ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় কাঁচা মরিচে ডাবল সেঞ্চুরি!

খুলনা অফিস : দফায় দফায় বাড়ছে কাঁচা মরিচের দাম। এক কথায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে কাঁচা মরিচের বাজার। বাজার দর মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচে আবারও ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছে। দেশি মরিচের সংকটের অজুহাতে ইচ্ছামাফিক দাম বাড়িয়ে দিয়েছে পাইকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে একশ’ টাকা।
নগরীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি কাঁচা মরিচ ২শ’ টাকা এবং ভারতীয় কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি দেশি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে একশ’ টাকা দরে। এছাড়া তিন দিন আগে দেশি মরিচ বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজি দরে। গেল বছর জুনের প্রথম সপ্তাহে প্রতি কেজি দেশি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নিচু অঞ্চলে অধিকাংশ জায়গায় মরিচ গাছ মরে গেছে। এ কারণেই মরিচের বাজার আকাশচুম্বি।  তবে পর্যাপ্ত ভারতীয় মরিচ (এলসি) সরবরাহ হলে দাম নেমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীরা।   
নগরীর ময়লাপোতাস্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজারের বিক্রেতা মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ভাই অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ জায়গায় মরিচ গাছ মরে গেছে। ফলে বাজারে দেশি কাঁচা মরিচের সংকট দেখা দিয়েছে।  এ কারণেই দাম বেড়েছে। তিনি জানান, গত তিন দিন আগে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
আরেক ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিচু অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে মরিচের সংকট দেখা দিয়েছে। কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ হয়েছে বলেও জানান তিনি। আরও বলেন, এক সপ্তাহ আগে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে একশ’ টাকা কেজি দরে। অথচ সেই মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২শ’ টাকা। বাজারে ভারতীয় কাঁচা মরিচের খুব অমিল। নেই বললেই চলে। দাম বাড়ার এটাও একটি কারণ।
অপর ব্যবসায়ী আব্দুর রব বলেন, ভারতীয় কাঁচা মরিচের সরবরাহ খুবই কম। গত বৃহস্পতিবার রাতে মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন পাইকারী কাঁচা বাজারে কিছু ভারতীয় মরিচের আমদানি হয়েছে। ভারতীয় মরিচের সরবরাহ একটু বেশি হলেই দেশি মরিচের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে তিনি দাবি করেন।
নগরীর কেসিসি সন্ধ্যা বাজারে আসেন আলেয়া খাতুন। তিনি একশ’ টাকা দিয়ে আধা কেজি দেশি কাঁচা মরিচ ক্রয় করেছেন। তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আধা  কেজি মরিচের দামে দুই কেজি চাল কেনা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে মরিচের বাজার। একইভাবে বাজার করতে আসা মো. মনিরুল ইসলাম ৫০ টাকা দিয়ে আড়াইশ’ গ্রাম দেশি কাঁচা মরিচ কিনেছেন। তিনি বলেন, কাঁচা মরিচের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসা প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ