ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

গত রাতে তিন জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চারজন নিহত হয়েছে। 

আজ বুধবার ভোর রাতে কুষ্টিয়া, লক্ষ্মীপুর ও নাটোর জেলায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহতদের মধ্যে তিনজন মাদক ব্যবসায়ী। আরেকজন ডাকাত। এসময় বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছয় সদস্যও আহত হয়েছেন।

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

কুষ্টিয়া:

জেলার মিরপুর উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফুটু ওরফে মোন্না (৩৫) ও রাসেল আহম্মেদ (৩০) নামের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোর রাতে উপজেলার কূর্শা ইউনিয়নের আনন্দবাজার বালুচর সংলগ্ন জোয়াদ্দার ইটভাটার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব জানায়, নিহত ফুটু ওরফে মোন্না মিরপুর উপজেলার রাজারহাট মোড় এলাকার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে। রাসেল আহম্মেদ একই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।

র‌্যাবের দাবি, নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন।

র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মোহাই মিনুল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর রাতে র‌্যাব ওই এলাকায় অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য কর গুলি ছোড়ে। জবাবে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়।

তিনি জানান, এক পর্যায়ে দুইজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই ব্যক্তি তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী।

তিনি দাবি করেন, বন্দুকযুদ্ধে দুই র‌্যাব সদস্য আহত হলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশি পিস্তুল, ১টি দেশি পিস্তুল, ১২ রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতদের ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর:

জেলার রায়পুরে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে পুলিশ ও ‘ডাকাত’ দলের মধ্যে গোলাগুলিতে সুরাইয়া সোহেল নামে যুবক নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বুধবার ভোরে রায়পুর উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের সিংহের পোল এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এ সময় এসআই মোতাহের হোসেন ও গোলাম মোস্তফা নামে দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, ৯ রাউন্ড কার্তুজ ও ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

নিহত সোহেল রায়পুরের উত্তর দেনায়েতপুর গ্রামের মৃত মুনাফের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকের ৬টি মামলাসহ ২২টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

নিহতের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, লক্ষ্মীপুর সদরের ঝুমুর সিনেমা হল এলাকা থেকে ২২টি মামলার আসামি সুরাইয়া সোহেলকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়। পরে রাতে তাকে নিয়ে অভিযানে গেলে তার সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে গুলি চালায়, পুলিশও গুলি চালায়। এ সময় তাদের গুলিতে সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গোলাগুলিতে পুলিশের দুই সদস্যও আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

নাটোর:

জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওসমান গণি (৩২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই র‌্যাব সদস্য। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বাহিমালি এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত ওসমান গনি উপজেলার বনপাড়া পৌর এলাকার গুরুমশইল গ্রামের মৃত মনসুর আলী মুন্সীর ছেলে।

আহতরা হলেন— সহকারী উপ-পরিদর্শক মনজুর আহমেদ ও কনস্টেবল এনামুল হক। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ওসমান গণির মৃতদেহ বর্তমানে বড়াইগ্রাম থানায় রয়েছে।

র‌্যাব-৫, নাটোর সিপিসি-২ এর মেজর শিবলী মোস্তফা  জানান, র‌্যাব-৫, সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্পের একটি টহল দল নিয়মিত ডিউটি পালনকালে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বাহিমালী মোড় হতে ভাটুপাড়া গ্রামে যাওয়ার একশত গজ উত্তরে কাঁচা রাস্তার উপর টর্চের আলো এবং কিছু লোকের আনাগোনা দেখতে পান।

এ সময় তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র‌্যাবের টহলদল ওই স্থানের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

এক পর্যায়ে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু লোক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাদেরকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলে তারা র‌্যাবের টহল দলকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে।

এ সময় টহল দল নিজেদের জানমাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ৫ মিনিট গোলাগুলির পর ঘটনাস্থলে বনপাড়ার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং দলের অপর সদস্যরা পালিয়ে যায়।

আহত অবস্থায় ওসমান গণিকে উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। র‌্যাবের আহত দুই সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ৭.৬২ বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিন, পিস্তলের গুলির একটি খালি খোসা, সাদা পলিথিনের প্যাকেটে ৪১০ গ্রাম হেরোইন, নগদ এক হাজার চারশত দশ টাকা, একটি চার্জার লাইট, দুইটি গ্যাস লাইট, একটি মোবাইল ফোন সেট, সিগারেটের প্যাকেট এবং বিভিন্ন কালারের সাতটি স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার দাস জানান, নিহত ওসমান গণির বিরুদ্ধে নাটোর জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে। জেলার অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ