ঢাকা, সোমবার 9 July 2018, ২৫ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গুহায় আটকে পড়া কিশোরদের উদ্ধারে অভিযান

৮ জুলাই, বিবিসি : থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহায় আটকে পড়া ১২ কিশোর ও ফুটবল কোচকে উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে উদ্ধারকারী দল গুহায় প্রবেশ করে।

উদ্ধারকারী দলে বিদেশী ১৩ জন ডুবুরি ও থাই নৌবাহিনীর পাঁচজন ডুবুরি রয়েছেন।

গত ২৩ জুন বেড়াতে গিয়ে সেখানে আটকে পড়ে ১২ কিশোর এবং তাদের ফুটবল কোচ। তারা গুহায় ঢোকার পর হঠাৎ ভারী বৃষ্টি এবং এতে সৃষ্ট বন্যায় ডুবে যায় গুহামুখ। ভেতরেও ঢুকে পড়ে পানি।

ধারণা করা হচ্ছিল, এই গুহায় কিশোরের দল মাসব্যাপী থাকতে পারবে। তবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, আবারও বৃষ্টির পানি গুহায় ঢুকে যেতে পারে। তাই দ্রুত তাদের বের করে আনতে আজকের এ উদ্ধার অভিযান।

গত শনিবার উদ্ধারকারী দলের প্রধান বলেছিলেন, বর্ষা শুরু হতে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আটকে পড়াদের উদ্ধারের জন্য তাদের হাতে তিন থেকে চার দিন আছে।

অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে গুহার প্রবেশমুখের কাছের এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে। সরিয়ে নেওয়া হয় উদ্ধারকারী দলের বাইরের সব লোকজনকে। এখন সেই এলাকায় কেবল ডুবুরি দল, চিকিৎসক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীরা রয়েছেন। ডুবসাঁতারের মাধ্যমে তাদের বের করে আনার কথা ভাবা হয়েছিল প্রথমে। কিন্তু বেশির ভাগ কিশোর সাঁতার জানে না। ডুবসাঁতারের মাধ্যমে কীভাবে পাঁচ-ছয় ঘণ্টার কাদাযুক্ত ও অনেক স্থানের সংকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে তারা বাইরে আসবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে সামান কুনান নামের এক ডুবুরি আটকে পড়াদের অক্সিজেন সরঞ্জাম দিয়ে ফেরার পথে মারা যান। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে গত শুক্রবার উদ্ধার পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। কিশোরদের কাছে পৌঁছাতে গুহার পাহাড়ের পেছনের দিকে অনেকগুলো জায়গায় খনন শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক গর্ত খনন করা হচ্ছে। তবে আজ ঠিক কীভাবে এই কিশোরদের বের করে আনার চেষ্টা করা হবে, তা জানা যায়নি।

গুহা থেকে যেভাবে বের করে আনার চেষ্টা চলছে কিশোরদের

৮ জুলাই রবিবার দিনটিকেই মোক্ষম সময় হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে থাইল্যান্ডের গভীর গুহায় আটকে পড়া ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়েছে। ঠিক কী উপায়ে তাদের বের করে আনা হবে, সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গুহার ভেতর গভীর পানিতে ডুবুরিদের সহায়তায় এবং অল্প পানিতে হেঁটে তাদের বের করে আনা হবে। ১৩ জন উচ্চ প্রশিক্ষিত বিদেশী ও পাঁচজন থাই নেভি উদ্ধারকারী ডাইভার এ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। একে একে সব কিশোরকে বের করে আনতে তিন-চার দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা এ অভিযানকে ‘হয় এখনই, নয়তো কখনোই নয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গত ২৩ জুন ফুটবল অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী কোচসহ ওই ১২ কিশোর ফুটবলার গুহাটির ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর বের হতে পারেনি। এরপর থেকে টানা ৯ দিন নিখোঁজ ছিল তারা। থাইল্যান্ড সরকার তাদের উদ্ধারে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গত ৩ জুলাই দুজন ব্রিটিশ ডুবুরি গুহার বেশ কয়েক কিলোমিটার ভেতরে গিয়ে প্রথম তাদের খুঁজে পান। এরপর তাদের খাবার ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ করা হচ্ছে অক্সিজেন। 

প্রতিজন কিশোরের সঙ্গে দুজন করে ডুবুরি থাকবেন। পুরো গুহার বিভিন্ন জায়গায় বাড়তি অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই যাত্রাপথে অক্সিজেন সংকটে পড়তে না হয়। বিবিসির একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ১৫ দিন ধরে গুহায় আটকে থাকা কিশোরদের নিয়ে ফেরার পথে গুহার একটি জায়গায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হবে। পরে সেখান থেকে শেষ দফা যাত্রায় তাদের বাইরে বের করে আনা হবে। বাইরে আনার পর সোজা হাসপাতালে পাঠানো হবে কিশোরদের।

আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, অভিযানের শুরুতে পানির নিচে সংকীর্ণ পথ পাড়ি দিতে হবে কিশোরদের, যেটিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে কিশোরদের বের করে আনার সময় থেকে তাদের দীর্ঘ সময় অক্সিজেন মাস্ক পরে পানির নিচে ডুব দিতে হবে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা তাদের কারোরই আগে ছিল না। গুহার প্রবেশপথ থেকে ‘তৃতীয় চেম্বার’ বা অভিযান শুরুর এলাকার দিকে যেতে হলে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে উদ্ধারকারীদের। এ পুরো পথটুকু পুরোপুরি শুকনো নয়, তবে বেশিরভাগ হেঁটে পার হওয়া যাবে। আর ‘তৃতীয় চেম্বার’ থেকে শিশুদের কাছে পৌঁছাতে হলে তাদের যেতে হবে আরও ১.৭ কিলোমিটার। ওসাতানাকর্ন জানান, ‘গতকাল পানির উচ্চতা সবচেয়ে কম মাত্রার ছিল।’ তবে ওই শনিবার শিশুদের তৃতীয় চেম্বারে আসতে ১.৭ কিলোমিটার পথ পুরোটা সাঁতরে আসতে হবে কিনা তা জানাননি ওসাতানাকর্ন। তিনি বলেছেন, বেশিরভাগ পথই হেঁটে পার হওয়ার উপযোগী। শনিবার থেকে পানির উচ্চতা ৩০ সেন্টিমিটার কমেছে। উদ্ধার অভিযানের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ওসাতানাকর্ন বলেন, ‘প্রস্তুতির মানে হলো অনুকূল আবহাওয়া, পানি ও বাচ্চাদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ