ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 July 2018, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর বিকল্প নেই -শিবির সভাপতি

গতকাল বুধবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত -সংগ্রাম

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হুমকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। যা ইতিমধ্যেই এক ভয়াবহ সমস্যায় রুপ নিয়েছে। শুধুমাত্র গাছ লাগানোর মাধ্যমে এই বিপর্যয় অনেকটা রোধ করা সম্ভব। পরিবেশের ক্ষতিকর দিক থেকে রক্ষা পেতে এবং সবুজ-শ্যামলীময় করে তুলতে বেশী করে গাছ লাগাতে হবে। এতে করে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশ আর্থিক ভাবেও লাভবান হবে। প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর বিকল্প নেই।
গতকাল বুধবার রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০১৮’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ৯টায় গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের মাধ্যমে সপ্তাহ ব্যাপি এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক আব্দুল জলিল আকন্দ, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য জামিল মাহমুদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি আজিজুল ইসলাম সজীব সহ কেন্দ্র ও মহানগরীর বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি সফল করার আহবান জানিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, একটি দেশের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বনাঞ্চল খুবই জরুরী। কিন্তু দেশের বনাঞ্চলের পরিমান মাত্র ১৭%। যেখানে দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার। তার উপর জাতির অমূল্য সম্পদ সুন্দরবনকে পরিকল্পিত ভাবে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে। সরকার দলীয় লোকদের কর্তৃক অব্যাহতভাবে বনাঞ্চল দখল ও নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের ফলে প্রতিদিনই অবশিষ্ট বনাঞ্চল কমে যাচ্ছে। বনাঞ্চল কমছে সারা বিশ্বেই। ফলে সারা বিশ্বেই পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। আরো বিপদজনক বিষয় হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব দেশ পরিবেশগত ভাবে হুমকির মুখে আছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এরপরেও এদিকটায় সরকার তেমন নজর দিচ্ছে না। প্রতিনিয়ত যে হারে গাছ কাটা হচ্ছে সে হারে গাছ লাগানো হচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশকে প্রতিবছরই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করতে হয়। এসব প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বেশী করে গাছ লাগাতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশটা আমাদের সকলের। ক্ষতির সম্মুখ্যিন আমরা সবাই। তাই দেশকে রক্ষা করতে হবে সকলে মিলে। ছাত্রশিবির শত প্রতিকূলতা মধ্যেও জাতীয় দায়িত্ববোধ কখনোই ভূলে যায়নি। ছাত্রশিবির বিভিন্ন সময়ে গরীব ও অদম্য মেধাবীদের সহায়তা, মেধাবী ছাত্রদের সংবর্ধনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শীতবস্ত্র বিতরণ, পথ শিশুদের পাশে থাকা এবং পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগনোসহ বিভিন্ন প্রকার সমাজ কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও দু:খজনক ভাবে এসব কল্যাণমূলক কাজ করতে গিয়ে ছাত্রশিবিরকে বরাবরই সরকার সৃষ্ট প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি এবং রাখব ইনশাআল্লাহ। আমরা সরকারসহ দেশের আপামর ছাত্রজনতাকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে ছাত্রশিবিরের গঠনমূলক কাজে সহযোগিতা করার আহবান জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত সপ্তাহ ব্যাপি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হবে। বিশেষ করে ১৩ জুলাই সকাল ১০টায় সারাদেশে একযোগে ১ লক্ষ গাছের চারা রোপনের ঘোষণা করা হয়েছে। সার্বিক ভাবে কর্মসূচি সফল করতে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, র‌্যালি, বৃক্ষরোপন (প্রত্যেক জনশক্তি একটি করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপন করবে), গাছর চারা বিতরণ (প্রত্যেক জনশক্তি ২টি করে গাছের চারা বিতরণ করবে), বৃক্ষ নিধন রোধে জনসচেতনতা তৈরি, ছাত্র ও জনসাধারণকে বৃক্ষ রোপণে উদ্বুদ্ধকরণ, স্কুল ছাত্রদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও স্টিকার লাগানো। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ