ঢাকা, সোমবার 9 July 2018, ২৫ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফটিকছড়ির নাজিরহাট-কাজীরহাট সড়ক চলাচলের অযোগ্য

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট-কাজীরহাট রামগড় সেকশন-১ সড়ক দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শংকা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। হালদা ও মন্দাকিনী খালের করাল গ্রাসে সড়কটির বিভিন্নস্থানে ভাঙ্গন চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়া পুরো সড়ক জুড়ে খানাখন্দকে  চলাচলের অযোগ্য হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে সড়কটি। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং ঝুঁকি নিয়ে চলছে শত শত যানবাহন।
ঢাকা-চট্টগ্রামের বিকল্প সড়ক ও উত্তর ফটিকছড়ির অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
খানাখন্দকে ভরে গেছে সড়কের বিভিন্নস্থান। বিগত ৫ বছর ধরে সকড় সংস্কার না হওয়া ভারী বর্ষণের ফলে, সড়কটি নাজিরহাট কলেজের দক্ষিণ পাশ এলাকা থেকে কাজীরহাট প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক হালদা ও মন্দাকিনী খালে বিলীন হচ্ছ। ফলে  যে কোন সময় সম্পূর্ণপরুপে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শংকা প্রকাশ করছে এলাকাবাসী। সম্প্রতি উক্তস্থানে দুটি মালবাহী গাড়ি উল্টে গিয়ে খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক- চাঁদের গাড়ী ইট-বালি নিয়ে যাওয়ার ফলে সড়কটি সহজেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সড়কটির উপর বিভিন্নস্থানে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।  প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে ভারী যানবাহন যেমন পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি অটোরিকশা, ভটভটি চলাচল করলেও বর্তমানে নাজিরহাট কলেজেরর উত্তর পূর্বপাশে উক্ত সড়ক হালদা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় বড় যানবাহন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
সড়কটির নাজিরহাট কলেজের গেইটের উত্তর-দক্ষিণ পাশ, মান্দাকিনী খালের ব্রিজটিও ঝুর্কিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাশে নির্মিত ব্রীজের কাজ চলছে ধীরগতিতে। ব্রীজ থেকে টেকের দোকান, বিটিশ কাশেমের বাড়ীর রাস্তার থেকে সুয়াবিল ইউনিয়ন পর্যন্ত যে খানাখন্দকে ভরে গেছে দেখে একেকটি মিনি পুকুর মনে হবে। স্কুল-কলেজ,মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার পথচারী প্রতি-নিয়ত দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীরা বলেন, বিটিশ কাশেম বাড়ীর সামনে সড়ক ভেঙ্গে অনেক বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সে গর্তে পড়ে অনেকেই হাত-পা ভেঙ্গেছে বেশ কয়েকটি অটোরিক্সা সিএনজি গাড়ী নষ্ট হয়েছে।
সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী এস এম টিপু চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় থাকলেও প্রশাসনের টিনের চশমা খোলেনি।বড় ধরনের দ্র্ঘুটনার অপেক্ষায় আছে হয়ত।
এ বিষয়ে নাজিরহাট পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হারুন  বলেন, গত কয়েকদিন  আগে নাজিরহাট পৌর সভার মেয়র এস এম সিরাজদ্দৌলাসহ উক্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে, বৃষ্টির জন্য ইট-বালির জন্য কাজ করা সম্ভব হচ্ছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে উক্ত সড়কের গর্তগুলো ভরাট করে চলাচলে উপযোগী করা হবে।
এলাকাবাসী ও পথচারী সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য ফটিকছড়ির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান।
উপজেলা প্রকোশলী শাহ আলম বলেন, সড়কটি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করছি। এবং খুব শীঘ্রই আমাদের উর্দ্ধতন  অফিসার সড়কটি পরিদর্শনে আসছেন।
এ ব্যাপারে নাজিরহাট পৌরসভা মেয়র এস এম সিরাজ-দ্দৌলা বলেন, সড়িকটি আমি পরিদর্শন করেছি। বিভিন্নস্থানের ছবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছি। এবং সড়কটি দ্রুত সংস্কারে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। এ ব্যাপারে উপেজেলা চেয়ারম্যান এম তৌহিদুল আলম বাবু বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি শীঘ্রই সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ