ঢাকা, বুধবার 11 July 2018, ২৭ আষাঢ় ১৪২৫, ২৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সংসদ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের ইস্যু একটাই। সেই ইস্যুটি হচ্ছে যে, আমরা গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে চাই, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। তিনি বলেন, দেশনেত্রী কারাগারে যাওয়ার আগে ডাক দিয়ে গেছেন, সমগ্র জাতির কাছে বলে গেছেন, সব রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ডাক দিয়েছেন- এটা আমার একার সমস্যা নয়, বিএনপির সমস্যা নয়, জাতির সমস্যা। জাতি আজ অবরুদ্ধ, এদেশের মানুষের কথা বলার অধিকার নেই। সেগুলোকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমি আবারো দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানাবো দেশনেত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আপনারা সকলে একত্রিত হোন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ’৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তি এবং  তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এই আলোচনা সভা হয়। ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও নাজিমউদ্দন আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্র নেতা শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফজলুল হক মিলন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, খোন্দকার লুৎফর রহমান, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, আসাদুর রহমান খান, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, রফিক শিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নির্বাচন কমিশনের সচিবের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ অবলম্বের অভিযোগ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একজন সচিবকে দিয়ে আপনারা (সরকার) নির্বাচন কমিশন চালান। হেলালউদ্দিন (হেলালউদ্দিন আহমেদ) সাহেব। আমি আজকে কিছু কথা বলব। আমি সরি সাধারণত নাম বলি না।  উনি সচিবালয় থেকে এসেছেন এখানে (নির্বাচন কমিশন), বিশেষভাবে তাকে সচিব নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার কাজ হচ্ছে। এগুলো শুনেছি আমরা, এগুলো শোনা কথা, জানি না সত্য কি মিথ্যা তা বলতে পারবো না। কিন্তু যে কথা শোনা যায় বলা যায় যে সেগুলো সত্য হয়। তিনি (হেলালউদ্দিন) নির্বাচন কমিশনের অফিস করেন ৪টা পর্যন্ত। তারপরে তিনি চলে যান কোনো একটা বিশেষ দলের বিশেষ কার্যালয়ে। সেখানে তাদের দলের নির্বাচনের সমস্ত পরিকল্পনা তৈরি হয়। যেটার প্রধান হচ্ছে এইচ টি ইমাম সাহেব।
বিএনপি মহাসচিব বলেন,  নির্বাচন কমিশন  তৈরি করেছেন একটা। ওটা তৈরি করার চেয়ে না তৈরি করা ভালো ছিলো। এটার না আছে কোনো ব্যক্তিত্ব, না আছে কোনো শক্তি, না আছে কোনো যোগ্যতা। একটা নির্বাচন এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু করতে পারে নাই। প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে গেলে বলে উল্টো কথা।
একাদশ নির্বাচনের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পরিষ্কার কথা আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে কোনো নির্বাচনে যাবো না। সবার আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে এবং মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা অবশ্যই নির্বাচনে যাবো। সেই নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে, লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনের সময়ে নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে, সেনা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে- এসব হচ্ছে আমাদের নুন্যতম দাবি।
সরকার ‘গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র’কে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে আছে বলে মন্তব্য করে এর বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহবান বিএনপি মহাসচিব। সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। আপনারা আজকে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, বন্দুক পিস্তলকে ব্যবহার করে হুকুমের বলে আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।  একদিনের জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দেখেন না। দেখবেন। দেশের অবস্থা কি হয়? দেশের অবস্থা কোথায় নিয়ে গেছেন আপনারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরস কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন,  প্রক্টোরস কমিটি বলেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের এলাউ করা হবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো সমাবেশ কোনো কিছু করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বিদ্যাপিঠ নয়, শিক্ষা পিঠ নয়, মুক্ত চিন্তার আসল জায়গা। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষেত্র। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় বাংলাদেশকে, দেশের মানুষকে পথ দেখিয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয় আজকে বেড়ি পরিয়ে দিচ্ছে,  মুখে কুলুপ এঁটে  দিচ্ছে- কথা কেউ কইতে বলতে পারবে না। তাহলে কী? এটাও কিন্তু ওই ষড়যন্ত্রের একটা অংশ।
 কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ক্ষমতাসীন দলের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন,  এখন যারা কোটা আন্দোলন করছে তারা প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। একজনকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না, আরেকজন ১০ দিনের রিমান্ডে। আরেকজনের দুই পা ভেঙে দিয়েছে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে। তাহলে এই সরকার কি ধরনের সরকার, কাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য এখানে  কাজ করছে কী করতে চাচ্ছে- এটা বুঝার জন্য আমাদের কোনো উপলব্ধি প্রয়োজন হয় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ