ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেসিসির ১৪৫১ কোটি টাকার দু’টি প্রকল্প অনুমোদিত

খুলনা অফিস: জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে ৮৪৩ কোটি এবং ধ্বংস প্রাপ্ত সড়ক মেরামত ও উন্নয়নে ৬০৮ কোটি টাকার দু’টি প্রকল্পের অনুমোদন মিলেছে।
মঙ্গলবার এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ প্রকল্প যাচাই বাছাই কমিটির সভায় এ অনুমোদন পায়। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশন হয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় যাবে এ প্রকল্প দু’টির প্রস্তাব।
জানা গেছে, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে নগরবাসী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ময়ূর নদীসহ ১২টি খাল খনন করা হয়। কিন্তু নগরীর বিভিন্ন অংশে যুক্ত অন্য ৭টি খাল করা হয়নি। এ ছাড়া খনন কাজে অনিয়মসহ নানা কারণে দুই বছরের মধ্যে ময়ূর নদী ভরাট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীতে এখন হাঁটু পানি জমে যায়। এ অবস্থায় সদ্যসমাপ্ত কেসিসি নির্বাচনে বিজয়ী হলে ২২টি খাল পুনঃখনন করে নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন নব-নির্বাচিত মেয়র। তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কেসিসি’র প্রকৌশল বিভাগকে নতুন প্রকল্প তৈরির নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী ৮৪৩ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করা হয়। এ প্রকল্পের মূল অংশে রয়েছে ৯টি প্রধান সড়কের ৬২ কিলোমিটার এলাকায় প্রাইমারি ড্রেন নির্মাণ। এতে ব্যয় হবে ২৪০ কোটি টাকা।
অপরদিকে, নগরীতে তালিকাভুক্ত সড়ক রয়েছে ১ হাজার ২১৫টি। এসব সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২০৫ কিলোমিটার। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির থোক বরাদ্দ থেকে প্রতিবছরই এসব সড়কের ছোট ছোট সড়ক সংস্কার করা হয়। কিন্তু বড় সড়ক সংস্কারের জন্য প্রকল্পের সাহায্য নিতে হয়। ২০১৪ সালে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটি অনুমোদন হয়নি। পরে আরও কয়েকটি প্রকল্প পাঠানো হলেও সেগুলোও অনুমোদন পায়নি। ফলে সার্বিক কাজ এক রকম মুখ থুবড়ে ছিল।
এ অবস্থায় নির্বাচনের কয়েক দিন পরই নব-নির্বাচিত মেয়র নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেরামতের জন্য প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ৫১৩টি এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৬০টিসহ মোট ৫৭৩টি সড়কের তালিকা তৈরি করা হয়। পরে এর ব্যয় নির্ধারণ করে ৬০৮ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। এরমধ্যে মুজগুন্নী মহাসড়ক (সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে নতুন রাস্তা), জলিল স্মরণী (বয়রা কলেজ মোড় থেকে রায়েরমহল হয়ে সিটি বাইপাস), মজিদ স্মরণি (শিববাড়ি মোড় থেকে বাস টার্মিনাল), এম এ বারী সড়ক (গল্লামারী থেকে বাস টার্মিনাল), বিআইডিসি রোড, পুরাতন যশোর রোড (ডাকবাংলো মোড় থেকে কাস্টমঘাট) সহ গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক এই প্রকল্প রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ