ঢাকা, বুধবার 11 July 2018, ২৭ আষাঢ় ১৪২৫, ২৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শ্যামনগরে পরীক্ষার সময়ে মেলার নামে চলছে লটারী জুয়ার আসর

রফিকুল ইসলাম: সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা। এরই মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নকীপুর জমিদার বাড়ির মাঠে চলছে মাসব্যাপী ঈদ আনন্দ মেলার নামে চলছে রমরমা জুয়ার আসর,সার্কাস ইত্যাদি। মানুষকে নিঃস্ব করতে শুরু করা হয়েছে ”দৈনিক উল্লাস” লাকী কুপণ নামক লটারী। বহু পরীক্ষার্থী ছাত্র/ছাত্রীরা পড়া লেখা ফেলে মত্ত হয়ে পড়ছে জুয়া খেলায়। প্রতিদিন সকাল হতে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত ইজিবাইক নিয়ে লটারী মালিকের কর্মচারীরা চলে যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে।
ওই ইজি বাইকের পিছনে প্রাইভেটকার, ইজিবাইক, টিভি, মোটরসাইকেল, গরু ছবি দিয়ে টানানো হয়েছে রকমারি পুরুস্কারের লোভনীয় ব্যানার। ব্যনারের নীচে লেখা হয়েছে আয়জনেঃ শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব মাইকের মাধ্যমে বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিটি টিকিটের মূল্য ২০ টাকা প্রচার দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে লটারী টিকিট।
বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, প্রেসক্লাবের নাম ভাঙিয়ে বিশেষ চক্র শ্যামনগর সহ কালিগঞ্জ, দেবহাটা, আশাশুনি এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সরল মানুষগুলোকে নিঃস্ব করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। আর এই অনৈতিক কাজের সহযোগিতা করছেন বর্তমান সরকারের স্থানীয় এক জন প্রতিনিধি।
পরীক্ষার সময়ে এমন কান্ডজ্ঞানহীন কাজে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুধী মহল। এলার আনিছউদ্দীন সহ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, ছেলে মেয়েদের পরীক্ষার সময় মেলা, সার্কাস,জুয়া খেলা হয়েছে।  তাতে তারা লেখা পড়া বাদ দিয়ে সেখানে ভীড় করছে। ক্ষতি হচ্ছে  তাদের লেখা-পড়া। কালিগঞ্জ এলাকার জামাল হোসেন সহ কয়েকজন বলেন, সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করতে প্রতি বছরই সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় লটারী কুপণ নামক জুয়ার আসর। অসহায় গরীব মানুষেরা এবং বেকার যুবকেরা এক সাথে বেশি কিছু পাবার আশায় লটারী লাকী কুপন নামক জুয়ার আসরের দিকে ঝুকে পড়ছে। প্রতিদিন তারা সংসারের চাউল কেনা বাদ দিয়ে লটারীর কুপন কেনে। ফলে সংসারে অশান্তির সৃষ্টি হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ