ঢাকা, বুধবার 11 July 2018, ২৭ আষাঢ় ১৪২৫, ২৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বন্যায় লোহাগাড়ার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রবল বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট চলতি মৌসুমের বন্যায় লোহাগাড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার দৃশ্য

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: প্রবল বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট চলতি মৌসুমের বন্যায় লোহাগাড়ার নিম্নাঞ্চল কয়েকদফায় প্লাবিত হয়েছে। ডলু খালের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।
বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন, খাল ভাঙ্গন ও খাল পার্শ্ববর্তী শতাধিক কাঁচা বসতঘর পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। এ টানা বর্ষণে পুরো উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ভারী বর্ষণ ও ঢলে উপজেলায় অবকাঠামো খাতে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম রাশেদ। লোহাগাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত অর্থবছরে উপজেলার বড়হাতিয়া, চুনতি, কলাউজান, আধুনগর, আমিরাবাদ, পদুয়াসহ ছয়টি ইউনিয়নে ৪ কি.মি এলাকায় চলমান এইচবিবি (হেরিন বুন বুন) ব্রিক সলিন সড়কের জন্য ১ কোটি ৪৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৩৮ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে নির্মিত এ ৪ কি.মি সড়কের উভয় পাশের মাটি সরে গিয়ে ঢলের পানিতে বিলীন হয়ে যায়। ফলে এতে অন্তত ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। গত অর্থবছরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত সদ্য নির্মিত ১২টি কালভার্টের এপ্রোচ সড়ক পানিতে বিলীন হয়ে অন্তত ১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৮০টি অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পের (সড়কে মাটির কাজ) বিপরীতে ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হ। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উক্ত প্রকল্পের মাটির কাজসমূহ তলিয়ে গিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১৬৭টি টি.আর প্রকল্পের বিপরীতে ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক টাকা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এ সব প্রকল্পের কাজ পানিতে তলিয়ে গিয়ে ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। উপজেলার ৪৪টি কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি) প্রকল্পের আওতায় ৪৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এ প্রকল্পের প্রায় সব কাজ পানিতে তলিয়ে যায়।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৯টি কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ১৩৩ মেট্রিক টন চাল (টাকার অংকে ৫২ লক্ষ টাকা) বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব প্রকল্পে সড়ক সংস্কারে মাটির কাজ করা হয়। কিন্তু এ সব প্রকল্পের কাজ পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়াও ৫ মেট্রিক টন চাউলে সদ্য নির্মিত উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ মোস্তফা বাপের পাড়ার দক্ষিণে রাস্তার ভাঙ্গন সংস্কার প্রকল্পটি ডলু নদিতে একেবারে বিলীন হয়ে যায়। এদিকে, উপজেলার চুনতি ইউপি চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন জনু জানান, ডলূ খালের ভাঙ্গনে সাতগড় এলাকায় ৫ বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ