ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পদ্ধতি বাতিল দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ আইনের ৯০ বি ধারা বাতিলের এবং রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানিয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল সমন্বয়ে গঠিত ‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি বাতিলের দাবি পরিষদ’। তারা বলেন, রাজনীতি মানব সভ্যতার এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। আধুনিক যুগে রাজনীতিকে বাদ দিয়ে মানবজীবন একেবারেই অকল্পনীয়। রাজনৈতিক দল ব্যতীত আধুনিক রাজনীতিও অচল। রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক।
গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ দাবি জানান। আয়োজক সংগঠনের আহবায়ক অ্যাডভোকেট খন্দকার খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিন রানা, বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনেম প্রমুখ।
নির্বাচন কমিশন তো এখন সরকারের দাস বলে মন্তব্য করলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, খুলনায় মৃত ব্যক্তি ভোট দিয়েছে! গাজীপুরের নির্বাচনের বিষয়ে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তখন কমিশন বলেছে যে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনও সংজ্ঞা নেই। তাহলে এই কমিশন কি আপনাদের (রাজনৈতিক দল) নিবন্ধন করতে দেবে? তিনি বলেন, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার জীবনে কোনও জায়গায় কোনও নির্বাচন করেছেন? কোনও রাজনৈতিক দল করেছেন? রাজনৈতিক দল করতে কী করতে হয় তা জানেন? কোনও অভিজ্ঞতা আছে?
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, যে নিজেই জানে না কীভাবে খেলতে হয়, সে যদি মেসি-নেইমারের দোষ দেখে, তবে সে পাগল। আমাদের নির্বাচন কমিশনে যারা আছেন, তারা কোন নির্বাচন সুষ্ঠু, তাই জানেন না। দল কোনটা সুষ্ঠু সেটা বোঝেন কী করে?
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ৯০-বি ধারা অবলিম্বে বাতিলে করে আলোচনায় উল্লেখিত দেশ সমূহের মতো সহজ শর্তে অর্থাৎ কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় অফিস এবং দলীয় গঠনতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে দলসমূহের নিবন্ধনের বিধান তথা আন্তর্জাতিক মানের আইন চালু করা হোক। নিবন্ধন ব্যবস্থা শুধুমাত্র নির্বাচনের প্রাক্কালে নয় বরং সারা বছর চালু রাখা হোক।
গণসংহতির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচন কমিশন নতুন রাজনৈতিক দলের সুস্থ বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। এই নিবন্ধন আইন গণতান্ত্রিক নয়, এটি রাজনৈতিক দলের মৌলিক অধিকার খর্ব করার শামিল। তিনি আরও বলেন, এটি বৈষম্যমূলক গণবিরোধী একটি আইন। এই আইনের সংস্কার অবশ্যই আনতে হবে। এজন্য অবশ্যই সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।
বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনেম বলেন, দেশের বড় বড় রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবীরা জনগণকে গণতন্ত্রের পাঠ দিতে গিয়ে যুক্তরাজ্যকে গণতন্ত্রের সুতিকাগার বলে অভিহিত করেন। সেই যুক্তরাজ্যে রেজি. অব পলিটিক্যাল পার্টি অ্যাক্ট-১৯৯৮ অনুসারে কেন্দ্রীয় কমিটি কেন্দ্রীয় অফিস ও দলীয় গঠনতন্ত্র থাকলে একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের যোগ্য হয়। ভারতে রিপ্রেজেন্টেশন অব পিপল অ্যাক্ট-১৯৫১ অনুসারে কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় অফিস এবং গঠনতন্ত্র থাকলেই যেকোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে দ্যা পলিটিক্যাল পার্টিস রেজি. অ্যাক্ট অনুসারে কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় অফিস, দলীয় গঠনতন্ত্র এবং ১০০ জন নিবন্ধিত ভোটার সদস্য থাকলে যেকোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের যোগ্যতা লাভ করে। গণতন্ত্রপন্থী অন্য সব রাষ্ট্রসমূহেও রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে একই ধরনের আইন চালু আছে। 
বক্তারা বলেন, প্রথমত আইনটি অগণতান্ত্রিক এবং নতুন দলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতামূলক। উপরোক্ত আইনের বিধানের কারণে জনগণের কল্যাণে নতুন কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ অসম্ভব। গণতন্ত্রের বিকাশে এই আইনটি অন্তরায়। কালো টাকার মালিক অথবা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এত বড় আয়োজন করে দলের নিবন্ধন পাওয়া দুঃসাধ্য। এরূপ আইন প্রণয়ন গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যার শামিল।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফকরুদ্দিন-মইনউদ্দিন গং দুই নেত্রী ও তাঁদের দলের রোষানল থেকে নিজেদেরকে বাঁচানোর লক্ষ্যেই দুই দলের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করণের মোক্ষম হাতিয়ার। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of people (Amendment) Ordinance, ২০০৮ নামক কাল আইনটি জাতির কাঁধে চাপিয়ে দেন। উক্ত আইনটিই ২০০৯ সালে Representation of people order (Amendment) Act, 2009 (Act No XIII of 2009) নামে প্রণীত হয়। এই আইন অনুসারে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে একটি অতিরিক্ত অধ্যায় (CHAPTER VIA) সংযোজন করা হয়। উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০-এ থেকে ৯০-আই) রয়েছে।  উপরোক্ত আদেশের  ৯০-বি ধারা অনুসারে রাজনৈতিক দল-সমূহের নিবন্ধন পেতে হলে যে সকল শর্ত পূরণ করতে হয়, সেগুলো হচ্ছে- ক. বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে নিবন্ধনের দরখাস্ত প্রদানের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্বাচনী প্রতিক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে। খ. উপরোক্ত সংসদ নির্বাচন সমূহের যেকোন একটিতে আবেদনকারী দলের মনোনীত প্রর্থীদের আসনসমূহে মোট প্রদত্ত ভোটের ৫% ভোট পেয়ে থাকত হবে। গ. অফিসসহ কেন্দ্রীয় সমিটির সাথে ১০টি জেলা কমিটি এবং ৫০টি থানা/উপজেলা কমিটি থাকতে হবে। ঘ. সর্বস্তরের কমিটিতে ৩৩% নারী অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ