ঢাকা, সোমবার 9 July 2018, ২৫ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেসিসি কলেজিয়েট গার্লস স্কুল নির্মাণে অননুমোদিত রড ও পাথরসহ কাঁচামাল সরবরাহের অভিযোগ

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে শিল্পাঞ্চল খালিশপুরে কেসিসি কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও তা নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। ইতোমধ্যে ৩০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। তবে, প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অননুমোদিত রড, পাথরের খোয়াসহ নাানভাবে অনিয়ম করার চেষ্টা করছে। যা স্বয়ং মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের হাতে ধরা পড়েছে। তিনি নির্মিতব্য কলেজ ভবন পরিদর্শনে গেলে অননুমোদিত রড ধরা পড়ে। মেয়র তাৎক্ষণিক এ রড ফেরত দিয়ে অনুমোদিত রড সরবরাহের জন্য প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেন।

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. লিয়াকত আলী খান তাৎক্ষণিক ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করে অননুমোদিত রড ফেরত নেয়ার জন্য বলেন। এদিকে নকশার বাইরে দ্বিতীয়তলার বর্ধিতাংশে ছাদ দেয়ার বিষয়টি মেয়র আপত্তি জানান। নকশা না থাকায় এ ছাদ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেন মেয়র। এর আগে ট্রাকভর্তি অননুমোদিত পাথরের খোয়া কাজের সাইটে আনলোড করার সময় প্রকৌশলীরা তা হাতেনাতে ধরে ফেরত দেন। পাথর সরবরাহের কথা ছিল থ্রি ফোর সাইজের। কিন্তু ঠিকাদার ওভার সাইজের পাথর সরবরাহ করে। এছাড়া মূল ঠিকদার মাসেও একবার কাজের সাইটে যান না। এমন কি তার কোনো লোক পর্যন্ত কাজের সাইটে নেই। সাব কন্ট্রাক্টর কাজ দেখভাল করছেন। এতে করে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে বলে জানান খালিশপুর নিউমার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মিনহাজুর রহমান উজ্জ্বল। তিনি বলেন, কাজ খুবই ধীরগতিতে এগুচ্ছে। এতে করে নির্ধারিত সময়ে কলেজের কাজ শেষ করা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ঠিকাদারের রড দেয়ার কথা ছিল বিএসআই কোম্পানির ৫ এমএম কিন্তু সরবরাহ করছেন এসটিআরএম কোম্পানির রড। এ রড মেয়র ফেরত দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৩০/৩৫ হাজার টাকা হবে। এ সময় প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান মেয়রের সাথে ছিলেন। রোববার ছাদের দ্বিতীয় অংশ ঢালাই দেয়ার কথা রয়েছে।

ভারতীয় অর্থায়নে খালিশপুর নিউমার্কেটে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কলেজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ২৮ অক্টোবর’১৭ কলেজ ভবন নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। নানা কারণে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যাবে না। তবে আগামী বছর ডিসেম্বর মাস নাগাদ ভাবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প পরিচালক কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান। এ হিসেবে ২০২১ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী। এতে করে অবহেলিত খালিশপুরবাসীর স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১১ কোটি ৯৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে খালিশপুর কলেজিয়েট স্কুলটি পাঁচতলা ফাউন্ডেশন নেয়া হয়েছে। প্রথমে চারতলা ভবন করা হবে। পরে বাকী একতলা অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে করা হবে। ২০১৪ সালে ভারত সরকার দেশের তিনটি সিটি কর্পোরেশনে তাদের অর্থায়নে তিনটি কলেজিয়েট গার্লস স্কুল করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নিকট প্রস্তাব দেয়। সে মতে, খালিশপুর ১১নং ওয়ার্ডে নিউ মার্কেটে হাউজিং-এর জমিতে কলেজটি করার জন্য নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। ১০০/৫০ ফিট বিল্ডিং-এ প্রাথমিক পর্যায়ে এইচএসসি (একাদশ) শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে ওই কলেজে। শিক্ষাখাতে ভারত সরকারের অনুদান এটাই প্রথম। কলেজটিতে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকবে অধ্যক্ষের বাসভবন, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ক্রয়, ফার্নিচার ও স্কুল বাস। এগুলো কলেজ ভবন নির্মাণের সাথে ব্যয় ধরা হয়েছে বলে জানান কেসিসির কেসিসির নির্বাহী-২ প্রকৌশলী লিয়াকত আলী খান।

কেসিসি সূত্রে জানা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এশিয়া-২ শাখার সহকারী প্রধান গত ৬ মার্চ’১৭ কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চিঠি দেন। ওই চিঠিতে ভারতীয় অনুদানে খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়িতব্য ‘খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ইন খুলনা সিটি কর্পোরেশন এরিয়া’ শীর্ষক প্রকল্পের এমওইউ সাক্ষরের বিষয় উল্লেখ থাকে। সে মতে, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে এ সমঝোতা চুক্তি গত ২২ মার্চ সাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভারত সরকার খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল নির্মাণে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অনুকূলে ১১ কোটি ৯৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করে।

প্রকল্প পরিচালক ও কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান বলেন, প্রকল্পে উল্লেখ রয়েছে আগামী ডিসেম্বর’১৮ মাস নাগাদ কলেজের কাজ শেষ করতে হবে। যেহেতু সমঝোতা চুক্তি সাক্ষর ও অর্থপ্রাপ্তির ব্যাপারটি বিলম্বিত হয়েছে তাই নির্ধারিত সময়ে কলেজের কাজ শেষ করা যাবে না। এ জন্য সময় বাড়াতে আবেদন করা হয়েছে। তিনি সময় দেড় বছর বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেন কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সে আবেদন রিজেক্ট করে দিয়ে তারা সময় এক বছর বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সে মতে আগামী ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ কলেজ ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ হবে না। ইতোমধ্যে ৩০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল ভবনের একতলাসহ প্রিন্সিপাল কোয়ার্টার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে একটি সূত্র জানায়, একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে বাকী আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে আরও এক বছর সময় লাগবে। সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, সমঝোতা চুক্তির ধারাবাহিকতায় কলেজ ভবন নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে। বর্তমান মেয়রের পাশাপাশি নতুন মেয়র সম্প্রতি নির্মিতব্য কলেজভবন পরিদর্শনে যান। তিনি প্রকৌশলীদের কাজের মান নিশ্চিত করতে তাগাদা দেন। এ জন্য কোনো ধরনের বাধা আসলে তাকে অবগত করার জন্য বলেন। খন্দকার শাহিন আহমেদ এন্টারপ্রাইজ হচ্ছে এ ভবন নির্মাণের ঠিকাদারী ফার্ম। এখানে শুধু মেয়েদের এইচএসসি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ থাকবে। ১২শ ৪০ জন শিক্ষার্থী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রথম পর্যায়ে চারতলা সম্পন্ন করা হবে। ১০ হাজার বর্গফুট জমিতে ভবন নির্মাণ ও ১ হাজার বর্গফুট জমি খেলার মাঠের জন্য থাকবে। মোট জমির পরিমাণ ৭৮ কাঠা। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, কাজের মান নিশ্চিত করতে দুইজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে এ কাজ তদারকির দায়িত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদার তসলিম আহমেদ আশা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজের সাইটে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ