ঢাকা, সোমবার 9 July 2018, ২৫ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বৃহত্তর চট্টগ্রামে সব বেসরকারি হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেবা বন্ধ

নুুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে চিকিৎসার অবহেলায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন র‌্যাবের (র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটেলিয়ন) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। ত্রুটিপূর্ণ লাইসেন্সে অদক্ষ-অনভিজ্ঞ ডাক্তার-নার্স দ্বারা পরিচালনার দায়ে ম্যাক্স হাসপাতালকে এই অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ওই হাসপাতালে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় র‌্যাবের অভিযান শুরু হয় এবং শেষ হয় বিকেল তিনটায়।
র‌্যাব-৭ এর সিনিয়ার সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান জানান, অভিযানে ম্যাক্স হাসপাতালে বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাবে ব্যবহৃত উপকরণ, ওষুধ এবং হাসপাতালের নথিপত্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র পরীক্ষা করে দেখা হয়। 
অভিযান শেষে বিকালে শহরের মেহেদীবাগ এলাকার ম্যাক্স হাসপাতালের নিচতলায় এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম বলেন, অভিযানে তারা ম্যাক্স হাসপাতালে বিভিন্ন রকমের অনিয়ম ও গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছেন। দশ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি গাফিলতি সংশোধনের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযানে পাওয়া অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ম্যাক্স হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাবে যথেষ্ট দক্ষ জনবল নেই। বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাবে এইচএসসি পাস লোকজন চাকরি করছে। এখানে মিনিমাম স্নাতক ডিগ্রিধারী বা বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্নদের কাজ করার কথা। এখানে বায়োকেমিস্ট ও মাইক্রোবায়োলজিস্টও নেই।
একটি হাসপাতাল চালাতে হলে নমুনা পরীক্ষার নিজস্ব ব্যবস্থা থাকার নিয়ম থাকলেও মাক্সে সে নিয়ম অনুসরণ করা হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, রোগ নির্ণয়ে বিভিন্ন স্যাম্পল কালেকশন করে তারা চট্টগ্রাম ও দেশের বাইরের বিভিন্ন ল্যাবে পাঠিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিজেদের নামে রিপোর্ট দেয়। অনেকটা কমিশন এজেন্টের মত তারা কাজ করে।
বেসরকারি হাসপাতালে সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ম্যাক্সের নিচতলায় র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসা পাওয়া সংবিধানের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। এটা ব্যাহত করতে চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ওপর ক্ষমতাশালী কেউ নয়। সবাই আইন মানতে বাধ্য। প্রয়োজনে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দুই একটা বন্ধ হয়ে গেলে মঙ্গল।
বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পলিসি লেভেলে আলোচনা করতে চাইলে সরকারের সাথে করতে পারেন। কিন্তু আমাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তদারকিতে বাধা দিতে চাইলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাউকে সরকার ছিনিমিনি খেলতে দেবে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ডা. দেওয়ান মাহমুদ মেহেদি হাসান ব্রিফিংয়ে বলেন, তদারকি একটি আইনি প্রক্রিয়া। এটা চলমান থাকবে। এ সময় ওষুধ প্রশাসন চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক গুলশান জাহান উপস্থিত ছিলেন।
বৃহত্তর চট্টগ্রামে সব বেসরকারি হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেবা বন্ধ : ম্যাক্স হাসপাতালে এই অভিযানের  প্রতিবাদে বৃহত্তর চট্টগ্রামে সব বেসরকারি হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন মালিকরা। রোববার দুপুরে নগরীর জিইসি মোড়ে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) কার্যালয়ে এক সভা শেষে ম্যাক্স হাসপাতালের পরিচালক প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড ল্যাব ওনারস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, হাসপাতালগুলোতে আগেই ভর্তি হওয়া রোগীরা এই ঘোষণার আওতায় পড়বেন না। তাদের চিকিৎসা চলবে।
মামলা করবেন রাইফার বাবা : ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার রুবেল খান। সাংবাদিক রুবেল খান বলেন, চিকিৎসকের অবহেলায় রাইফার মৃত্যু হয়েছে এটি এখন প্রমাণিত। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষজ্ঞ দল তাদের তদন্ত প্রতিবেদনেও রাইফার মৃত্যুতে চিকিৎসকের অবহেলা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। যাদের অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে তাদের অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ