ঢাকা, বুধবার 11 July 2018, ২৭ আষাঢ় ১৪২৫, ২৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আজ হজ্ব কার্যক্রম উদ্বোধন শনিবার ফ্লাইট শুরু

মিয়া হোসেন: চলতি বছর পবিত্র হজ্ব পালনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হজ্ব এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। আগামী শনিবার ভোরে বাংলাদেশ থেকে হজ্ব ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাত্রা শুরু করবে হজ্বযাত্রীরা। এ লক্ষ্যে আজ বুধবার রাজধানীর আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে হজ্ব কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর হজ্বযাত্রীরা জেদ্দায় যাত্রার প্রস্তুতি নিবেন। আজ থেকেই হজ্বযাত্রীরা ক্যাম্পে অবস্থান করতে পারবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ আগস্ট পবিত্র হজ্ব অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছেন এক লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজ্বযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ছয় হাজার ৭৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ্বে যাবেন এক লাখ ২০ জন। বেসরকারি ব্যবস্থায় ৫২৮টি হজ্ব এজেন্সি হজ্ব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে ৫৫ হাজার হজ্বযাত্রীর জন্য বিমানের টিকিট বুকিং দেয়া হয়েছে। প্রায় ২০ হাজারের মতো ভিসা লজমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি হজ্বযাত্রীদের জন্য সৌদি আরবে বাড়িভাড়া ও খাবারের জন্য ক্যাটারিংসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার এজেন্সিগুলোও বাড়ি ভাড়া সম্পন্নসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখনো অনেক এজেন্সির মালিকরা সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া ও মোয়াল্লেমদের সাথে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ করছেন। আজ বুধবার আশকোনায় হজ্ব ক্যাম্পে হজ¦ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজ¦ কর্যক্রম উদ্বোধন করবেন এবং হজ¦যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। আগামী শনিবার ১৪ জুলাই হজ¦ ফ্লাইট শুরু হবে। ফ্লাইট শুরুর দিনে সৌদিয়া ও বাংলাদেশ বিমানসহ ১০টি ফ্লাইট ঢাকা থেকে জেদ্দায় যাবে। ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে সৌদিয়া এয়ারের এসভি ৮০৩ ও বাংলাদেশ বিমানের সকাল ৭টা ৫৫মিনিটে বিজি ১০১১ ফ্লাইটে হজ্বযাত্রীরা সৌদি আরবে যাত্রা শুরু করবেন। হজ¦ ফ্লাইট  শেষ হবে ১৫ আগস্ট। হজে¦র ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২৭ আগস্ট এবং  শেষ হবে ২৫  সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ বিমান ১৮৭টি ফ্লাইটে ৬৪ হাজার ৯৬৭ জন হজ¦যাত্রী পরিবহণ করবে আর সাউদিয়া ১৮৮টি ফ্লাইটে ৬১ হাজার ৮৩১ হজ¦যাত্রী পরিবহন করবে।
এদিকে সাধারণ এজেন্সি মালিকরা বলছেন, বাংলাদেশে হজ্ব ব্যবস্থাপনায় সুন্দরভাবে প্রস্তুতি এগিয়ে যাচ্ছে। এতে মৌলিক কোন সমস্যা নেই। তবে সৌদি আরবে মোয়াল্লেমদের কাছ থেকে বেশকিছু অসহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। হজ¦যাত্রীদের কাছ থেকে যে ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম ফি নেয়া হয়েছে, সেখানে সে ক্যাটাগরির মোয়াল্লেম সার্ভিসের পরিমাণ কম। তাই বেশকিছু এজেন্সিকে বেশি মূল্য দিয়ে মোয়াল্লেম সার্ভিস নিতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি ও ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করছেন। এদিকে ৪০ দিনের কমে কোন ফিরতি টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদা অনুযায়ী তারিখের টিকিট না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের। অপরদিকে সাধারণ এজেন্সিরা এবছর গতবারের মতো রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে আবাবিল ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস এর স্বত্তাধিকারী মো: আবু ইউসুফ বলেন, বেশকিছু হজ¦যাত্রীরা অসুস্থতা ও মাহরাম না যাওয়ার কারণে হজ্বে যেতে পারেন না। তাদের পরিবর্তে অন্য হজ¦যাত্রীকে যাওয়ার সুবিধা করে দিলে তিন ধরনের উপকার পাওয়া যাবে। এক. নির্ধারিত কোটা পূরণ হবে, দুই. বাড়িভাড়াসহ আনুসাঙ্গিক ব্যয়ের ক্ষতি থেকে এজেন্সিগুলো রক্ষা পাবে, তিন. আগামী বছরের হজ¦যাত্রীর কোটা থেকে চাপ কমবে বলে তিনি মনে করেন।
আজমল ট্রাভেলস এর স্বত্তাধিকারী সাঈদ আহমেদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মাত্র চার শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট দেয়া হয়ে থাকে। তাতে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হয় না। এজন্য গতবারের ন্যায় ১৫ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট দেয়া হলে সকলেই হজ্ব করতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এলিগেন্স ট্রাভেলস এর স্বত্তাধিকারী আমজদা হোসেন বলেন, আমরা সকল হজ¦যাত্রীর বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করেছি। এখন কোন হজ¦যাত্রী যেতে না পারলে বাড়ি খালি থাকবে। এতে করে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এজন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক হজ্বযাত্রীর রিপ্লেসমেন্ট দেয়ার জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান।
এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, হজ্ব ব্যবস্থাপনা এবার কোন ঘাটতি নেই। শুরুর দিকে যাতে ফ্লাইট খালি না যায় এ জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৫ হাজার টিকিট সংগ্রহ করেছে এজেন্সিগুলো। বিশ হাজারের বেশি ভিসা লজমেন্ট হয়েছে।
ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান বলেন, হজ্ব ফ্লাইট যাতে খালি না যায়, এ জন্য এজেন্সিগুলোকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হবে। তথ্য সংগ্রহ করে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, এবার গত বছরের  চেয়ে আরও  বেশি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হজ¦ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ¦যাত্রীদের থাকার জন্য বাড়ি ভাড়া করা হয়েছে।  বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ্বযাত্রীদের পক্ষে অধিকাংশ এজেন্সিও বাড়িভাড়ার কাজ  শেষ করেছে। এ বছর বালাদেশ বিমানের টিকেট পাওয়া সহজ করতে এজেন্সিগুলো সরাসরি বাংলাদেশ বিমান  থেকে হজ¦যাত্রী সমপরিমাণ টিকেট সংগ্রহ করতে পারবে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ