ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সামনে গণঅভ্যুত্থান অপেক্ষা করছে -নজরুল ইসলাম খান

গতকাল শনিবার ভাসানী মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, নির্বাচন নির্বাচন খেলায় বিএনপি কখনো যাবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে। কারণ জনগণ চায় না বিএনপি বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ রেখে নির্বাচনে অংশ নিক। সামনে গণঅভ্যুত্থান অপেক্ষা করছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র এই নেতা।
গতকাল শনিবার নয়াপল্টনের ভাসানি ভবনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল উত্তর শাখা আয়োজিত এক কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মী সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের সামনে গণ আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান অপেক্ষা করছে। আমাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। দলের স্থায়ী কমিটিতে কোনও ধরনের বিভেদ নেই। আমরা একসঙ্গে বসে সবসময় আলোচনার মাধ্যমে কাজ করছি। আপনারাও সবাই একসঙ্গে থেকে সিদ্ধান্ত নেবেন।
সাবেক এই মন্ত্রীর অভিযোগ, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে চান না প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, এই দুনিয়ায় খালেদা জিয়াকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান শেখ হাসিনা। কারণ উনি ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। তখন জনগণ তাকে বাদ দিয়ে খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিল। খালেদা জিয়া জীবনে যত নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সবকটিতেই বিজয়ী হয়েছেন। শেখ হাসিনার সেই রেকর্ড নেই। তাই আমাদের নেত্রীকে ছেড়ে দিতে ভয় পাচ্ছেন তিনি। মুক্ত খালেদা জিয়াকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা তার নেই।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলন জোরদার, আরও শক্তিশালী এবং আমাদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আমরা যদি দলের বিপ্লব ঘটাতে পারি তবেই আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে পারবো। আর সেটা করতে পারলে একটা নির্দলীয় সরকারের অধীনে এই সংসদ বহাল রেখে উদ্ভট ঘটনা বাংলাদেশ আর ঘটবে না।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, যখন এই সরকারের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বন্ধ করার জন্য সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। আর তা না হলে কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে না।
তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা নির্বাচনকে গণতন্ত্রের বাহক হিসেবে মনে করি। নির্বাচনকে কারো ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে আমরা মনে করি না। অতএব বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন যখন গণতন্ত্রের ধারণা আসবে। অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে সংসদ বাতিল করা হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হবে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন কাজ করবে। সে রকম পরিস্থিতিতে বিএনপি এবং ২০ দল নির্বাচনে যাবে। আমি বিশ্বাস করি জনগণ যদি ভোট দেয়ার সুযোগ পায় তাহলে তারা অবশ্যই বেগম খালেদা জিয়াকে আরেকবার প্রধানমন্ত্রী করবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দেখলাম যে সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কে অস্বীকার করছে। নির্বাচনে সীমাহীন কারচুপি করেছে। আমাদের আরো তিনটা নির্বাচন সামনে রয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলবো এর আগে দুই সিটি নির্বাচনে আপনি আপনাদের দা¡য়িত্ব¡ পালনে আপনারা পাস মার্ক পাননি। আসন্ন রাজশাহী ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু নির্বাচনের অবস্থা না করতে পারে। তাহলে এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আজ আমরা বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমানের পরামর্শে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। কোনো রকমের বিভেদ নাই। আপনাদের কাছেও আহ্বান সবাই একসঙ্গে থেকে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং যে লড়াই সংগ্রাম হবে তাতে আমরা বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিক পন্থায় এই দল তার রাজনীতি বাস্তবায়ন করতে চায়। আজকে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করে বিএনপির ক্যান্টমেন্টে জন্ম হয়েছে। আমি একজনকে বলতে ছিলাম ক্যান্টমেন্ট কি কোনো নিষিদ্ধ জায়গা? আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে রোজ গার্ডেনে যেখানে নেতর্কীরা নাচানাচি করতো। তাতে কি হয়েছে? সেটা জনগণের বাড়ি ঘর নাকি? জন্ম যেখানেই হোক জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভাল।
কোটা আন্দোলনে বিএনপির উস্কানি রয়েছে বিভিন্ন মহলের এমন সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সবাই জানে কোটা আন্দোলনের মূল নেতারা তো ছাত্রলীগের। আমি ৭১টিভিতে নিজে দেখেছি ছাত্রলীগের কোনো ভিপি বা জিএস এর বক্তব্য। কোটা সংস্কার ন্যায্য আন্দোলন। বিএনপি অন্যের হাতে খাবার খায় না, নিজের হাতে খাবার খায়।
তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নারীকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া সবাই বলবে এই ৭৩বছর বয়সের নারীকে নিষ্ঠুরভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সহযোগিতা চাওয়া হলে আমার বিশ্বাস সবাই সেই সহযোগিতা করবে। কিন্তু তাদের কাছে আমাদের পৌঁছাতে হবে, যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা থানা কমিটির দায়িত্ব পাচ্ছেন তারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, গ্রামে গ্রামে, বাড়ি বাড়ি যাবেন, মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পর সবচেয়ে বৃহৎ সংগঠন যেটা হতে পারে সেটা হলো জাতীয়তাবাদী মহিলা দল। আপনারা হলেন জনসংখ্যার অর্ধেক।
ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আমিনা খাতুনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, মহানগর উত্তরের যুগ-সাধারণ সম্পাদক রোকেয়া বেগম তামান্না, দক্ষিণের সভাপতি রাজিয়া আলিম, সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহর ভুইয়া, উত্তরের সিনিয়র সভাপতি মেহেরুনন্নেছা হক, বিএনপি মহানগর উত্তরের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামসুল হক, বাড্ডা থানা বিএনপি সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজু, সাধারণ সম্পাদক জিএস কাদের বাবু, রাবেয়া আলম, রোকেয়া চৌধরী বেবী, নাজমা শিকদার, ডাক্তার আয়শা আক্তার মিলি, হীরা, সালমা কামাল, পাপিয়া রইচ, সালেহা, আমিনা সিরাজ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ