ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নাটোরে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নাটোর সংবাদদাতা : নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আম বাগান থেকে রতন আলী (২৫) নামের এক যুবকের রশিতে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে বাগাতিপাড়া মডেল থানা পুলিশ এ লাশ উদ্ধার করে। নিহত রতন আলী জামনগর ইউনিয়নের পশ্চিম কালিকাপুর গ্রামের মান্নান আলী মানার ছেলে। জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে সবার অগোচরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরেনি রতন। পরদিন শনিবার সকালে তার বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে  আনন্দ কুমার এর আম বাগানে গাছের ডালের সাথে গলায় রশিতে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মানিক থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। এ ব্যাপারে মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার চৌধুরী এলাকাবাসীদের বরাত দিয়ে জানান, রতন দীর্ঘ দিন থেকে মাদকাসক্ত এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবেনা বলে জানান তিনি।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
নাটোরের গুরুদাসপুর রোজী-মোজাম্মেল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহিম হোসেনের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারীরা। কলেজে সংরক্ষিত ও সাধারণ তহবিলের প্রায় ২১ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করেছেন। এছাড়া অধ্যক্ষ তার চাকরি মেয়াদোত্তীর্র্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্বপদে বহাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রসাশনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল দশটায় কলেজটির সামনে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচি শেষে শিক্ষকদের পক্ষে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ মাজেম আলী স্বাক্ষরিত একটি স্বারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অধ্যক্ষ ইব্রাহীম স্ব-পদে বহাল থেকে কলেজে অবস্থান নিয়ে বিধিবর্হিভুতভাবে জুনিয়র শিক্ষক মায়া রানী চক্রবর্তীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন আচরণ এবং এর আগেও ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দুই শিক্ষকের বেতন ভাতা বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকদের পক্ষে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, সহকারী অধ্যাপক এ এইচ এম একরামুল হক খোকন, সহকারী অধ্যপক রুহুল করিম আব্বাসী, প্রভাষক মো. মজিবর রহমান ও প্রভাষক জয়নাল আবেদীন দুলাল। বক্তারা ওই অবৈধ ও দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহিম হোসেনকে কলেজ থেকে সরানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, কলেজে এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন ৩২ জন এছাড়া নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ৬০ জন। তবুও তিনি নতুন করে অনার্স বিষয়ে নিয়োগের জন্য আর্থিক লেনদেন করেছেন। বর্তমানে মেয়াদ শেষ হলেও তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। বরং কলেজের সহকারি অধ্যপক মায়া রানী চক্রবর্তীকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেন। এব্যাপারে অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ৭ জুলাই পর্যন্ত অধ্যক্ষ হিসেবে তার চাকরির মেয়াদ ছিল। টাকা আত্মসাত হয়ে থাকলে কমিটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন। তিনি আরো বলেন, কলেজ পরিচালনা কমিটি তাকে অতিরিক্ত আরো দুই বছরের জন্য অধ্যক্ষের পদ বর্ধিত করেছেন। এব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন হলেই অধ্যক্ষ হিসেবে চাকরিরত থাকতে পারবেন বলে তিনি জানান। 
বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা
পেল যুথী খাতুন
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল যুথী খাতুন (১৭) নামের এক কলেজ ছাত্রী। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়াড়  ইউনিয়নে এ বিয়ে বন্ধ হয়। যুথী খাতুন ওই ইউনিয়নের কামার পাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে। সে ফাগুয়াড়দিয়াড় মহিলা বিএম কলেজের  প্রথম বর্ষের ছাত্রী। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয় সূত্র জানায়, যুথী খাতুন এর বিয়ে একই এলাকার আলম আলীর ছেলে মেহেদী হাসান এর সঙ্গে ঠিক করেন তার পরিবারের লোকজন।  শুক্রবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সে উপলক্ষে কনের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু বিষয়টি জানতে পেরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা খাতুনকে বিয়ে বাড়িতে পাঠান। তিনি সেখানে গিয়ে কনের বাবা-মা এবং পরিবারের সকলকে বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে অবহিত করলে ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত তারা মেয়ের বিয়ে দিবে না বলে মুচলেকা দেন। তারপর ঘটনাটি বর পক্ষকেও জানানোর ব্যবস্থা করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ