ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নন এমপিও শিক্ষকদের আমরণ অনশন অব্যাহত

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে তোলা ছবি -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় অনশনরত নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাবেন সংবিধান প্রণেতা ও প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন।  অনশনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি সরকার মেনে না নিলে ড. কামাল হোসেন তাদের পক্ষে উচ্চ আদালতে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল শনিবার ড. কামাল হোসেনের মতিঝিল চেম্বারে বৈঠক করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা। এদিকে এমপিওভুক্তির দাবিতে ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আমরণ অনশন অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবের উল্টো পাশের রাস্তায় ১৩তম দিনের মতো আমরণ অনশন করছেন তারা। অনশনরত শিক্ষকরা জানান, গত ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতিতে আমরা এমপিওভুক্তির দাবিতে রাজপথের আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। এরপরও আমরা বিভিন্ন কর্মসূচিতে পুলিশি আটকের শিকার  হয়েছি। তাই গত ২৫ জুন থেকে আমরা বাধ্য হয়ে এ কর্মসূচি পালন করা শুরু করেছি। আমরা অনশনরত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা গত ২০ থেকে ২৫ বছর আগে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে শিক্ষকতা করে আসছি। কিন্তু শিক্ষকরা সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এক টাকাও বেতন পান না।
তারা বলেন, ৭ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রীও তার বক্তব্যে শিক্ষকদের গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী প্রহসনের এমপিও নীতিমালা করে শিক্ষকদের রাজপথে ঠেলে দিয়েছেন। এমপিওভুক্তির বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছেন। তাহলে আমরা যারা আগে নিয়োাগপ্রাপ্ত হয়েছি তারা কী করব? দেশের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষকের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত করুণ ও অবজ্ঞার। এ অবস্থায় আমরা নিজেদের পরিবারে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি। অপরদিকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যদাও নেই। একটি স্বাধীন দেশে জাতি গড়ার কারিগররা সরকারের অবিবেচক সিদ্ধান্তের কারণে তিলে তিলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অথচ রাষ্ট্র নীরব, মনে হচ্ছে এ শিক্ষকদের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।
গত ১০ জুন থেকে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন তারা। সে অনুযায়ী আন্দোলনের আজ ২৮তম দিন এবং আমরণ অনশন কর্মসূচির ১৩তম দিন। আর আমরণ অনশনের ১৩তম দিনে এসে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদ্দুন্নবী ডলার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায়ের নেতৃত্বে এই আমরণ অনশন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে ওই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে  ড. কামাল হোসেন শিক্ষকদের দাবি দাওয়ার বিষয় বিভিন্ন আইনি বই, তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করেন। ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক দল গণফোরামের কয়েকজন নেতাও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে ড. কামাল হোসেন সারাবাংলাকে জানান, বেশ কয়েকজন শিক্ষক তার চেম্বারে এসেছিলেন। শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষকরা চাইলে তিনি দাবির বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাবেন। এছাড়া তিনি যে কোনো সময় শিক্ষকদের কর্মসূচিতে গিয়ে একাত্মতা জানাবেন। এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা গত ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের উত্তরপাশে সড়কের পাশে টানা অবস্থান করছেন। গত ১৩ দিন ধরে শিক্ষকরা অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনশন করার পর প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা অনশন ভেঙে বাড়ি ফিরে যান। চলতি অর্থ বছরের বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন। শিক্ষকরা বলছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ