ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট ফিলিপাইনের আদালতে

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার ফরেনসিক রিপোর্ট ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল আদালতে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রিপোর্ট জমা দেয়া দুই কর্মকর্তা হচ্ছেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহিম।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা ফিলিপাইনের আদালতের শুনানিতে অংশ নিতে সম্প্রতি সেখানে যান। বৃহস্পতিবার সেখানকার আদালতে ফরেনসিক রিপোর্ট জমা দেন।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপাইনে শুনানির সময় সে দেশের আদালত বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের কাছে হ্যাকিং এবং এ ঘটনায় জড়িতদের নাম জানতে চেয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে সেখানকার আদালতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়। এই মামলার অন্যতম আসামি ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) কর্মকর্তা মায়া দেগুইতো।
এর আগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮৮০ কোটি টাকা) চুরির ঘটনা ঘটে। অর্থের একটি বড় অংশ আরসিবিসির মাধ্যমে ফিলিপাইনের জুয়ার টেবিলে চলে যায়।
চুরির মাসখানেক পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির হিসাব ও বাজেট শাখার যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২, তথ্য ও প্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৪ ধারায় এবং বাংলাদেশ দন্ডবিধি ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের’ আসামি করা হয়। সংবেদনশীল এই মামলাটির তদন্তের দায়ভার দেয়া হয় সিআইডিকে।
দীর্ঘ তদন্তে রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িতদের অনেকের নামও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- জাপানের সাসাকিম তাকাশি, জয়দেবা, আরসিবিসির জুপিটার শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো, এনজেলা তেরেস, মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজ, জেসি ক্রিস্টোফার লাগোরাস, আলফ্রেড ভারগারা, এনরিকো তায়েদ্রো ভাসকুয়েজ, কিম ওং, স্লুইড বাতিস্তা, ফিলিপাইনের ব্যবসায়ী উইলিয়াস গো সো, শ্রীলঙ্কার এনজিও শালিকা ফাউন্ডেশনের গামাজ শালিকা পেরেরা, সানজেবা টিসা বান্দরা, শিরানি ধাম্মিকা ফার্নান্দো, ডন প্রসাদ রোহিতা, নিশান্থা নালাকা, ওয়ালাকুরুয়ারাচ্চি প্রমুখ।
ফিলিপাইনের আদালত অভিযুক্তদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত-সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে তাদের নাম এসেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ