ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বারবার একই কায়দায় জনগণকে ধোকা দেয়া যাবে না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দেখে জাতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেখ হাসিনার অধিনে বিএনপি, ২০ দল এবং জনগণ কোনভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধমে জনগণকে সাথে নিয়ে গণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে। আর মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়েই আগামী নির্বাচন হবে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে খেলাফত মজলিস আয়োজিত ‘জাতীয় সংকট উত্তরণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব শেখ গোলাম আসগরের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাওলানা আবদুর রকিব। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি’র মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, খেলাফত মজলিসের নায়েবে মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল হালিম, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল প্রমুখ।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, বাংলাদেশ একটি কঠিন সংকটে নিমজ্জিত। এ সংকটের মূল কারণ হচ্ছে একদলীয় বাকশাল কায়েমের জন্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক সরকার পরিবর্তনের একটি গ্রহণযোগ্য ও মিমাংসিত বিষয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেয়া। ২০১৪ সালে বিনাভোটে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাসীন হয়। এপরে যত নির্বাচন হয়েছে সর্বশেষ গাজিপুর সিটি নির্বাচন পর্যন্ত সব নির্বাচনে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রে গৃরৃত্বপূর্ণ ৩টি অঙ্গ- সরকার, আইন ও বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। ব্যাংক লুট থেকে শুরু করে ঘুষ, দুর্নিতীতে জাতি বিপর্যস্ত। আওয়ামীলীগ জনগণকে ভয় পায়। কারণ জনগণ ভোট দিতে পারলে এ স্বৈরাচারী সরকারের কোন চিহ্ন থাকবে না।
অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, আজকে জাতির সামনে যে মহাসংকট বিরাজ করছে তা মেকাবেলায় সবাইকে দৃঢ়তার সাথে মাঠে থাকতে হবে। যেকোন আন্দোলন সংগামে আমি আপনাদের সাথে থাকব, ইনশাআল্লাহ। জাতীয় সংকট উত্তরণের জন্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।  তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের উপর জুলুম নির্যাতন বন্ধ করে তাদের দাবি মেনে নেয়ার এবং নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভূক্তির দাবি অবিলম্বে মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।
মূল বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ একশ্রেণীর প্রিসাইডিং অফিসার, দলীয় মাস্তান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অভিনব কৌশলে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই প্রহসনে পরিনত করেছে। যার ফলে রাজনৈতিক দলগুলোতো বটেই এমনকি জনগণের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে চরম হতাশা ও নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। জাতি আজ চরমভাবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি হতাশ ও বিরক্ত। তাদের নেতৃত্বে দেশে সুষ্ঠু ও ভালো কোন নির্বাচন আশা করা যায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ