ঢাকা, মঙ্গলবার 10 July 2018, ২৬ আষাঢ় ১৪২৫, ২৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সামাজিক নিরাপত্তায় পরিবারকে স্থান দিন

আমার হোয়াটস অ্যাপে প্রবাসী এক বন্ধু একটি স্টোরি পাঠিয়েছেন। স্টোরিটি চমকপ্রদ ও শিক্ষণীয়। সুইজারল্যান্ডের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একজন ছাত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়েই এই স্টোরিটি, এটা তার পর্যবেক্ষণও বলা চলে। সেই দেশে পড়াশোনা কালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকতেন। তার বাড়িওয়ালীর নাম ছিল ক্রিশ্চিনা, ৬৭ বছরের বৃদ্ধা, সিঙ্গেল মহিলা। তিনি অবসরের আগে একটি স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে চাকুরি করতেন। সুইজারল্যান্ডের পেনশন ব্যবস্থা অত্যন্ত ভাল। এত ভাল যে অবসর গ্রহণকারীদের অবসরকালে খাওয়া পরা চিকিৎসার চিন্তাই করতে হয় না। শিক্ষার্থীর ভাষায় একটি ঘটনায় তিনি হঠাৎ কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় পড়ে গেলেন। তার ল্যান্ডলেডি ক্রিশ্চিনা ৮৭ বছর বয়সের এক বৃদ্ধকে দেখা শোনার চাকরি নিয়ে নিয়েছেন। তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হল এই কাজের বিনিময়ে তিনি বেতন নিবেন কিনা। তার উত্তরটি ছিল বিস্মিত হবার মতো। তিনি বললেন, আমি আমার এই সময়টি টাইম ব্যাংকে গচ্ছিত রাখি। বৃদ্ধ বয়সে আমি যখন চলাফেরা করতে পারবো না তখন এটি তুলে নিতে পারবো। টাইম ব্যাংকের এই ধারণাটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর কাছে ছিল সম্পূর্ণ নতুন। আমরা ব্যাংকে টাকা রাখি। আবার প্রয়োজনে গচ্ছিত টাকা চেক বা উইথড্রয়াল শ্লিপ দিয়ে উঠিয়ে নেই। কিন্তু টাইম বা সময় জমা দেয়ার জন্য কোনও ব্যাংক থাকতে পারে এবং সেখান থেকে আবার তা তুলে ব্যবহার করাও যায় এই ধারণা সম্পূর্ণ নতুন। বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য তিনি ক্রিশ্চিনাকে অনুরোধ করেন। ক্রিশ্চিনা জানান যে, মূল টাইম ব্যাংকটি হচ্ছে সুইস ফেডারেল মিনিস্ট্রি অব সোস্যাল সিকিউরিটি প্রবর্তিত বৃদ্ধ বয়সের একটি পেনশন স্কীম। যুবক বয়সে বৃদ্ধদের দেখাশোনা বা সেবাযত্ন করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সে দেশে যে সময়টা ব্যয় করে সে সময়টা তাদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়, যা বৃদ্ধ বয়সে অথবা অসুস্থ হলে কিংবা সেবা-শুশ্রুষার দরকার হলে তারা ফিরে পায়। এজন্য সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে তাদের আবেদন করতে হয়। আবেদনকারীদের সুস্বাস্থ্য, সদাচারণ এবং মমতাময়ী চরিত্রের অধিকারী হতে হয়। তাদের হাতে প্রতিদিন যে পর্যাপ্ত সময় আছে তারা তার একটা অংশ বৃদ্ধ, পঙ্গু ও  অসহায় লোকদের সেবার পেছনে বিনিয়োগ করেন। তাদের এই কর্মঘণ্টাসমূহ সামাজিক নিরাপত্তার অধীনে তাদের ব্যক্তিগত হিসাবে জমা করা হয়। ক্রিশ্চিনা সপ্তাহে দু’দিন কাজে যান এবং প্রত্যেকবার দু’ঘণ্টা করে সেই সাতাশি বছর বয়ষ্ক বৃদ্ধ ভদ্রলোকের সেবা করেন। তিনি তাকে কেনাকাটায় নেন, তার ঘর গোছিয়ে দেন, তাকে রোদ পোহায়ে আনেন এবং তার সাথে গল্প-গুজব করেন। চুক্তি অনুযায়ী এক বছর চাকরি শেষে টাইম ব্যাংক তার কর্মঘণ্টার হিসাব করে তাকে তার মূল কর্মঘণ্টার সাথে সুদ যোগ করে একটি কার্ড ইস্যু করবে, যার নাম টাইম ব্যাংক কার্ড। বৃদ্ধ বা অসুস্থ অবস্থায় যখন তার কারুর সাহায্যের প্রয়োজন হবে তখন তিনি টাইম ব্যাংকে বিষয়টি অবহিত করলে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে টাইম ব্যাংক তার বাড়িতে অথবা হাসপাতালে তার সেবা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করবে। একদিন একটি দুর্ঘটনা ঘটে। আমাদের শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে থাকাকালেই তার ল্যান্ডলোর্ড ক্রিশ্চিনার কাছ থেকে একটি টেলিফোন পান। ক্রিশ্চিনা তাকে জানান যে, তিনি একটি টুলের উপর উঠে জানালার কাঁচ পরিষ্কার করতে গিয়ে পড়ে ব্যাথা পেয়েছেন। তিনি তাকে বাড়ি আসার অনুরোধ করেন। অনুরোধ মতো বাড়ি এসে তিনি ক্রিশ্চিনাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ক্রিশ্চিনা তার পায়ের গোড়ালী ভেঙ্গে ফেলেছেন। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী এই অসহায় মহিলাকে সাহায্য করার জন্য ক্লাস থেকে কয়েক দিনের ছুটি নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি ক্রিশ্চিনার গোচরিভূত করা হলে ক্রিশ্চিনা তাকে ব্যস্ত না হওয়ার অনুরোধ করে ছুটি নেয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানান।
তিনি আরো জানান যে, তাকে যেহেতু কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হবে সেহেতু তিনি তার টাইম উইথড্রয়ালের জন্য টাইম ব্যাংকে অনুরোধ করেছেন। দেখা গেল দুই ঘণ্টার মধ্যে টাইম ব্যাংক তার সেবা করার জন্য হাসপাতালে একজন সেবিকা পাঠিয়েছেন। এর পরের মাসের প্রত্যেকটা দিন এই সেবাকর্মী তার সেবা করেছেন। তার সাথে গল্প স্বল্প করেছেন এবং তার জন্য সুস্বাদু খাবার রান্নাবান্ন করে দিয়েছেন। তার সেবাযতেœ শীঘ্রই ক্রিশ্চিনা সুস্থ হয়ে উঠেন এবং বাড়ি ফিরে পরদিন থেকেই কাজে যোগ দেন। অর্থাৎ সিডিউল অনুযায়ী সপ্তাহে দু’দিন করে ৮৭ বছর বয়স্ক বৃদ্ধের সেবা করা শুরু করেন। তার কথা হচ্ছে যখন সুস্থ আছি তখন অসুস্থ অবস্থার জন্য টাইম ব্যাংকে সময় গচ্ছিত করে রাখব যাতে করে অসময়ে কষ্টে পড়তে না হয়। আজকের সুইজারল্যান্ডের অবস্থা হচ্ছে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে পেনশন ব্যবস্থায় শুধু টাকা পয়সাই নয় সামাজিক ও পারিবারিক অনেক সমস্যারই সমাধান করা হয়। ঐ দেশের অনেক নাগরিকই বৃদ্ধদের এই পেনশন ব্যবস্থার সমর্থক। সুইস পেনশন সংস্থার এক জরিপে দেখা গেছে যে, দেশটির যুবক-যুবতিদের ৫০ শতাংশেরও বেশি টাইম ব্যাংকের পেনশন স্কীমের অধীনে কাজ করে সুযোগ সুবিধা দিতে ও নিতে চায়। সুইজারল্যান্ড সরকার আইন করে টাইম ব্যাংকের পেনশন ব্যবস্থাটি অনুমোদন করে নিয়েছেন।
আমাদের দেশে টাইম ব্যাংকের এই ধারণাটি কতটুকু যৌক্তিক এবং বাস্তব তা নিয়ে কেউ কেউ চিন্তা-ভাবনা করছেন। আমি আলোচনার শুরুতেই whatsapp message-এর কথা বলেছিলাম। দেশ-বিদেশের Participants’দের নিয়ে আমাদের একটি Friends group আছে। এই গ্রুপের অনেকেই Time Bank-এর এই Concept (কনসেপ্ট)-এ অভিভূত হয়ে বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে তা অনুসরণের সম্ভাব্যতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
বিষয়টি আমি একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাই। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যা কিছু করছেন তার সবকিছুকে আমি রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখতে চাই না। যদিও সরকার ও তার দল সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে রাজনীতি ঢুকিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি অবস্থার সৃষ্টি করে একটি লেজে গোবরে অবস্থা বানিয়ে ফেলেছেন। চলতি বছরের বাজেটে বেসরকারি খাতে পেনশনের যে ব্যবস্থাটি রাখা হয়েছে তাকে যদি সঠিক খাতে প্রবাহিত করা যায় তাহলে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আমরা একটি অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি।
সুইজারল্যান্ড একটি ছোট কল্যাণরাষ্ট্র। ইউরোপসহ বিভিন্ন মহাদেশে আরো অনেক কল্যাণ রাষ্ট্র আছে, যেখানে মানুষের তথা নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা বিশেষ করে অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান প্রভৃতির দায়িত্ব সরকারের। এটা ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য ছিল। এখন কোনো কোনো মুসলিম দেশে এর সবটা নয়, অংশবিশেষ চালু আছে। অষ্টাদশ শতাব্দীর পর থেকে মুসলিম প্রধান দেশগুলো ফ্রান্স, পর্তুগীজ ও ইঙ্গ-মার্কিন উপনিবেশে পরিণত হওয়ায় খেলাফত ব্যবস্থার পতনের ফলে এই দেশগুলো ব্যাপকভাবে শোষিত হয় এবং দরিদ্র রাষ্ট্রের কাতারে সামিল হয়। ফলে রাষ্ট্রব্যবস্থা উপনিবেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত হয় এবং এসব দেশ ব্যাপক শোষণের শিকার হয়। পরবর্তীকালে স্বাধীন হবার পর যেসব সরকার ক্ষমতায় আসেন তাদের ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনও এজেন্ডা ছিল না। আবার দারিদ্র্যও একটি কারণ ছিল। এই অবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য Islam যে সমস্ত Instrument ছিল যেমন জাকাত, ফিতরা, ওয়াক্ফ, দান সদকা প্রভৃতি মৌন হয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা থেকে তা বাদ পড়ে। সামাজিক নিরাপত্তার জন্য আমাদের আরেকটি রক্ষাকবচ ছিল এবং তা হচ্ছে আমাদের পরিবার। ইসলামের পরিবার ব্যবস্থা এবং আত্মীয়তার বন্ধন এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে, তা যদি সঠিকভাবে চলে তাহলে এই বন্ধনের ভেতর কেউই অসহায় থাকতে পারে না। এখানে দুর্বলকে সবলরা সাহায্য করবেন। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা এবং দুর্দশাগ্রস্ত আত্মীয়কে সাহায্য করার ওপর ইসলামে অগ্রাধিকার আরোপ করা হয়েছে। মানুষ সবচেয়ে বেশি অসহায় হয় বৃদ্ধ বয়সে। বৃদ্ধ পিতামাতার সেবা করা সন্তানের ওপর ফরয করা হয়েছে। একদিকে পিতামাতাকে বলা হয়েছে, তোমরা তোমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা দাও, তাদেরকে এমনভাবে তৈরি করো, যাতে তোমাদের মৃত্যুর পর তারা তোমাদের জন্য সদকায়ে জারিয়ায় পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে সন্তানদের বলা হয়েছে তোমাদের বৃদ্ধ পিতা-মাতার সাথে এমনভাবে আচরণ কর যাতে তারা উঃ শব্দটি করতে না পারেন। মেয়েরা বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। সেটাই তাদের স্থায়ী সংসার। পিতা-মাতার সংসার ছেলের সংসার হয়ে যায়। উত্তরাধিকার আইন আল্লাহতায়ালা এমনভাবে করেছেন যাতে ছেলেরা পিতা-মাতা ও বোনদের দেখভাল করার দায়িত্ব পালন করতে পারে। কোনও ব্যক্তি পুত্রহীন অবস্থায় শুধু কন্যা সন্তান রেখে মারা গেলে ভ্রাতৃহীন এই কন্যারা যাতে অসহায় অবস্থায় না পড়েন সেজন্য তার জ্ঞাতি ভাইদের উপরও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারের অংশ তারাও পান।
পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে (হাল আমলে প্রাচ্যেও কিছু কিছু দেখা যাচ্ছে) পরিবার প্রথা এখন প্রায় উঠে গেছে। সে সব দেশে বিবাহের পরিবর্তে লিভ টুগেদার প্রথা চালু হয়েছে। অনেকে কুকুর-বিড়াল নিয়ে থাকেন। আঠার বছর বয়স হলে সন্তানরা স্বাধীন, তারা আলাদা হয়ে যায়। বৃদ্ধ পিতা-মাতার দায়িত্ব তাদের নিতে হয় না। যেসব ছেলেমেয়ে আলাদা হয়ে যাচ্ছে চাকরি-বাকরি না পেলে তারা খাবে কি? বাপের সংসার তাদের দায়িত্ব নেয়না। কাজেই রাষ্ট্র তাদের জন্য বেকার ভাতা পদ্ধতি চালু করেছে। এর ভালো এবং খারাপ উভয় দিক আছে। তারা পয়সা পাচ্ছে এটা হচ্ছে ভাল দিক। রাষ্ট্র আলাদা হওয়া ছেলে-মেয়েদের উৎসাহ দিয়ে পরিবার ভাঙ্গতে সাহায্য করছে এটা হচ্ছে এর এক নম্বর খারাপ দিক। বেকার অবস্থায় বেতন পেলে কাজ করতে কে চায়? এতে জাতীয় উৎপাদন ব্যহত হয়। এটা হচ্ছে এর দু’নম্বর খারাপ দিক। পরিবার ভেঙ্গে পাশ্চাত্য এখন হু-হু করে কাঁদছে। লন্ডনের হাইডেল পার্কে একদিন বেড়াতে গিয়ে আমি এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। আমার সাথে আমার এক সুদানী বন্ধু ইউসুফু ডেং সেখানে ছিলেন। এক ব্রিটিশ ভদ্রলোক মাথায় হ্যাট, মুখে অগোছালো দাড়ি। বয়স আশির ওপরে। আমাদের সামনে এসে হাত পেতে বললেন, গিভ মি এ কুইড, আই ওয়ান্ট টু হ্যাভ এ ড্রিংক। আমাকে একটা কুইড দাও (স্থানীয় ভাষায় ব্রিটিশ পাউন্ডকে কুইড বলে) আমি এক পেগ মদ খেতে চাই। অবাক হলাম, ব্রিটেনে ভিক্ষুক আছে। কৌতুহলও হলো। পাশের বেঞ্চিতে তাকে বসতে বললাম। কথা হলো। তার বড় সন্তান (ছেলে) ব্রিটিশ আর্মির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। তার দেখা শোনা করেনা। আরেক ছেলে আফ্রিকার ঘানাতে ব্রিটিশ ওডিএর বড় অফিসার। তার সর্বশেষ দেখা হয়েছে ২০ বছর আগে। বড় ছেলের সাথে ৫/৭ বছর পর দেখা হয়। এই দেখা আত্মীয়দের মধ্যে কেউ মারা গেলে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হয়, তিনি বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন, যে বয়স্ক ভাতা পান তাতে কুলায় না, তাই পার্কে আসা লোকদের কাছ থেকে সাহায্য চান। কেউ দেয় কেউ দেয় না। পাশ্চাত্য ব্যবস্থার এই ভয়ঙ্কর দিকটি দেখে স্তম্ভিত না হয়ে পারিনি। পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের দেশের অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের অবস্থা বর্ণনা করে মাঝে মধ্যে কিছু রিপোর্ট ও ভিডিও ক্লিপ প্রকাশিত হয়। এগুলো মর্মান্তিক। ছেলের, ছেলের বউ-এর মার খেয়ে যখন এই হাড্ডিসার বুড়ো-বুড়িগুলো গড়াগড়ি খায় হৃদয়াশ্রু সংবরণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। বৃদ্ধাশ্রমগুলোর বাসিন্দাদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে তাদের সন্তানদের অবহেলা সম্পর্কে যেসব কথা বলেন, তা শোনার জন্য আমাদের সমাজের প্রস্তুতি নেই, কিন্তু রাষ্ট্রের অনেক কিছু করার আছে, করতে পারে।
আমি সুইজারল্যান্ডের পেনশন পদ্ধতি নিয়ে কথা শুরু করেছিলাম। তাদের পদ্ধতি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো না, তাদের পরিবেশ আলাদা। গরুর গাড়ির চাকায় হেলিকপ্টারের পাখা জুড়ে দিলে তা অভিনব একটি যান হবে না রাস্তায়ও চলতে পারবে না, আকাশেও উড়তে পারবে না।
আমাদের কাছে আমাদের যে পদ্ধতি তাই হচ্ছে সবচেয়ে ভালো। প্রয়োজন পারিবারিক মূল্যবোধগুলোর পুনরুজ্জীবন, প্রতিটি ক্ষেত্রে সেগুলোর অনুশীলন। সরকার তার প্রচার মাধ্যম এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তা সহজে করতে পারেন। আইন তো আছেই। আইনকে কার্যকর করার দায়িত্বও সরকারের। এই কাজে আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি আমরা ব্যবহার করি তাহলে শিগগির একটা সুফল পাওয়া যেতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ