ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

‘খালেদা জিয়া ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে পারে না’: মওদুদ

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার ও ভোটের অধিকার শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ‘খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে পারে না’ এবং বিএনপির সঙ্গে সরকারের সমঝোতায় আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ।
গতকাল শনিবার দুপুরে ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার ও ভোটের অধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব আ স ম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন, কৃষকদলের সহ-দফতর সম্পাদক এস কে সাদী প্রমুখ।
মওদুদ বলেন, ‘বিএনপি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই বিএনপির সঙ্গে সরকারের সমঝোতায় আসতে হবে। আর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সেদিন হবে যেদিন বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হবে।’ তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে। ভারত থেকে শুরু করে সকল প্রতিবেশি দেশ চায় বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। সেই নির্বাচনের জন্য অবশ্যই খালেদা জিয়ার মুক্তি ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি এই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। খুলনা এবং গাজীপুর নির্বাচনের মাধ্যমে এই কমিশনের মুখোশ উন্মোচন হয়ে গেছে। আমরা বারবার বলছি, নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে এবং এই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।’ কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল জড়িত নেই দাবি করে মওদুদ বলেন, ‘এটা একটা স্বতঃস্ফূর্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ১০০টা সরকারি চাকরির নিয়োগের মধ্যে ৫৬টি যদি কোটায় চলে যায়, তাহলে থাকে কী? বাকি যে ৪৪ শতাংশ নিয়োগ পায় তার মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়।’ ‘প্রধানমন্ত্রী ১১ এপ্রিল সংসদে দাড়িয়ে বলেছেন কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে। আমরা শুনে তার প্রশংসা করেছিলাম। কিন্তু ২৭ জুন তিনি আবার একই সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন, কোটা পদ্ধতি থাকবে। আমরা কীভাবে তার কথা বিশ্বাস করব? প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাব, তিনি যে কথা বলেছেন তা রক্ষা করবেন। এমনিতেই জনগণের অনেক বিশ্বাস আপনার ওপর থেকে চলে গেছে’ বলেন মওদুদ।
স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা জাতির জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে? তাহলে কি এটা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র? জাতি কি তাহলে ব্যর্থ হয়ে গেল? ‘আজকে যে সংকট তা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে ততই মজবুত হবে। আমাদের এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সর্বদলীয় জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে গণবিস্ফোরণের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘হয় শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা হবে, আর না হয় অতীতে যে ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে স্বৈরাচার পতন হয়েছে, তা করতে হবে।’ দেশের উচ্চ আদালতের আদেশকে অকার্যকর করার জন্য নিম্ন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট মিথ্যা মামলার ওপর ভিত্তি করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ ৫ মাস হয়ে গেছে তিনি জেলে। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছে। তারপরও আমরা তাকে মুক্ত করতে পারছি না।’
আ.লীগ খুব খারাপ অবস্থায় আছে: বর্তমান ক্ষমতাসীন আ.লীগ খুব খারাপ অবস্থায় আছে বলে একই অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘এই তিন মাসের খেলাটায় আপনারা একটু সক্রিয়ভাবে থাকেন। এই যে সামনের তিন মাস আমি আগেও যা বলেছি এখনও সেটা বলছি খাতায়ও লিখে নিতে পারেন, ডিসেম্বর-জানুয়ারি শেখ হাসিনার সরকার এখানে থাকবে না।’ দুদু বলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রতি রাগ করে আমি কথা বলছি না। একটা একটা করে বিষয় মিলিয়ে দেখবেন, দুই কোটি টাকার একটি ব্যাপার নিয়ে বেগম জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা জানি এটা একটা মিথ্যা মামলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ বছরের মধ্যে চার লাখ হাজার কোটি টাকার কোনো খোঁজ-খবর নাই দেশে। দুই কোটি টাকার জন্য যদি সাজা হয় পাঁচ বছর তাহলে চার লাখ হাজার কোটি টাকার সাজা হয় কত?’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কতজন মানুষকে হত্যা করেছেন তার হিসাব আছে? এগুলোর তো জবাব দিতে হবে। ইলিয়াস আলীসহ যাদেরকে গুম করেছেন তাদেরকে ফেরত দেবেন না? আমরা ফেরত চাইবো না? ফেরত দিতে হবে এবং এটি ডিসেম্বর-জানুয়ারির পরেই ফেরত দিতে হবে। কারণ বেগম জিয়া আবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। এটা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নিয়মনীতি। আমরা আপনাদের ব্যর্থতাকে তুলে ধরে জনমত গঠন করবো। মালয়েশিয়ার ঘটনা দেখছেন না আগের প্রধানমন্ত্রী কোথায় এখন? কিন্তু তারপরও আমরা আপনাকে কারাগারে পাঠাবো না, কারণ বেগম জিয়া আপনাকে মাফ করে দিয়েছেন। এটা শুনতেও আপনার খারাপ লাগে কিন্তু বেগম জিয়া ছাড়া তো আপনার রক্ষা পাওয়ার আর কোনো পথ নেই।’
বিএনপি দুটি ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি নির্বাচন আর অপরটি গণঅভ্যুত্থান। পরিষ্কার ভালো নির্বাচনের ব্যবস্থা না হলে গণঅভ্যুত্থান আর ভালো নির্বাচনের ব্যবস্থা হলে নির্বাচনের অভ্যুত্থান দিয়েই দেখিয়ে দেব বাংলাদেশে কারা শক্তিশালী।’ ‘স্পষ্ট করে বলি আমরা নির্বাচন করবো, বিএনপি নির্বাচন করবে। আমরা নির্বাচনের জন্যই রাজনীতি করি। কিন্তু এর সঙ্গে আরও একটি সত্য আছে, সেটি হচ্ছে আপনার (শেখ হাসিনার) অধীনে না। আপনার অধীনে বাংলাদেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না। আপনি এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন যাতে আমরা নির্বাচনে না যাই। আর আমরা এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করবো যাতে আপনার অধীনে নির্বাচন করতে না হয়। নির্বাচন তো হবেই এবং সেই নির্বাচনে বিএনপি জিতবে এবং সরকার গঠন করবে। আপনার যতই খারাপ লাগুক এটা আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আসুন একটা গা ঝাড়া দিয়ে উঠি। আমরা তো জিয়াউর রহমান এবং বেগম জিয়ার সৈনিক। একবার উঠে দাঁড়িয়ে বলি এটা আমার শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ, এটা আমার বেগম জিয়ার বাংলাদেশ, এটি আমার মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। এই কথাগুলো বলে শেষ লড়াইয়ের জন্য আমরা রাস্তায় নেমে আসি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ