ঢাকা, সোমবার 9 July 2018, ২৫ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এমপিওভুক্তির দাবি আদায়ে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা

নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছে ১৪ দিনের মতো। ছবিটি গতকাল রোববার তোলা -সংগ্রাম

#  সমস্যা সমাধানে শিক্ষক-কর্মচারীদের তিন প্রস্তাব
স্টাফ রিপোর্টার : স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত বাস্তবায়নের দাবি আদায়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারের শিক্ষক ও কর্মচারীরা এ কর্মসূচি পালন করে আসছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সমস্যা সমাধানে তিনটি পৃথক প্রস্তাব দিয়েছে বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনরত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। আংশিক বেতন হলেও এই অর্থবছরেই এমপিওভুক্তির আওতায় বেতন-ভাতার দাবি শিক্ষক-কর্মচারীদের।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তার অপরপাশে গতকাল রোববার ১৪তম দিনের অনশন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এ ছাড়া দ্বিতীয় দফায় আন্দোলনের গতকাল ২৯তম দিন। গত ১০ জুন থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের ফুটপাতে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসা শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল রোববার শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইনের সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করে তিন প্রস্তাব পেশ করেন।
আমরণ অনশনকারী শিক্ষকরা জানান, যথাযথ শর্ত মেনেই ২৭ হাজার ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি মিলেছিল। কিন্তু মেধা, শ্রম দিয়েও বেতন পান না শিক্ষক-কর্মচারীরা। কারণ এমপিওভুক্তি না থাকা। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণাকে সাধুবাদ জানালেও জারি করা এমপিও নীতিমালা-২০১৮ মানতে রাজি নন শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, আগে এমপিওভুক্তি করা হোক, এরপর সব ধরনের শর্তই মানতে রাজি আমরা।
তারা বলেন, আমাদের দাবি একটাই এমপিওভুক্তি। ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এতো দিনেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলন, অনশন পালন করছি। এ সময় লিখিত এক বক্তব্যে ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, আমরা ঈদ করেছি রাস্তায়। ২৯ দিনেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের ঊর্ধ্বতন কেউ আমাদের সমবেদনা জানাতে পর্যন্ত আসেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দুই শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা নিয়ে ফের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। শিক্ষকরা আর চিকিৎসা নিতে চান না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রয়োজনে ধুকে ধুকে নিঃশেষ হয়ে যাবেন তবুও রাজপথ ছাড়বেন না।
এদিকে আগামীকালের মধ্যে যদি সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসে তবে আমরণ অনশনের চেয়েও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার চিন্তা করছি বলে জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায়। তিনি বলেন, আমরা আর কী করতে পারি? শিক্ষক হয়ে তো আর আন্দোলনের নামে হাঙ্গামা করতে পারি না। অথচ সেই সুযোগটাই বুঝি নেওয়া হচ্ছে। আমরা আর কতো সহ্য করব? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে, ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে, বাড়ি-ঘর-সংসার-পরিবার ছেড়ে ঢাকায় ২৯ দিন হচ্ছে। কাল এক মাস হবে। আমরা যদি দাবি আদায়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা না পাই তবে আরো কঠোর কর্মসূচি দেব। এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প দেখছি না। শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গ আলোচনা করে সুস্পষ্ট কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোকারম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দ্বিতীয় দফায় আন্দোলনের ২৯তম দিন অতিবাহিত হচ্ছে। আমরণ অনশনের ১৪তম দিন চলছে। অথচ এমপিওভুক্তির সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই। তিনি আরও বলেন, গত ৫ জুলাই বিকেলে শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইনের আমন্ত্রণে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে সচিব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে আলোচনার আহ্বান জানালে প্রতিনিধি দল পূর্ববর্তী ২৭ বার আন্দোলনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, এর আগেও আমরা অনেকবার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি কিন্তু সেই আশ্বাসের কোনো বাস্তব প্রতিফলন ঘটেনি। তাই এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আলোচনার পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে।
 মোকারম হোসেন বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে এমপিও নীতিমালায় আপত্তির প্রেক্ষিতে বিকল্প প্রস্তাব আহ্বান করায় সংগঠনের দুইজন প্রতিনিধি প্রস্তাবনা প্রেরণ করতে গতকাল রোববার বিকেলে সচিবালয়ে যান। তারা হলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ও যুগ্ম সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তারা তিনটি প্রস্তাবনা পেশ করেছেন।
প্রস্তাবনা তিনটি হচ্ছে- ১. স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য একমাত্র নীতি হবে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি। যার মাধ্যমে অতীতে সারা দেশের ২৮ হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে পাঁচ হাজার ২৪২টি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পূর্বের এমপিওভুক্তির নীতিতে এমপিওভুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী তার একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসানকে পাঠিয়ে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি আমাদের এমপিওভুক্তির দাবি মেনে নিয়েছেন। ২. বরাদ্দকৃত অর্থ অপর্যাপ্ত হলে বর্তমান অর্থবছরেই (২০১৮-২০১৯) সকল নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওর আওতায় এনে আংশিক বেতন চালু করা যেতে পারে। পরবর্তী অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) আংশিক বেতনের সমন্বয় সাধন করা। ৩. দীর্ঘ ১৫-২০ বছর এমপিওভুক্ত না হওয়ায় আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাই করার উদ্দেশ্যে এমপিওভুক্তির পর কমপক্ষে তিন বছর সময় প্রদান। এসময়কালে সক্ষমতা অর্জনে ব্যর্থ হলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত ১০ জুন থেকে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ