ঢাকা, রোববার 8 July 2018, ২৪ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তোফা-তহুরা খুলেছে ব্যাংক একাউন্ট

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: দেশব্যাপী আলোচিত কোমরে জোড়া লাগানো থেকে আলাদা করা যমজ দুই বোন তোফা-তহুরার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সরকারি , বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন, দানশীল ব্যক্তির দেয়া আর্থিক সহায়তার টাকা জমা রাখার জন্য একাউন্ট খুলেছে ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড সুন্দরগঞ্জ শাখায়।  গত বৃহস্পতিবার তোফা-তহুরা তার মা ও বাবার কোলে করে ব্যাংকে আসলে জনতা উপচে পড়া ভীড় করে। ব্যাংক ব্যবস্থাপক এ এইচ এম রাশেদুল ইসলাম তোফা-তহুরাসহ  বাবা-মাকে তাঁর কক্ষে নিয়ে একটি সঞ্চয়ী হিসাব নং (১৫৬৭২) খুলে দেন। এরপর ওই একাউন্টে তোফা-তহুরার চিকিৎসার জন্য দেয়া ডার্চ বাংলা ব্যাংকে ১ লাখ এবং  মেঘনা ব্যাংকের ৫০ হাজার টাকার চেক জমা করা হয়। তোফা-তহুরার মা শাহিদা বেগম এবং বাবা সাজু মিয়া জানান- চিকিৎসার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়া চেক জমা দেয়ার জন্য ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে।
ভাল আছে তোফা-তহুরা। বর্তমানে নানার বাড়িতে আনন্দে দিন কাটছে তাদের। সর্বশেষ ঢাকায় টানা সাড়ে চার মাস চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামের নানার বাড়ীতে ফিরেছে তোফা-তহুরা। কিন্তু বাড়িতে  বিদ্যুৎ না থাকা কারণে গরমে দুই বোন প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। সে কারণে বিশেষ নির্দেশনায় গত ৯ মার্চ  তোফা-তহুরার নানার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। তোফা-তহুরার কারণে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হওয়ায় এলাকাবাসী আনন্দিত।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তোফা-তহুরাকে দেখতে এসে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগকে তোফা-তহুরার বাড়িতে দ্রুত বিদ্যুতের সংযোগ প্রদানের আদেশ দেন। ওই সময় ইউএনও গরমের কষ্ট থেকে রেহাই পেতে তাদের বাড়ীতে ৫০ ওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ লাগিয়ে দেয়।
বাড়ীতে ফিরলেও নিয়মিত তোফা-তহুরার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাহনূর ইসলাম। তাদের দু’জনকে ভালো রাখতে সবসময় মুঠোফোনে মা শাহিদা বেগমকে পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।
মা শাহিদা বেগম বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন তোফা-তহুরার যেন কোন অযতœ না হয়। সবসময় যেন ভালো থাকে, সেভাবে রাখতে হবে। তিনি বলেন বর্তমানে তোফা-তহুরা ভাল আছে। নিয়মিত বুকের দুধ খাচ্ছে। পাশাপাশি অন্য খাবারও খাচ্ছে। তারা একটু-একটু করে হাটার চেষ্টা করছে। ক্যাথেটার দিয়ে তহুরাকে প্রসাব করাতে হচ্ছে। এ ছাড়া আর কোন সমস্যা নাই। তোফা-তহুরার জন্মের ৬ মাস আগে থেকে শাহিদা বেগম তার বাবা শহিদুল ইসলামের বাড়িতে রয়েছে।
তোফা-তহুরার চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাহনূর ইসলাম  জানান- তোফা-তহুরা এখন ভালো আছে। তহুরার প্রস্রাবের একটু ইনফেকশন  রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া আছে। এ ছাড়া তাদের দু’জনকে ডেভেলপমেন্টাল থেরাপির জন্য সাভার সিআরপিতে (পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে) পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন তাদের ওজন সাত কেজি করে রয়েছে। ওজন ১০ কেজি হওয়ার পরে তাদের আবারো অপারেশন করা হবে। এখন থেকে প্রতিমাসে চেকআপের জন্য তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একবার আসতে হবে। এর আগেই যদি অসুস্থ হয়, তখন আগে আসবে।
দেশব্যাপী আলোচিত এই জমজ শিশু তোফা-তহুরার এমন অপারেশন দেশে এইবারই প্রথম। তাই যে কোন উপায়ে তাদের দু’জনকে সুস্থ রাখা চিকিৎসকদের জন্যও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কোমরে জোড়া লাগানো অবস্থায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে নানার বাড়িতে তোফা ও তহুরার জন্ম হয়। মিড়িয়ায় বিষয়টি আলোচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাদেরকে ৭ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর  ১৬ অক্টোবর তাদের  প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়।
 ২০১৭ সালের ১ আগষ্ট তাদেরকে আলাদা করার জন্য করা হয় দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার। পরে সুস্থ হলে সে বছরেরই ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় ফেরে তোফা-তহুরা।  আবারও তহুরা অসুস্থ্য হলে ২০১৭ সালের  ৮ অক্টোবর তহুরাকে ঢাকায় নেওয়া হলে সাড়ে চার মাস চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ীতে ফেরে জমজ দু’বোন তোফা-তহুরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ