ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিরিয়ার দৌমায় ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে পর্যবেক্ষক সংস্থা

৭ জুলাই, এএফপি : সিরীয় শহর দৌমায় নার্ভ এজেন্ট হামলার কোনও প্রমাণ পায়নি রাসায়নিক অস্ত্র পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব ক্যামিকেল উইপন্স (ওপিসিডব্লিউ)। গত শুক্রবার সংস্থাটি জানিয়েছে, এই বছরের এপ্রিলের ৭ তারিখে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরীয় শহরটিতে সম্ভবত বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল। ওপিসিডব্লিউ’র এক অন্তবর্তী প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

দৌমায় ওই হামলায় ৪০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকরা সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ তুলেছিল। ওই ঘটনা তদন্ত করছিল ওপিসিডব্লিউ। তদন্ত চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যৌথভাবে সিরিয়ার আসাদ সরকারের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। দাবি করা হয়, আসাদ সরকারের তিনটি রাসায়নিক অস্ত্র কেন্দ্র ধংস করা হয়েছে।

দৌমায় রাসায়নিক হামলার অভিযোগ উঠলেও প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল শুরু থেকেই। ওপিসিডব্লিউ’র তদন্তকারীদের দৌমায় প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকার করে সিরীয় সরকার। কয়েক সপ্তাহের দর কষাকষির পর অবশেষে সেখানকার সাতটি স্থান থেকে একশোরও বেশি নমুনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় তদন্তকারীরা।

ওই নমুনা পর্যবেক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে অন্তবর্তী একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওপিসিডব্লিউ। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘পরিবেশ থেকে নেওয়া নমুনা বা সম্ভাব্য আক্রান্তদের কোষের নমুনা পর্যবেক্ষণের ফলাফলে দেখা গেছে সেখানে অর্গানোফসফরাস নার্ভ এজেন্ট বা এ থেকে উৎপাদিত পণ্য সেখানে ব্যবহৃত হয়নি।’

তবে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঘটনা অনুসন্ধানকারী দল বিস্ফোরণের অবশেষ থেকে ক্লোরিন থেকে উৎপাদিত রাসায়নিক খুঁজে পেয়েছে। ওপিসিডব্লিউ বলছে, এ থেকে বোঝা গেছে কিছু নমুনায় ক্লোরিনের সক্রিয় উৎস বিস্ফোরিত হওয়ার চিহ্ন রয়েছে, তবে পরিবেশে মুক্তভাবে ক্লোরিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

রাসায়নিক নিরস্ত্রীকরণে কাজ করা সংস্থাটি বলছে, এই ফলাফলের তাৎপর্য প্রতিষ্ঠায় তাদের দল কাজ করে চলেছে।

দৌমায় হামলার বিষয়ে উদ্ধারকারী ও চিকিৎসকরা বলে আসছেন, একটি আবাসন ব্লকের ছাদের ওপরে একটি সিলিন্ডার নিক্ষিপ্ত হলে অনেকে নিহত হন। ওই বাড়ি ও অপর একটি অ্যাপার্টমেন্টে বিছানায় আরেকটি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এছাড়া যেসব হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল সেসব জায়গাও পরিদর্শন করে তদন্তকারীরা। মোট ৩৪ জনের সাক্ষাৎকার নেয় তারা।

এসব সিলিন্ডারের উৎপত্তি কোথায় তা জানতে বিশেষজ্ঞদের সর্বাত্মক বিশ্লেষণ দরকার বলেও জানিয়েছে ওপিসিডব্লিউ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ