ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন কমিশন প্রাণহীন পাথরের মতো নির্বিকার -বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: বরিশালে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রাণহীন পাথর এর মতো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, বরিশালে একদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর মিছিল সারা মহানগর অবাধে প্রদক্ষিণ করছে। অন্যদিকে  ধানের শীষের মেয়র পদে প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ার প্রচার মিছিল বের করলে সেই মিছিলে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ঘোর বিরোধী নির্বাচন কমিশন প্রাণহীন পাথরের মতো নির্বিকার বসে আছে। তাদের কাছে বিরোধী দলের প্রার্থীর অভিযোগের কোনো মূল্য নেই। এর আগে খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচনে ন্যক্কারজনক ভোট ডাকাতি ও ভোট সন্ত্রাসের নজির সৃষ্টি করা হলেও সেখানে কত বেহায়ার মতো নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে বলেছেন। এদের কাছে অভিযোগের কী বা মূল্য আছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে গাড়িতে ফ্ল্যাগ উড়িয়ে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ সার্কিট হাউজে ও বরিশাল ক্লাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দীর প্রতিবাদে ছাত্র দল ও যুব দলের ৬ তরুণ চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে পদযাত্রা করে ঢাকায় আসার কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই অন্ধকার ও নিরাশার মধ্যেও আমরা দেখি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অভিনব কৌশল নিয়ে ৬ তরুণ চট্টগ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকায় এই কার্যালয়ে এসেছেন। এখান থেকে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) কারাগারের ফটকের কাছে যাবেন যেখানে আমাদের নেত্রী বন্দী রয়েছেন।
এই পায়ে হেঁটে আসার মধ্য দিয়ে গোটা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে তারা যে প্রাণ চাঞ্চল্য ও উদ্দিপ্ত করেছেন তা সত্যিকার অর্থেই আমাদের সামনের আন্দোলনকে বেগবান করবে। এরা হলেন চট্টগ্রাম ছাত্রদলের শহিদুজ্জামান, আজিমউদ্দিন, সোহেল মাল্টু, যুব দলের শফিউল আলম রানা, কুমিল্লা ছাত্রদলের সাদ্দাম হোসেন মজুমদার ও সোহেল রানা।
গত ২৯ জুন থেকে ঢাকা মহানগর উত্তরের হুমায়ুন কবিরের নিখোঁজ হওয়া, দিনাজপুর জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক বখতিয়ার আহমেদ কচি ও বাগেরহাট জেলা যুগ্ম সম্পাদ খান মতিউর রহমান ও লক্ষীপুর যুব দলের সভাপতি রেজাউল করিম লিটনের গ্রেপ্তার, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার জামিন হওয়ার পর পুনরায় জেলগ্ট থেকে গ্রেপ্তারের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করেছেন রিজভী।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশ এক ভয়াবহ আতঙ্কের দ্বীপে পরিণত হয়েছে। হাড় হিম করা এক ভয়াল আতঙ্ক সাধারণ মানুষকে সারাক্ষণ তাড়া করে ফিরছে। গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদ জলাঞ্জলি দিয়ে বীভৎস  স্বৈরাচার ও দুর্নীতি আধিপত্য বিস্তার করেছে। সন্ত্রাসের নির্মাণ ও বিপণনে যারা পারঙ্গম তাদের শাসনে জনমনে চাপা আতঙ্কই বিরাজ করে। দুর্নীতি-লুটপাটে সারাদেশ লন্ডভন্ড। এই অনাচার টিকিয়ে রাখতেই বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও অদৃশ্য করে দেয়ার অমানবিক ও নিষ্ঠুর খেলায় নিজেদেরকে ব্যাপৃত রেখেছে। বাংলাদেশ এখন দুঃস্বপ্নের দেশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ