লিং দারুণভাবে বল টেনে নিয়ে চলে যান একদম সুইডেনের বক্সের কাছাকাছি। আর বলটা দিয়ে দেন হ্যারি কেইনকে। বক্সের একটু বাইরে মাঝ থেকে জোড়ালো শটও নিয়েছিলেন কেইন, তবে সেটা বেরিয়ে যায় গোলপোস্টের ডানদিক দিয়ে। অবশ্য বিরতির আগে চমক লাগানো কোন আক্রমণে গিয়ে সফল হতে পারেনি সুইডেন। ফলে এক গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যায় সুইডেন। বিরতির পর খেলা শুরু হলে গোল পরিশোধের নেশায় মরিয়া ছিল সুইডিসরা। আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরাতে পারতো সুইডেন। তবে মার্কুস বার্গের হেড বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে দর্শণীয়ভাবে ঠেকান জর্ডান পিকফোর্ড। কিন্তু প্রথম গোল পরিশোধের পরিবর্তে উল্টো ৫৯তম মিনিটে আরেকটি গোল খেয়ে আরও চাপে পড়ে সুইডেন। ডান দিক থেকে জেসি লিনগার্ডের মাপা ক্রসে কাছ থেকে হেডে ব্যবধান বাড়ান  ডেলে আলি। ফলে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। খেলার বাকি সময়ে সুইডেন কোনো গোল পরিশোধ করতে না পারলে ২-০ গোলে জয় পায় ইংল্যান্ড। গতকাল দ্বিতীয় রাউন্ডে কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলা দলটি অপরিবর্তিত রেখে সুইডেনের বিপক্ষে খেলতে নামে ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। তবে সুইডেন দলে দুটি পরিবর্তন ছিল। নিষিদ্ধ রাইট-ব্যাক মিকায়েল লুসতিগের জায়গায় এমিল ক্রাফট। আর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরেন মিডফিল্ডার সেবাস্তিয়ান লারসন। বাদ পড়েছেন গুস্তাভ সেভনসন। সুইডেন শেষবার বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে খেলেছিল ১৯৯৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপে। সেবার তারা তৃতীয় হয়েছিল। এবার ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হল। আর ১৯৬৬ এর বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড শেষবার ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছে ১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপে। চতুর্থ হয়েছিল সেবার ইংলিশরা। এবার সুইডেনকে বিদায় করে উঠল সেমিফাইনালে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ