ঢাকা, সোমবার 9 July 2018, ২৫ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় নিবন্ধন ছাড়াই রমরমা আউটসোর্সিং ব্যবসা

খুলনা অফিস : খুলনায় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কর্মী সরবরাহ বা আউটসোর্সিং ব্যবসা করছে, এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানে পাঁচ শতাধিত। কিন্তু এর মধ্যে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) নিবন্ধন নিয়েছে মাত্র ৬টির। বিদ্যমান শ্রম আইনে নিবন্ধন নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানছে না এ ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো।
গত দুই দশকে দেশে আউটসোর্সিং ব্যবসার ব্যাপকতা বেড়েছে। শুরুতে আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় সেবা প্রদানকারী কর্মীরা দেশের প্রচলিত শ্রম আইনের আওতায় না থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবরাহ করা আহত ও নিহত কর্মীদের দায়িত্ব নেয়ার মতো কোনো কর্তৃপক্ষ পাওয়া যায়নি।
এ প্রেক্ষাপটে, ২০১৩ সালে সংশোধিত শ্রম আইনে তাদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আর ২০১৫ সালে শ্রমবিধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতাও তৈরি হয়।
সংশোধিত শ্রম আইন ২০১৩ তে বলা হয়, অন্য কোন আইনে যাহাই থাকুক না কেন, কোন ঠিকাদার বা আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যাহা বিভিন্ন সংস্থায় চুক্তিতে বিভিন্ন পদে কর্মী সরবরাহ করে থাকে সরকারের নিকট হইতে রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে না।
আইনে আরো বলা হয়, এই আইনের অধীন এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণীত হইবার ৬ মাসের মধ্যে দেশে বিদ্যমান সকল ঠিকাদার সংস্থা সরকারের নিকট হইতে রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করিতে বাধ্য থাকিবে। ঠিকাদার সংস্থা দ্বারা সরবরাহকৃত শ্রমিকগণ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের শ্রমিক হিসেবে গণ্য হইবেন এবং শ্রম আইনের আওতাভুক্ত থাকিবেন। কিন্তু গত ৫ বছরে খুলনা থেকে মাত্র ৬টি প্রতিষ্ঠান কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) নিবন্ধন নিয়েছে।
আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় খুলনার শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, ব্যাংক বীমার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মী, ক্লিনার ও গাড়িচালক থেকে শুরু করে এমনকি ভাষমান শ্রমিকদের ও আউটসোসিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কর্মী সরবরাহ করে এ ব্যবসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো।
ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আউটসোর্সিং ব্যবসার ব্যাপকতা যেভাবে বেড়েছে। সেই সাথে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি ও চাহিদাও। কিছু লোভী আউটসোর্সিং ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবারহকৃত ভাসমান এসকল শ্রমিকরা এখনও ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায় ও অর্থ সংকটে।
একাধিক সূত্র জানায়, পদ্মা অয়েল কোম্পানী লি., মেঘনা অয়েল কোম্পানী লি.,যমুনা অয়েল কোম্পানী লি., জুটমিল, শিল্প প্রতিষ্ঠান, চিংড়ি কোম্পানীগুলোসহ নগরীতে খুলনায় প্রায় পাঁচশ’র অধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা নামে বে নামে অবৈধ ভাবে আউট সোর্সিং এ ব্যবসা করছে। এ সকল লোভী ব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের বেতন থেকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কেটে নিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবু নাসের হাসপাতালের একজন আউট সোর্সিং কর্মচারী এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিমাসে ১৬ হাজার টাকা বেতন দেয়। কিন্তু আমাদের আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান আমাদের মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা দেয়। যা দিয়ে আমাদের একজনের সংসার ও চালান সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ মহা পরিদর্শক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত খুলনা থেকে মাত্র ৬ টি প্রতিষ্ঠান আইন অনুসরণ করে নিবন্ধন নিয়েছে। শ্রমিকদের এ সকল বৈষম্য দূর করতেই আমরা খুব দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধ ভাবে আউটসোর্সিং এ ব্যবসা করছে তাদের কে শ্রম আইন অনুসরণ করতে বাধ্য করা হবে । তবে ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদন করছে। নিবন্ধনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ঢাকা অফিস সরাসরি দেখে থাকে আমরা শুধুমাত্র অডিট করে থাকি বলে তিনি জানান।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খুলনা অঞ্চলের ৬টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে লাইসেন্স গ্রহণ করে আউটসোর্সিং ব্যবসা করছে। এর মধ্যে রয়েছে, এল আর ইন্টারন্যাশনাল, ফুলবাড়ীগেট, খুলনা। মেসার্স এম এম ট্রেডার্স, বিএফআইডিসি রোড, খুলনা। খুলনা সিকিউরিটি সার্ভিস প্রা. লি., যশোর রোড, খুলনা। প্রাইড সিকিউরিটি সার্ভিস, খানজাহান আলী রোড, খুলনা। মেসার্স হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজ, যশোর রোড, খুলনা। জেরিন সিকিউরিটি সার্ভিস, যশোর রোড, খুলনা।
আবু নাসের হাসপাতালের আউটসোর্সিং ব্যবসা করছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টি,ফোর,এস ইন্টারন্যাশনাল প্রা.লি. এর পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন থেকে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি কিন্তু এখন ও পাইনি। তবে খুব দ্রুত পেয়ে যাবেন বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।
এ ব্যাপারে আউট সোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করীম বলেন, আমার একজন স্থায়ী শ্রমিকের থেকে বেশি কাজ করি । তার পর কেন একজন শ্রমিকের নুন্যতম মজুরী আমরা পাইনা। প্রতিনিয়ত আমরা নানা রকম বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ