ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আজ দ্বিতীয় টেস্টে ঘুড়ে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : জুনের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব নেন ইংল্যান্ডের সাবেক খেলোয়াড় স্টিভেন রোডস। তার অধীনে নতুন স্বপ্ন নিয়ে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করার ইচ্ছা ছিলো বাংলাদেশের। কিন্তু তা হয়নি। নতুন কোচের অধীনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে নিজেদের প্রথম টেস্ট ম্যাচেই লজ্জার রেকর্ড গড়ে টাইগাররা। প্রথম টেস্টে মাত্র দু’দিন ও এক সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ইনিংস ও ২১৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ দল। শুধুমাত্র হারের ব্যবধানই লজ্জা দিচ্ছে না টাইগারদের। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে রেকর্ড সর্বনি¤œ ৪৩ রানেও গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডজ সফরে আজ দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। আজ থেকে শুরু হওয়া কিংস্টন টেস্টে তাই ঘুড়ে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ভালো করা ছাড়া বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৬টি টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। সবগুলোই দুই ম্যাচের। এরমধ্যে ২০০৯ সালের সফরে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছিলো বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হারে টাইগাররা। এবার এই সফরে ভালো করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম টেস্টেই হার দিয়ে শুরু করতে হয় বাংলাদেশকে। এন্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার কেমার রোচের ৫ উইকেট শিকারে ৪৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এটিই সর্বনি¤œ রান হিসেবে রেকর্ড বইয়ে লিপিবদ্ধ হয়। প্রথম ইনিংসের ভুলগুলো   দ্বিতীয় ইনিংসেও শুধরিয়ে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।  তবে প্রথম ইনিংসের চাইতে কিছুটা হলেও মুখ রক্ষা হয়েছে টাইগারদের। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৪ রান করতে পারে তারা। অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসেও বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়েছিলো বাংলাদেশ। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টে ৬৪ রানের ইনিংস না খেললে এখানেও ১’শর নীচে গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়েছিলো সাকিব আল হাসানের দল। দায়িত্বপূর্ণ হাফ-সেঞ্চুরিতে দলকে আরও লজ্জার হার থেকে তো রক্ষা করেছেনই, তার উপর হারের ব্যবধানও কমিয়েছেন সোহান। বোলিং-ও যুতসই হয়নি। তাই প্রথম ইনিংসে ৪০৬ রানের বড় সংগ্রহ দাড় করাতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সব মিলিয়ে  পুরো টেস্টে যাচ্ছেতাই খেলেছে বাংলাদেশ। অবশ্য প্রথম টেস্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে দ্বিতীয় টেস্টে ভালো করার কথা জানান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।  ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি বলেন,‘প্রথম টেস্টে আমরা ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই পিছিয়ে ছিলাম। ফলে ম্যাচে লড়াই করাটা আমাদের জন্য কঠিনই ছিলো। আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে তিন বিভাগেই হেরে গেছি আমরা। এই কন্ডিশনের মানিয়ে নেয়া কঠিন হবে, জানতাম। পরের টেস্টের জন্য নিজেদের ভালোভাবে প্রস্তুত হতে হবে। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে আমাদের।’ প্রথম টেস্ট বাজেভাবে হেরে অনুতপ্ত সাকিব। তার পথেই হাঁটলেন দলের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। এমন হারের কোন প্রকার অজুহাত দেখাননি  তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তামিম বলেন,‘আমাদের শেষ টেস্ট ম্যাচটি আপনাদের জন্য যেমন বিস্ময়ের ছিলো, আমাদের জন্যও তাই ছিলো। আমরা এর চেয়ে অনেক ভালো দল। যে ধরনের পারফরমেন্স করেছি, তা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন দলের ভেতর যে আবহ আছে, আমরা কোনভাবেই অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করছি না। আমরা আশা করছি, পরের টেস্টে ভালো কিছু করবো।’ বাজেভাবে এন্টিগা টেস্ট হারলে সেখান থেকে আত্মবিশ্বাস খোঁজার চেষ্টা করলেন তামিম,‘আমাদের দলের সবার জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো, বিশ্বাসটা ধরে রাখা যে- আমরা ভালো খেলতে পারি। বিশ্বাস করতে হবে যে, আমরা বড় স্কোর গড়তে পারি। শেষ টেস্ট ম্যাচে সোহান  যেভাবে ব্যাট করেছে, লোয়ার-অর্ডার যেভাবে করেছে সেটি ভালো ছিলো। আর এটাই প্রমান করে যে, উইকেটে সময় কাটাতে পারলে উইকেট যতই কঠিন হোক না কেন রান করা যায়। আশা করি, জ্যামাইকায় আপনারা ভালো টেস্ট দেখবেন বা আমরা ভালো ম্যাচ উপহার দেয়ার চেষ্টা করবো।’ প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ভালো করলেও আজ থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ  কোর্টনি ওয়ালশ। কারণ দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু জ্যামাইকায় বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে কোর্টনি ওয়ালশের। এই শহরে খেলে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন ওয়ালশ। এই মাঠের একটি প্রান্তের নামকরণ করা হয়েছে ওয়ালশের নামে। এই মাঠে খেলতে খেলতেই তারকা পেসার হয়েছেন। তাই মাঠের সবকিছু তার চেনা। অ্যান্টিগার দুঃস্বপ্ন ভুলতে জ্যামাইকায় কোর্টনি ওয়ালশের অভিজ্ঞতা কাজে  দেবে। এমন বিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে টাইগাররা। বাংলাদেশ দল তাদের বোলিং কোচের বেড়ে ওঠার শহরে প্রথমদিনের মতো অনুশীলন শেষ করেছে। অনুশীলন শেষে বোলিং কোচ জানালেন, তার ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়াবে বলেই বিশ্বাস। তিনি আরও মনে করেন, অ্যান্টিগার মতো সবুজ উইকেট হবে জ্যামাইকাতেও। তিনি বলেন,‘জ্যামাইকাতেও অ্যান্টিগার মতো উইকেট আশা করছি। এই মুহূর্তে নিজের জন্মস্থানে ফিরে ভালো লাগছে। টেস্ট ম্যাচটির জন্য মুখিয়ে আছি। এখানেও আশা করছি উইকেটে ঘাস থাকবে, বাউন্স থাকবে।’ অ্যান্টিগাতে ব্যাটসম্যানদের দুই ইনিংসের ব্যর্থতার পর ইনিংস ব্যবধানে হার মানতে হয় বাংলাদেশকে। মাত্র আড়াই দিনেরও কম সময়ে বাংলাদেশ হেরে গেছে। অ্যান্টিগা টেস্টের এই দুঃস্বপ্ন জ্যামাইকাতে ভোলার সুযোগ সাকিবদের সামনে। ওয়ালশের আশা তার শিষ্যরা এখানে ভালো করবে, ‘প্রথম টেস্টে আমরা প্রত্যাশা মতো ভালো করিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব ভালো খেলেছে তাই জিতেছে। এখানে আরও একটি টেস্ট শুরু হবে এবং এটা নতুনভাবে শুরু হবে। আমাদের সুযোগ আছে ঘুরে দাঁড়ানোর। আশা করি, আমরা আমাদের সাধ্যমতো খেলার চেষ্টা করব। আশা করি আগের চেয়ে ভালো খেলতে পারব। এমন কন্ডিশনে এটি বড় এক পরীক্ষা। সবাই জানে দেশের বাইরে আমাদের রেকর্ড ভালো নয়। আমরা সেই জায়গাগুলো ভালো করার চেষ্টা করব।’ অ্যান্টিগায় পেসারদের জন্য মনের মতো উইকেট থাকার পরও রুবেল-রাব্বি-রাহীরা উইকেট থেকে সুবিধা আদায় করতে পারেননি। ওয়ালশের আশা জ্যামাইকাতে তার দলের পেসাররা উইকেটের সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে, ‘আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে। ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করতে হবে। আমাদের ফাস্ট বোলারদের আরও একটি ভালো সুযোগ আসছে। স্যাবাইনা পার্কে কীভাবে বল করতে হয়  সেই সম্পর্কে ছেলেদের ধারনা দেব। আশা করি এখানে  পেসাররা তাদের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে পারবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ