ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাশিয়াকে হারিয়ে সেমিতে ক্রোয়েশিয়া 

ক্রোয়েশিয়া ২ (৪) :  রাশিয়া ২ (৩)

কামরুজ্জামান হিরু : টাইব্রেকারে স্বাগতিক রাশিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ২-২ গোলে ড্র ছিল। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হলো টাইব্রেকারে। ভাগ্য লড়াইয়ে অবশেষে ৪-৩ গোলে হার মানে স্বাগতিকরা। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।  

সোচিতে শুরু থেকেই আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে চলতে থাকে ম্যাচ। বল পজিশনে এগিয়ে থাকা ক্রোয়েশিয়াকে চমকে দিয়ে আয়োজক সমর্থকদের উল্লাসের মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন ডেনিশ চেরিশেভ। ৩১ মিনিটে আটেম ডিজুবার কাছ থেকে বল পেয়ে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডারকে ভরকে দিয়ে বাঁ পায়ে দুর্দান্ত গোল করেছেন এই ভিয়ারিয়াল তারকা। গোলবারের বাঁ প্রান্তের উপরে কোণা বরাবর একেবারে নিখুতভাবে বল জালে জড়িয়েছেন এই রাশিয়ান মিডফিল্ডার। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে চার গোল করে গোল্ডেন বুটের তালিকায় ঢুকে গেলেন তিনি।

গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই সমতায় ফিরেছে ক্রোয়েশিয়া। ডি বক্সের ভেতরে গালবারের বাঁ প্রান্ত থেকে আলতো করে মানজুকিচের পাস থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়েছেন ক্রামারিচ (১-১)। রাশিয়ার সমর্থক শিবিরে নিরবতার উপলক্ষ্য নিয়ে আসে ক্রোয়েশিয়া। সেই সাথে বিশ্বকাপে দলের হয়ে সপ্তম খেলোয়াড় হিসেবে গোল পেয়েছেন এই ক্রোয়েশিয়ান। তাদের উপরে আছে বেলজিয়াম। একই বিশ্বকাপে সেমি ফাইনালের আগে নয়জন খেলোয়াড় গোলের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। প্রথমার্ধ ১-১ গোলে সমতায় থেকে শেষ হয়।  

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বড় সুযোগটা পেয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ৬০ মিনিটে ডি বক্সের ভেতরে সুবর্ণ সুযোগ পান পেরেচিচ। সিক্স ইয়ার্ডের সামনে থেকে বল নিয়ন্ত্রণে রেখে গোলবারের বাঁ পাশে কোনা বরাবর মাটি কাঁপানো শট নেন এই ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার। কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি তার। বারে লেগে বল চলে যায় বাইরে। ৯০ মিনিটের খেলা শেষ ১-১ সমতায় রেখে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়ের  ১০ মিনিটে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। লুকা মদ্রিচের কর্নার থেকে আলতো হেডে বল জালে জড়ান ডমেগজ ভিদা ২-১। ১১৫ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় আবার। সমতায় আসে স্বাগতিকরা। ডি বক্সের বাইরে থেকে নেয়া ফ্রি-কিক থেকে আলতো হেডে সমতায় ফেরে রাশিয়া (২-২)। এলান ডিজেগোয়েভের ক্রস থেকে মারিয়া ফার্নান্দেজের হেডে গোলটি করেন।টাইব্রেকারে ইভান রাকিটিচের শটের পরই জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। টাইব্রেকারেও নাটকের পর নাটক। রাশিয়ার প্রথম শটটাই ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক সুবাসিচ। ক্রোয়েশিয়ার ব্রজোভিকের শট জড়িয়ে যায় রাশিয়ার জালে ১-০। পরের শট নেন জাগোয়েভ। এই শটটি জড়িয়ে যায় জালে ১-১। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে শট নিতে আসেন কোভাসিচ। কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন রাশিয়ার গোলরক্ষক আকিনফিভ ১-১।রাশিয়ার হয়ে পরের শট নিতে আসেন মারিও ফার্নান্দেজ। যার গোলে সমতায় ফিরেছিল রাশিয়া। কিন্তু, তিনি বলটি মেরে দেন বক্সের বাইরে। ১-১। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে শট নিতে আসেন লুকা মদ্রিচ। তার শট ঠেকিয়ে ছিলেনও আকিনফিভ। কিন্তু বল হাতে লেগে চলে যায় ভেতরে। ২-১। রাশিয়ার হয়ে ইগনাসেভিক স্কোর করেন। ২-২। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে পরের শটে গোল করেন ভিদা ২-৩। রাশিয়ার হয়ে পরের শট নেন কুজায়েভ। এটা ছিল রাশিয়ার শেষ শট এবারও গোল ৩-৩। ক্রোয়েশিয়ার ইভান রাকিটিচর শট জালে ৪-৩। জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে পুরো ক্রোয়েশিয়া শিবির। নিথর-নিস্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্যালারি। কান্নায় ভিজে যায় রাশিয়ান সমর্থকদের চোখ।

উল্লেখ্য ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম আবারও সেমিফাইনালে উঠলো ক্রোয়াটরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ