ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জামালপুরে বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ॥ হাফডজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পানি

ইসলামপুর (জামালপুর) সংবাদদাতা : পাশের দেশ ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ও গত দু’দিনের বর্ষণে জামালপুরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার সার্বিক বন্যার পরিস্থিতি অবনতি ঘটেছে। বন্যার পানিতে আকস্মিকভাবে প্লাবিত হচ্ছে বিশেষ করে জেলার ইসলামপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল।

জামালপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) পানি মাপক গেজ পাঠক আশরাফুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘন্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ৩৫সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে যমুনা নদীর বিপদ সীমা ছুঁই-ছুঁই করছে। যে ভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে তাতে আগামী ২৪ ঘন্টায় বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হবে। 

সরেজমিনে জানা যায়, যমুনা তীরবর্তী ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলী জমি ও রাস্তা ঘাটে পানিতে ভাসছে। ইসলামপুরের চিনাডুলী ইউনিয়নের ডেবরাইপ্যাচ বাজার এলাকায় ব্রিজের অ্যাপরোজ ধ্বসে রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। দক্ষিণ চিনাডুলী গ্রামের রাস্তটি বন্যার পানির প্রচন্ড স্রোতে ভেঙ্গে ওই গ্রামের হাসত আলী, সিরাজ বেপারী, তোতা বেপারী, শাহাজাদা বেপারী, রেজাউল করিম, লালমিয়ারসহ অনেকের বসতভিটা বিলিন হয়ে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চিনাডুলী এসএন উচ্চ বিদ্যালয়, চিনাডুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিনাডুলী দেওয়ানপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, ডেবরাইপ্যাচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম বলিয়াদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে ঢুকে পড়েছে।

চিনাডুলী  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জানান, বন্যার পানিতে রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ইউনিয়ের বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ পথচারীদের যাতায়াত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষদের মাঝে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। 

এ বিষয়ে জামালপুর পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার চৌধুরী বন্যার পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, কয়েকটি বিদ্যালয়ের মাঠে বন্যার পানি ঢুকে পড়ার খবর পেয়েছি। 

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বন্যকবলীত এলাকা আমাদের বিশেষ নজরদারি রয়েছে। বানভাসি মানুষের পাশে আমরা সব সময় আছি। জামালপুর সংরক্ষিত আসনের এমপি মাহজাবিন খালেদ বেবী মোশাররফ জানান, জামালপুর জেলাটি দেশের বৃহতর দু’টি নদী দ্বারা আক্রান্ত। একটি হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র। অপরটি যমুনা। একারণেই অতিসহজেই এলাকা বন্যাবকলীত হয়ে পড়ে। আমরা সব সময় বন্যাবকলী এলাকার খোঁজ খবর নিচ্ছি। আসলামপুর আসনের এমপি আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল জানান, জেলা মধ্যে ইসলামপুর উপজেলা টি সব চেয়ে বন্যাকবলীত এলাকা। বানভাসী মানুষ যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সেজন্য আমাদের চিন্তার রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ