ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তিস্তায় পানি বৃদ্ধিতে কাউনিয়ায় বন্যা চরাঞ্চলের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রপুর অফিস : ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার পরেই এবারে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা হচ্ছে কাউনিয়া।
ইতোমধ্যে উপজেলার ঢুষমারা চর, গনাই চর, বিশ্বনাথ, টাপুর চর ও নদী তীরবর্তী নি¤œাঞ্চলের গ্রামের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। ডুবে গেছে চরের বেশির ভাগ রাস্তাঘাট ও আবাদি জমি। প্রবল স্রোতের কারণে তিস্তা ব্যারেজের সব কয়েকটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে বলে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, গত বুধবার থেকে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বৃহস্পতিবার বিকালে নদীর পানি কিছুটা কমে । কিন্তু গতকাল শনিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ঢুষমারা চর, চর গদাই ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এই ইউনিয়নের ৮শ’ পরিবারের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম সফি জানান, টেপামধুপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা তিস্তা নদী বেষ্টিত। বেশ কয়েকটি চর আছে। গত তিনদিন ধরে নদীর পানি বেড়েই চলেছে। বন্যায় চর আজম খাঁ, চর গনাই, চর বিশ্বনাথ, চর গনাই, চর হয়বৎখাঁ, টাপুর চর সহ বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল এর প্রায় ১ হাজার পরিবারের প্রায় ৭ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম নাজিয়া সুলতানা জানান, বন্যা মোকাবিলায়  সরকারিভাবে সকল ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আশা করি, কোনো সমস্যা হবে না বন্যা কবলিত এলাকায় খোঁজ খবর রাখার জন্য চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, শনিবার ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার দশমিক ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ৫০ দশমিক ৬৬ সেন্টিমিটার মাত্রায় প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল স্রোতের কারণে তিস্তা ব্যারেজের সব কয়েকটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে ভাটিতে পানি বেড়েছে ও ভাটির চরাঞ্চল ও তীরবর্তী নি¤œাঞ্চল গ্রামগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ