ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়াই ক্ষমতাসীন আ’লীগের টার্গেট

গতকাল বুধবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের টার্গেট একটাই। সেটি হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া। এজন্য তারা বেগম জিয়াকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে। তাকে চিকিৎসা পর্যন্ত করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে তার আত্মীয়-স্বজনদের পর্যন্ত দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। এসব করে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। এজন্য তাদের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। গতকাল বুধবার সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ১১দিন যাবত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধব কারো সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। আত্মীয়-স্বজনরা  কয়েকদফা চেষ্টা করেও তার সাথে দেখা করতে পারেননি, আমরাও দেখা করতে পারিনি, আইনজীবীররা দেখা করতে পারেননি। আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করবার একজন কারাবন্দীর সাংবিধানিক অধিকার। জেল কোড-২০০৬ অনুয়ায়ী দেশনেত্রীকে তার সম্পূর্ণ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সেটা করে তারা প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন, সংবিধান লঙ্ঘন করছেন।
গত ৩০ জুন আত্মীয়-স্বজনরা সর্বশেষ পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেখা-সাক্ষাতের ব্যাপারে জেল সুপারকে বলা হলে তিনি বলেন আইজি প্রিজনের কথা। আইজি প্রিজনকে বললে তিনি বলেন মন্ত্রীকে বলেন। মন্ত্রীর কাছে গেলে তিনি বলেন এক নম্বরের সম্মতি ছাড়া আমার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। আমি নিশ্চয় আপনাদের (গণমাধ্যম সাংবাদিক) বুঝাতে পেরেছি। এখানে সম্পূর্ণভাবে কারাবিধি লঙ্ঘন করে যেখানে জেল সুপার ইজ দ্যা ফাইনাল অথোরিটি, সেই লঙ্ঘন করে আজকে  তাকে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়ার জন্য আমাদের যদি সরকারের প্রধান ব্যক্তির কাছে যেতে হয় তাহলে তো এদেশে আর কিছু অবশিষ্ট নেই।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের সাজায় খালেদা জিয়া কারাগারে ডিভিশন-১  বন্দী হিসেবে কারাবিধিতে সাক্ষাৎপ্রার্থীর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যে মামলায় সাজায় ছিলেন, সেই মামলায় উনি জামিনে আছেন। সেই মামলায় তিনি আর কারাবন্দী নন। তিনি এখন অন্যান্য যেসব মামলা আছে যেগুলো আন্ডার ট্রায়াল বিচার হয়নি সেসব মামলায় বন্দী রয়েছেন। সে হিসেবে কারাবিধি অনুযায়ী তার রাজনৈতিক সহকর্মীসহ বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজনদের  সাক্ষাৎ করার কথা লেখা আছে।
সেখানে বলা আছে -সাপ্তাহে একদিন করে মাসে চারদিন দেখা করতে দিতে হবে এবং প্রয়োজনে জেল সুপার যদি মনে করেন আরো বেশি দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন,  দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মামলার ফাঁদ পাতা ছিলো, সেই মামলার ফাঁদে তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। তাকে সম্পূর্ণ পৃথক করে, অন্যান্য সাধারণ মামলায় যে ধরনের বিচার প্রক্রিয়া চলে সেগুলোকে লঙ্ঘন করে তার জন্য আলাদা আদালত গঠন করে অতিদ্রুততার সাথে সাজা দেয়া হয়েছে।
উদ্দেশ্য একটাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া, নির্বাচনে উনি যেন অংশগ্রহণ না করতে পারেন তার ব্যবস্থা করা। দেশে এক দানবীয় শাসন চলছে তার যে ভয়াবহতা চলে তার প্রথম ভিকটিম হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাকে নির্মূল করতে পারলে, তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে পারলে তাদের পথের কাঁটা একেবারে দূর হয়ে গেলো। সেটা কোনো দিন সম্ভব নয়, হবে না।
তিনি বলেন, আমি আবারো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন। তাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। তার স্বাস্থ্যের কথা আমরা বহুবার বলেছি। তাকে চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার কথা সেখানে তারা(কারা কর্তৃপক্ষ) নিচ্ছেন না। এখন কোনো চিকিৎসককেও তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।
আশঙ্কা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রীকে চিকিৎসা না দেয়ার উদ্দেশ্যটা কী। একটা নির্জন কারাবাসে রেখে তাকে কি আপনারা শেষ করে দিতে চান। ইতিহাস তো আপানাদের ক্ষমা করবে না। আবার বলতে চাই, তার সুচিৎিসার জন্য মুক্তি দিয়ে দেশে একটি পরিবেশ  তৈরি করুন যাতে মানুষ গণতন্ত্রে ফিরে আসতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা যেটা আশঙ্কা করছি যে, দেশনেত্রীকে প্রকৃতপক্ষে এক হচ্ছে রাজনীতি  থেকে ও দুই নির্বাচন থেকে এবং সর্বশেষ তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে কিনা সেটাই আমাদের এখন আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা যা উচ্চ আদালতে খারিজ হয়েছিলো তা পুনরায় সচল করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগও করেন বিএনপি মহাসচিব।
সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দানব সরকার জাতির কাঁধে চেপে বসেছে। এদের সরানোর কোনো বিকল্প নেই। আমি সরকারকে বলবো এখনো সময় আছে। সবার সাথে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। তা নাহলে জনগণ যখন জেগে উঠবে তখন সেই বিষ্ফোরণ আপনারা ঠেকাতে পারবেন না। তখন আপনাদের কি করুণ অবস্থা হয় সেটি ভেবে দেখুন। তিনি বলেন, আমি আশা করবো সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।
নিন্দা ও প্রতিবাদ: দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বখতিয়ার আহমেদ কচি এবং বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সভাপতি খান মতিউর রহমানকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সারাদেশে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের ও কারান্তরীণ করতে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী মরিয়া হয়ে উঠেছে। চিরকাল রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে রাখতেই সরকার গুম, খুন, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের পাশাপাশি বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের নাজেহাল ও ঘায়েল করতে মিথ্যা মামলা দায়ের ও কারান্তরীণ রাখার মতো অপকর্ম সংঘটনে এখন বেপরোয়া। দিনাজপুর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক বখতিয়ার আহমেদ কচি এবং বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ও স্মরণখোলা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি খান মতিউর রহমানকে গ্রেফতারের ঘটনা বর্তমান সরকারের চলমান দু:শাসনেরই আরো একটি চিত্র। সরকারের সকল অপকর্ম ও অপশাসন রুখে দিতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। আমি অবিলম্বে দিনাজপুর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক বখতিয়ার আহমেদ কচি এবং বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ও স্মরণখোলা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি খান মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ