ঢাকা, সোমবার 9 July 2018, ২৫ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে চীন ও ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে

সংসদ রিপোর্টার: রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে মিয়ানমারের প্রতিবেশী প্রভাবশালী চীন ও ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষকরা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের অনাগ্রহে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন তারা।
মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক ড. মং জারনির নেতৃত্বে ৮ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এই আশ্বাস দেন। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- মাইকেল চারনি, মানবাধিকার কর্মী রাজিয়া সুলতানা, খিন মাই অং, রোহিঙ্গা বিষয়ক আইনবিদ নুরুল ইসলাম, মিচিমি মুরানুশি, ডরিন চ্যান প্রফেসর ফ্রেডরিক জন প্যাকের প্রমুখ।
সাক্ষাৎকালে ড. মং জারনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করলেও তা বাস্তবায়নে মিয়ানমার যথেষ্ঠ আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে মিয়ানমারের প্রতিবেশী প্রভাবশালী চীন ও ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে অতিথিদের অভিভাদন জানিয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারকে সুনির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক অনুসরণের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর সময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তন চায়। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে- প্রয়োজন মিয়ানমারের আন্তরিকতা। তিনি রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরোধ জানান।
ড. শিরীন শারমিন বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারের সাথে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি সম্মান রেখে  মিয়ানমার  রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্পিকার বলেন, সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমসহ আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ইতোমধ্যে সরেজমিনে রোহিঙ্গাদের অবর্ননীয় দূঃখ-দূর্দশা পরিদর্শন করে গেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ