ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মেহনতি মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে ট্রেড ইউনিয়নের কোনো বিকল্প নেই -মিয়া গোলাম পরওয়ার

গত শুক্রবার ঢাকা মহানগরী অঞ্চল আয়োজিত ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ট্রেড ইউনিয়ন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগঠন। ট্রেড ইউনিয়ন হলো শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের একটি সংগঠন, যার মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষ তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার তুলে ধরতে পারে এবং তা আদায় ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনে লড়াই ও সংগ্রাম করতে পারে। ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকদের সুসংগঠিত করে। শিল্প কারখানার সুষ্ঠু শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে উৎপাদশীলতা বৃদ্ধি করে। যে কোনো রাষ্ট্রে সঠিক গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বিকাশ এবং তাদের শক্তিশালী ও টেকসই করতে রাষ্ট্রের উৎপাদিকা শক্তি মেহনতি মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণের অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে ট্রেড ইউনিয়নের কোনো বিকল্প নেই।
গত শুক্রবার ঢাকা মহানগরী অঞ্চল আয়োজিত ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দর কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে  তিনি এই কথা বলেন। কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোঃ তসলিম এর সভাপতিত্বে  কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মোঃ  আব্দুস সালামের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ মোহিবুল্লাহ,কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক মোঃ আশরাফুল আলম ইকবাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিনের নির্বাহী সদস্য মোঃ নুরুল হক প্রমুখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ ধারা অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন হলো শ্রমিক-মালিক উভয় পক্ষের সমস্যা সমাধানে বিধিবদ্ধ স্বীকৃত প্রক্রিয়া। আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠিত সংগঠন। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রমিক এ অধিকার থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশের শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক আইনে ট্রেড ইউনিয়ন স্বীকৃত হলেও আমাদের দেশের এক শ্রেণির মালিক গোষ্ঠী তা কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি নয়। জাতির প্রত্যাশা, একজন দেশপ্রেমিক শিল্পোদ্যোক্তা অবশ্যই শিল্প শ্রমিক ও দেশের স্বার্থ দেখা উচিত।  অথচ, আমাদের দেশের মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক বিরাজ করছে; যা কোনোভাবেই শিল্প বিকাশের অনুকূল বা সহায়ক নয়। শ্রমিকদের অবস্থা নিয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সারাবিশ্বে যেমনভাবে শিল্প বিকাশ হয়েছে, আমাদের দেশেও সেভাবে শিল্প বিকাশ সম্ভব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট শ্রম সংখ্যার ৮০ ভাগের বেশি অপ্রাতিষ্ঠানিক সেক্টরে কাজ করছে। এসব অপ্রাতিষ্ঠানিক সেক্টরের শ্রমিকরা একেবারেই অসংগঠিত। তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না, ছুটির বিধান নেই, ট্রেড ইউনিয়নে সম্পৃক্ত হতে না পারার কারণে সব সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত। অনেকের চাকরি মালিকের করুণার ওপর নির্ভর করে। এ জন্য দেশ, জাতি, জনগণ ও শিল্পের উন্নয়নের কথা বিবেচনায় নিয়ে আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুযায়ী শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি শিল্প মালিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, শিল্প মালিকদের তাদের লুটেরা মানসিকতা পরিহার করে তাদেরকে আরও মানবিক হতে হবে। তাদের মানবিকতা শ্রমিককে শুধু তার কাজে উৎসাহী করবে না ও এর বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাবও রাষ্ট্রে পড়বে। কাজেই আজ শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার তৈরি করতে হবে, তৈরি করতে হবে শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ