ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সোনারগাঁয়ে যুবলীগ নেতার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

রুহুল আমিন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বৈদ্যোরবাজার খেয়া ঘাটের ইজারা বাতিল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন এবং  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করলেও ইজারা বাতিল হয়নি ও চাঁদাবাজিও চলছে আগের মতোই। এলাকাবাসী গত বৃহস্পতিবার সকালে সোনারগঁ প্রেসক্লাবের সামনে এ মনববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন। মানববন্ধন কর্মসূচিতে যারা বক্তব্য রেখেছিলেন আল্টো তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন জাকির।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার কু-খ্যাত চাঁদাবাজ ও রিপন, সাধন, গোলজার, মোহাম্ম আলীসহ প্রায় ৫-৬টি  হত্যার মূলহোতা জাকির ওরফে পলিথিন জাকির পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদটি বাগিয়ে আনার পর থেকে আরো ব্যাপোরোয়া হয়ে গেছে। এখন সেই জাকির চাঁদাবাজি, দখল বাজি টেন্ডারবাজি ও প্রয়োজনে মাডার করতেও পারে। প্রশাসন কেন নিরভ ? জাকির হোসেন বৈদ্যের বাজার খেয়া ঘাট তার ভাগিনা সৈকতের নামে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে টোল আদায়ের জন্য ৫লাখ টাকায় ইজারা নেয়। ইজারা নেওয়ার পর থেকে ঘাটের সীমানার বাইরে মাছ ঘাট, দোকানপাট, ট্রাক স্ট্যান্ড, সিএসজি, অটোরিক্সার স্ট্যান্ড, মেঘনা নদীর বালুবাহী, মালবাহী সকল বাল্কহেড, জাহাজ থেকে চাঁদা আদায় করে। এতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। চাঁদাবাজির প্রতিকার চেয়ে খেয়া ঘাট ইজারা বাতিলের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার সকালে সোনারগাঁ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছিল।
মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তারা বলেন, ট্রলার ঘাট ও মাছ ঘাটের অনুদানের টাকায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসা প্রায় ৩০বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী এ অনুদানের টাকা লুটে নিয়ে যাচ্ছে। মানববন্ধন শেষে এলাকাবসী সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
 স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী উল্লেখ করেন, বৈদ্যের বাজার খেয়া ঘাটটি জেলা পরিষদ কর্তৃক ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারার সাথে জড়িত সোনারগাঁ উপজেলার কান্দারগাঁও গ্রামের চিহ্নিত নৌ-চাঁদাবাজ জাকির হোসেন ওরফে পলিথিন জাকির। খেয়াঘাটের চুক্তি নামা সম্পদান না করেই এবং জেলা পরিষদ কর্তৃক আনুষ্ঠানিক ভাবে দখল বুঝাইয়া দেওয়ার পুর্বেই ইজারাদারদের লোকজন খেয়াঘাট সংলগ্ন মাছের বাজার, তরকারির বাজার, ট্রাক স্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ড ও মেঘনা নদীর নৌ পথে চলাচলকৃত সকল নৌ-যান থেকে জোর পুর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে, যা ইজারার শর্ত বিরোধী। এ অবস্থার এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় সংঘর্ষের ও প্রাণহানীর আশংকার রয়েছে। বিগত দিনে পলিথিন জাকিরের কারনে কান্দারগাঁও এলাকায় রিপন, সাধন, গোলজার, মোহাম্ম আলীসহ প্রায় ৫-৬টি  হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
 সম্প্রতি মেঘনা নদীতে চলাচলরত একটি জাহাজের শ্রমিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তার চাঁদাবাজীর মূল হোতা শামীম শ্রমিকদের পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় জাহাজের মাষ্টার নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন।
 অভিযুক্ত জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি আমার ভাগিনার নামে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ঘাট ইজারা নিয়ে টোল আদায় করে আসছি। আমি ঘাটের বাইরে কোন প্রকার টোল আদায় করি না। বৈদ্যোরবাজার এলাকার হামিদুল, হিরুসহ কয়েকজন আমার কাছ থেকে ৫লাখ টাকা দাবি করে। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
এ বিষয়ে মল্লিক মঞ্জুর হিরু বলেন, জাকিরের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসীকে নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিপালন করায় এখন আমাদের নামে এ চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে থানায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি বলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ