ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বন্দুকযুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে নিহত ৬

সংগ্রাম ডেস্ক : দেশের কয়েকটি স্থানে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৬ মাদক ব্যবসায়ী নিহত ও ২ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর চারঘাটে একজন, কুষ্টিয়ার মিরপুরে দু’জন নিহত ও দুজন আহত, নাটোরের বড়াইগ্রামে একজন এবং যশোরের চৌগাছায় একজন নিহত হয়েছেন বলে আমাদের সংবাদদাতারা জানান।
রাজশাহী অফিস : রাজশাহীর চারঘাটে পুলিশের গুলীতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন মাদক বিক্রেতা আবদুল মালেকের মৃত্যু হয়েছে। আবদুল মালেক চারঘাট উপজেলার মুক্তারপুর দফাদারপাড়া গ্রামের মিনসার আলীর ছেলে।
বুধবার  ভোরে রাজশাহী  মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এরআগে ৬ জুলাই শুক্রবার দিনগত রাতে ফেনসিডিল চোরাচালানের সময় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের গুলীতে তিনি আহত হন। জেলা ডিবি পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রাতে ফেনসিডিল চোরাচালানের খবর পেয়ে তারা মুক্তারপুর এলাকায় অভিযানে গিয়েছিলেন। তখন কয়েকজন মাদক বিক্রেতা রামদা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলী করলে মালেক গুলীবিদ্ধ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১২০ বোতল ফেনসিডিল ও তিনটি রামদা উদ্ধার করা হয়। আর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে ১১ মামলার আসামী আবদুল মালেককে রাজাশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রামেক হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতেই তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে মালেক মারা যান।
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা ঃ কুষ্টিয়ার মিরপুরে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে" মাদক ব্যবসায়ী ফুটু ওরফে মোন্না (৩৫) ও রাসেল আহম্মেদ (৩০) নামের দুইজন নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের দাবি এ ঘটনায় তাদের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অস্ত্র, গুলী ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। বুধবার ভোর রাতে মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের আনান্দ বাজার বালুচর সংলগ্ন জোয়াদ্দারের ইটভাটার কাছে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।
র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মোহাই মিনুল জানান, মাদক দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে একদল মাদক ব্যবসায়ী মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের আনান্দ বাজার বালুচর সংলগ্ন জোয়াদ্দারের ইটভাটার কাছে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে কুষ্টিয়া র‌্যাব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতিটের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য কর গুলী ছোড়ে। জবাবে র‌্যাবও পাল্টা গুলী চালালে ‘বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে দুই জন গুলীবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় অন্য সব মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
র‌্যাব জানতে পারে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই ব্যক্তি তালিকা ভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ র‌্যাব সদস্য আহত হলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশী নাইম এমএম পিস্তল, ১টি দেশী ওয়ান শুটারগান, ২টি কার্তুজ, ১২ রাউন্ড গুলী ও ৪০ লিটার চোলাই মদ, ১৫০০ পিচ ইয়াবা ও ২৩০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ফুটু ওরফে মোন্না রাজারহাট মোড় এলাকার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে ও রাসেল আহম্মেদ একই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে। র‌্যাব দুই মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা : নাটোরের বড়াইগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ওসমান গণি মিয়াজী (৩৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের দাবি, নিহত ওসমান গণি মাদক বিক্রেতা। তার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। নিহত ওসমান উপজেলার গুরুমশৈল গ্রামের মৃত মনসুর আলী মিয়াজীর ছেলে। এ ঘটনায় র‌্যাবের এএসআই মনজুর আহমেদ ও কনস্টেবল এনামুল হক আহত হয়েছেন বলে র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় উপজেলার বাহিমালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৭.৬২ বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলী ভর্তি ম্যাগাজিন, পিস্তলের গুলীর খালি, সাদা পলিথিনের প্যাকেটে রাখা ৪১০ গ্রাম হেরোইন, নগদ এক হাজার ৪১০ টাকা, চার্জার লাইট, দুটি গ্যাসলাইট, মোবাইল ফোন, দুটি সিগারেটের প্যাকেট এবং বিভিন্ন কালারের সাতটি স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব-৫ এর নাটোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর শিবলী মোস্তফা জানান, রাতে র‌্যাবের একটি টিম ডিউটি পালনকালে বাহিমালি ও ভাটোপাড়ার মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় কিছু লোকের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে সেখানে যায়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হলে তারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলী ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলী চালায়। পরে ঘটনাস্থলে অজ্ঞাতনামা একজনকে আহতাবস্থায় পড়ে থাকলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে আহত যুবককে উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত র‌্যাব সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
পরে বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস নিহত যুবকের নাম ওসমান গণি বলে নিশ্চিত করে জানান, নিহত ওসমান গণির বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। সকালে লাশটি পোষ্টমর্টেমের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের মণিরামপুরে অজ্ঞাত এক যুবকের (২৬) গুলীবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়েছে। দুই দল ডাকাতের মধ্যে কথিত গোলাগুলীর কারণে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
বুধবার ভোর ছয়টার দিকে থানা পুলিশ যশোর-রাজগঞ্জ সড়কের গাঙ্গুলিয়া জামতলা-সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপর থেকে লাশটি উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তার পরনে নেভি ব্লু জিন্সের প্যান্ট ও একই রঙের গেনজি এবং কোমরের ওপর একটি গামছা রয়েছে। গুলীতে লাশের মাথার খুলি উড়ে গেছে।
পুলিশ পড়ে থাকা লাশের ডান হাতের ওপর থেকে একটি পাইপগান, একজোড়া চামড়ার স্যান্ডেল এবং মাঠের মধ্য থেকে একটি মাফলার উদ্ধারের দাবি করেছে।
মণিরামপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই তোবারক আলী বলেন, ‘ভোর পৌনে চারটার দিকে গোলাগুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দেয়। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে পাকা রাস্তার ওপর গুলীবিদ্ধ একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ওইসময় ঘটনাস্থলে অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি।’
এসআই তোবারক বলেন,ওই স্থানে মাসখানেক আগে বাস ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দল ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলীতে ওই যুবক নিহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গাঙ্গুলিয়ার পল্লী চিকিৎসক মশিয়ার রহমান ভোর পাঁচটার দিকে রোগী দেখে ফেরার পথে রাস্তার ওপর লাশটি পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলছেন, ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে খেদাপাড়া ক্যাম্পের আইসি এসআই আইনুদ্দিন খবর পান যে, একটি লাশ পড়ে আছে। এর পর লাশটি উদ্ধার করা হয়। দুই দল ডাকাত বা সন্ত্রাসীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ওই যুবক মারা গেছেন বলে মনে করছেন ওসি।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা : ঢাকার কেরানীগঞ্জের দেওশুর এলাকায় ডিবি পুলিশের সাথে কথিত বন্দুক যুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নুর হোসেন (৩৬) ওরফে নুরা নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তবে আহতদের নাম জানা যায়নি।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায় কুখ্যাত অস্ত্রধারী খুনি ও মাদক সম্রাট মো: নুর হোসেন ওরফে নুরাকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নুর হোসেনের দেওয়া তথ্য মতে অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য উদ্ধারের জন্য ওই দিন দিবাগত গভীর রাতে নুর হোসেনকে সাথে নিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার দেওশুর এলাকায় জনৈক মনির হাজীর বালুর মাঠে যাওয়া হয়। এসময় নুর হোসেনের অপরাপর সহযোগীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী করতে থাকে। এতে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে ১০রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলী করে। এসময় সন্ত্রাসীদের সাথে পুলিশের গুলী বিনিময়কালে আসামী ও মাদক স¤্রাট নুর হোসেন এক পর্যায়ে পালানোর সময় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের গুলীতে গুলীবিদ্ধ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নুর হোসেনের নামে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ডাকাতি, খুন, ও মাদকের ২১টি মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। নিহত নুর হোসেন নুরার বাবার নাম মোঃ নুর ইসলাম। তার বাড়ি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিয়ানগর এলাকায় । ঢাকা দক্ষিণ ডিবি পুলিশের ওসি মো: শাহজামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত নুর হোসেন কেরানীগঞ্জের শীর্ষ তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ঢাকা জেলায় ডাকাতি, খুন ও মাদকের ২১টি মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায়ও একাধিক মামলা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ